আব্দুর রশিদ
প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০২৫ ২২:৫৯ পিএম
গত কয়েকদিন ধরে সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠছে। তবে প্রতিবছরই সিলেটবাসীকে বন্যার কবলে পড়তে হয়। এতে বহু মানুষের জীবন ও জীবিকা বিপন্ন হচ্ছে। সিলেটের প্রায় প্রতিটি উপজেলা প্রতিবছরই বন্যার কবলে পড়ে থাকে। এর মধ্যে সীমান্তবর্তী উপজেলা জকিগঞ্জ উল্লেখযোগ্য। উপজেলার তিন দিক নদী দ্বারা বেষ্টিত। প্রতিবছর পাহাড়ি ঢল নেমে নদীগুলোর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং বিভিন্ন জায়গায় বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে। সৃষ্ট এই বন্যা প্রতিবছরই মহামারি আকার ধারণ করে। তলিয়ে যায় ফসলের ক্ষেত, মানুষের ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট। এতে মানুষের জানমালের ক্ষতির পাশাপাশি রাস্তাঘাট ভেঙে যাচ্ছে।
সিলেটের এ বন্যা সমস্যা সমাধানের জন্য দীর্ঘস্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এজন্য নদীর বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি খাল খননের বিকল্প নেই। জকিগঞ্জ উপজেলার পুরনো ঐতিহ্যবাহী খালগুলো দীর্ঘদিন থেকে খননের অভাবে ভরাট হয়ে যাচ্ছে এবং পানির ধারণক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। এর মধ্যে সেনাপতি খাল, কাটাখাল, মছন্দ খাল, খড়াই খাল, সদর খাল, ডেমি খাল ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এসব খালের নাব্যতা বৃদ্ধি করে বন্যার পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এ ছাড়াও খাল খনন করে নতুন নতুন জলাধার সৃষ্টি করা যেতে পারে, যা শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির জোগান নিশ্চিত করবে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে খাল খননের কাজ শুরু করা উচিত। এটি শুষ্ক মৌসুমেই করা সম্ভব। স্থানীয় জনসাধারণকেও এই কাজে সহযোগিতা করতে উৎসাহিত করতে হবে। এই আপদকালীন সময়ে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ করছি।