× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সীমান্তে হত্যা

বন্ধের প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবায়ন চাই

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২৫ ১৬:৩২ পিএম

বন্ধের প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবায়ন চাই

সীমান্তে হত্যাকাণ্ড থামেনি। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে এ এক দগদগে ক্ষত। প্রতিনিয়ত ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যার ঘটনা শুধু উদ্বেগজনকই নয়, মানবাধিকারেরও ভয়ানক লঙ্ঘন। সীমান্তে হত্যা বন্ধে উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর প্রধান পর্যায়ে বৈঠকসহ নানা পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। ভারতের তরফে বিভিন্ন সময়ে প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেসব প্রতিশ্রুতিও শুধু কথার ফুলঝুরি হয়েই রয়ে গেছে। কাজের কাজ হয়নি। 

সর্বশেষ গত শুক্রবার এবং শনিবার ঠাকুরগাঁও ও সুনামগঞ্জের সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। ১৩ জুলাই প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ১২ জুলাই ভোরে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মিনাপুর সীমান্তের ৩৫৩ নম্বর প্রধান পিলার সংলগ্ন এলাকা দিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে কাঁটাতারের বেড়ার কাছে যায় কয়েকজন বাংলাদেশি। এ সময় ভারতের কিষাণগঞ্জ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে আসকর আলী নামের এক বাংলাদেশি নাগরিক ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। অন্যদিকে ১১ জুলাই রাতে ১০-১২ জনের একটি দল সীমান্ত পেরিয়ে ভারত থেকে অবৈধভাবে গরু আনতে গেলে বিএসএফ টহল দলের সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালালে শফিকুল ইসলাম নামের একজন বুকে গুলিবিদ্ধ হন। আহত শফিকুলকে তার স্বজনরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

আমাদের স্মরণে আছে, ২০১১ সালে বিএসএফ কর্তৃক সীমান্তে হত্যা করা হয়েছিল কিশোরী ফেলানিকে। কাঁটাতারের ওপরে ঝুলতে থাকা ফেলানীর মৃতদেহ নাড়িয়ে দেয় বিশ্বমানবতাকে। সে ঘটনার কয়েক বছর পর, ২০১৮ সালে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত সীমান্ত সম্মেলনে ভারতের পক্ষ থেকে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার না করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু সে প্রতিশ্রুতিও রাখেনি ভারত।

চলতি বছর ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের ৫৫তম সীমান্ত সম্মেলনের শেষদিন যৌথ প্রেস বিবৃতিতে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহের যে সারসংক্ষেপ জানানো হয়, তার শুরুতেই বলা হয়Ñ সীমান্তে নিরস্ত্র নাগরিকদের ওপর গুলি চালানো/ হত্যা/ আহত/ মারধরের ঘটনা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার লক্ষ্যে সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যৌথ টহল বৃদ্ধি, উভয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী উপকৃত হবেÑ এমন তাৎক্ষণিক ও আগাম গোয়েন্দা তথ্য একে অপরের মধ্যে আদান-প্রদান, সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসরত জনসাধারণের মধ্যে জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ এবং বিভিন্ন ধরনের আর্থ-সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মসূচি গ্রহণ এবং সীমান্তে যেকোনো হত্যা সংঘটিত হলে তার যথাযথ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে উভয়পক্ষ সম্মত হয়েছে।

আমাদের স্মরণে আছে, এরও আগে সীমান্তে হত্যা শূন্যে নামাতে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যৌথ বিবৃতি দিয়েছিলেন। এরপর সীমান্তে আর হত্যাকাণ্ড ঘটবে না ধরে নেওয়া হলেও তাও বাস্তবায়িত হয়নি।  ভারত তাদের প্রতিশ্রুতি রাখেনি। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালে বিএসএফ-এর হাতে মোট ৩০ জন বাংলাদেশি সীমান্তে নিহত হন। নিহতদের মধ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় ২৫ জনকে। একই প্রতিষ্ঠানের আরেকটি তথ্য বলছে, ২০২৩ সালে ৩১ বাংলাদেশিকে হত্যা করে বিএসএফ, যাদের মাঝে ২৮জনই গুলিতে নিহত হন। আসক-এর সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত বিএসএফ-এর গুলিতে ও নির্যাতনে অন্তত ৬০৭ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। অন্য একটি পরিসংখ্যান বলছে, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত বিএসএফ সদস্যদের হাতে অন্তত ৫৮২ বাংলাদেশি নিহত ও ৭৬১ জন আহত হয়েছে। 

সীমান্তে হত্যা বিষয়ে বাংলাদেশ সব সময়ই সোচ্চার। ভারতের তরফেও বারবার সীমান্তে হত্যা বন্ধে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বন্ধুপ্রতিম দেশটির কাছ থেকে পাওয়া প্রতিশ্রুতিই সার, বাস্তবে এ ধরনের হত্যা বন্ধে দেশটির তরফে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি। সীমান্তে হত্যা বন্ধে আর প্রতিশ্রুতি নয় বরং আমরা প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন চাই। আমরা মনে করি, ভারতের সদিচ্ছার অভাবেই সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধ হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে এ ধরনের হত্যা বা নির্যাতন বন্ধে বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও কঠোর বার্তা দেওয়া জরুরি। সেইসঙ্গে সীমান্ত হত্যা বন্ধে আমাদেরও সতর্কতার প্রয়োজন রয়েছে। আমাদের নাগরিকরা যেন অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম বা চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত হতে না পারে সে বিষয়ে নজরদারি বাড়াতে হবে। বিএসএফকেও বিরত থাকতে হবে প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার থেকে। সীমান্তে হত্যা বন্ধে যেসব প্রতিশ্রুতি রয়েছে, তা কেন মানা হচ্ছে না, তার কারণ অনুসন্ধান করতে হবে। বিজিবি ও বিএসএফ যৌথ টহল চালু হলেও সংঘাত ও ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ কমবে বলে আমরা মনে করি। সীমান্তে কোনো ব্যক্তি নিহত হলে দ্রুত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একইভাবে ভারতীয় বিএসএফ সদস্যদের মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে ভারত সরকারের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর জন্যও আমরা বলি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা