× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

চিরুনি অভিযান

অপরাধ নিয়ন্ত্রণে চাই কার্যকর পদক্ষেপ

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২৫ ১৮:৪২ পিএম

অপরাধ নিয়ন্ত্রণে চাই কার্যকর পদক্ষেপ

সারা দেশে ফের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মব বা দলগত বিশৃঙ্খলা, বিভিন্ন স্থানে হামলা, চাঁদাবাজি, খুন-ধর্ষণের মতো ঘটনাগুলো অন্তর্বর্তী সরকারকে চাপের মধ্যে ফেলেছে। কখনও-বা সামাজিকমাধ্যমে পূর্বঘোষণা দিয়ে এসব অপরাধ করছে দুর্বৃত্তরা। সরকারের চেষ্টা ও নানা পদক্ষেপেও কার্যকর সফলতা আসছে না। সর্বশেষ সারা দেশে ‘চিরুনি অভিযান’ শুরু করেছে সরকার। অপারেশন ডেভিল হান্টের পর শুরু হলো এই অভিযান। অভিযানে সকল মেট্রোপলিটন, জেলা ও উপজেলায় ভিন্ন ভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এজন্য পুলিশ সদর দপ্তর থেকে বিশেষ নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। এই অভিযানে পুলিশের সহায়ক সেনাবাহিনী। 

জানা গেছে, বিগত সময়ে খুন, চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, অপহরণ, নারী নির্যাতন, মব সহিংসতাসহ সব ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে গিয়েছিল। এসবের বিরুদ্ধে গত ৮ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে শুরু হয়েছিল অপারেশন ডেভিল হান্ট। যৌথ বাহিনীর এই অভিযানে নানা অপরাধে ১১ হাজার ৮৮২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরিস্থিতির আবারও অবনতি ঘটায় ১৩ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কোর কমিটির বৈঠকে এই চিরুনি অভিযানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশেষ করে রাজধানীর মিটফোর্ডের নৃশংস হত্যাকাণ্ডসহ কয়েকটি ঘটনায় সরকারের সর্বোচ্চ মহলকে ভাবিয়ে তুলেছে। এসব অপরাধের বিরুদ্ধে আইনগত ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্যই এই অভিযান। ১৪ জুলাই প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ ‘ডেভিল হান্টের পর এবার শুরু চিরুনি অভিযান’ শীর্ষক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই সংবাদটি।

‘দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন’Ñ প্রবাদটি সমাজে ন্যায়বিচার এবং সুশাসনের গুরুত্ব বহন করে। এর অর্থ হলো দুষ্ট বা খারাপ লোকদের দমন করা এবং ভালো বা ন্যায়পরায়ণ লোকদের রক্ষা করা। এটি যেকোনো সমাজের শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য অপরিহার্য। আর এটি নিশ্চিতের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। উল্লিখিত অপরাধগুলোর ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার প্রশ্রয় না দিলেও দুঃখজনকভাবে দিন দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। বেড়েছে মব সন্ত্রাসের সংখ্যা, বিশেষত গণপিটুনির মাধ্যমে মানুষ হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে। এ ছাড়া ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগেও গণপিটুনির ঘটনা ঘটছে। প্রতিটি ঘটনায় থানায় মামলা হলেও সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিতের ঘটনা খুবই কম। অভিযোগ রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মমাফিক কার্যক্রমের বাইরে কিছু করছে না। অথচ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবির পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যরাও নিয়োজিত আছেন। 

অভিযান যে নামেই ডাকা হোক, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্র তথা সরকারের। আর রাষ্ট্রের এই দায়িত্বটি পালন করে আদালত ও নিরাপত্তা বাহিনী। আর জননিরাপত্তার মূল দায়িত্বটি পালন করে পুলিশ। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার জননিরাপত্তার সকল ‘স্তম্ভ’ তাদের দলীয় কাজে ব্যবহার করে ধ্বংস করে ফেলেছে। বিশেষ করে পুলিশকে দলীয় কর্মীর মতো ব্যবহার করে জনগণের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে পুলিশের ওপর ছাত্র-জনতার ক্ষোভ ও প্রতিবাদ তার দৃষ্টান্ত। ফলে সরকার এখন সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে পুলিশ বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে। মাঠে তাদের সরব উপস্থিতি না থাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়েছে। আবার সক্রিয়দের একাংশকে নানা সময়ে হামলার শিকার হতে দেখা গেছে। ফলে সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় সার্বিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে তোলা। এমন পরিস্থিতিতে পুলিশকে আরও মনোযোগী হয়ে অপরাধ দমনে বিশেষ ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন। কিন্তু সরকার এখনও পুলিশের নিরাপত্তা পুরোপুরি নিশ্চিত করতে পারেনি। পুলিশের একটি অংশ এখনও কাজে যোগ দেননি। ফলে জনগণের নিরাপত্তা আরও হুমকির মুখে পড়েছে। 

এ কথা স্বীকার করতে হবে, বিগত সরকারের পতন থেকে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন পর্যন্ত দেশে একটা শাসনতান্ত্রিক শূন্যতা ছিল। সেই শূন্যতার প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনমন ঘটতে দেখা গেছে। তবে প্রত্যাশা ছিল নতুন সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় পদক্ষেপ নেবে, যার প্রভাব দৃশ্যমান হবে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজপথে নানা দাবিতে প্রতিবাদ-বিক্ষোভের যেন শেষ নেই। এসব সামলানোর পাশাপাশি নামে-বেনামে বিভিন্ন সংগঠনের অহেতুক হস্তক্ষেপে কাজ করতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতার বিষয়টিও।

আমরা মনে করি, সর্বপ্রথম পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে শক্তিশালী করতে হবে এবং তাদের মনোবল ফিরিয়ে আনতে হবে। প্রয়োজনে সরকার পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিয়োগ দিয়ে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। পুলিশ জনগণের বন্ধুÑ এই বিশ্বাসটি আক্ষরিক অর্থেই প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। দেশের পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অসাধু কর্মকাণ্ড ও সর্বশেষ পতিত সরকারের টিকে থাকায় সহযোগিতা করায় মানুষের সেই বিশ্বাস হারিয়েছে। তবে সেই বিশ্বাস অর্জন করতে হলে তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের বিকল্প নেই। জননিরাপত্তায় এখন সেনাবাহিনী মাঠে কাজ করছে। কিন্তু সেটা কত দিন? অনন্তকাল তো হতে পারে না! তাদেরও নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই অন্তর্বর্তী সরকারকে, বিশেষত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অত্যন্ত দক্ষতা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে এসব ঘটনা মোকাবিলা করতে হবে, যাতে জনভীতি দূর হয়, সেই সঙ্গে পরিস্থিতির উন্নতি হয়। এ ধরনের অপরাধ বন্ধ হওয়া জরুরি। আশা করি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সব ধরনের অপরাধ নিরসনে আরও দায়িত্বশীল হবেন। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে চাই কার্যকর পদক্ষেপ। সরকারের চিরুনি অভিযান সফল হোক। কিন্তু অভিযানে যে কোন নিরাপরাধ মানুষ হয়রানির শিকার না হন- এটাই প্রত্যাশা।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা