× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ডেঙ্গু ও করোনার সংক্রমণ

নিয়ন্ত্রণে সচেতন হোন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২৫ ১৭:৪৬ পিএম

নিয়ন্ত্রণে সচেতন হোন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন

বর্ষা শুরুর আগে থেকেই দেশজুড়ে বেড়ে চলেছে ভাইরাসজনিত জ্বরের প্রকোপ। তারপর থেকেই ডেঙ্গু এবং করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ দেখা দিয়েছে উদ্বেগজনক হারে। করোনা ও ডেঙ্গু সংক্রমণের ভেতর চিকুনগুনিয়ার চোখরাঙানি জনমনে শঙ্কা বাড়াচ্ছে। দিন যত যাচ্ছে ততই বাড়ছে মশাবাহিত এসব রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা। আগে শহরাঞ্চলে এসব রোগী বেশি দেখা গেলেও সাম্প্রতিক সময়ে মফস্বলেও ব্যাপকতা বেড়েছে। এতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো। সারা দেশেই নতুন নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে। চিকিৎসকরা বলছেন- এই তিনটি রোগের সংক্রমণই শুরু জ্বর দিয়ে। তারা বলছেন, জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত ভাইরাসজনিত জ্বরের জন্য সবচেয়ে সংবেদনশীল সময়। ফলে ভাইরাসটি দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে। চিকিৎসকদের ধারণা, চিকিৎসা খাতের অবকাঠামো, প্রশিক্ষণ ও জনসচেতনতা না বাড়ালে পরিস্থিতি আরও জটিল তথা সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এমন বাস্তবতায় সরকার ও স্থানীয় সরকারের মধ্যে সমন্বয়হীনতা দৃশ্যমান। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, তারা চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে; আর স্থানীয় সরকার বিভাগ বলছে, তারা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে জনগণের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই। ডেঙ্গু এবং করোনা এখন আমাদের জন্য কঠিন এক বাস্তবতা। বলা চলে, সংক্রমণগুলো কেবল স্বাস্থ্যসংকটেই নয়, এটি আর্থ-সামাজিক সংকটে রূপ নিয়েছে। 

৭ জুলাই প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ ‘ডেঙ্গু-করোনার সাঁড়াশি আক্রমণ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ভাইরাস দুটির ব্স্তিারিত তথ্য। প্রতিবেদন বলছে, এবার রোগের ধরন পাল্টে ফেলেছে ডেঙ্গু ও করোনা। এত দিন ডেঙ্গু রোগীদের প্রধান উপসর্গ ছিল প্রচণ্ড জ্বর, ব্যথা, গলাব্যথা ও কাশি। এ বছর ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে জ্বর এবং ব্যথার তীব্রতা অনেকটা কম। আর সবার ক্ষেত্রে কাশিও থাকে না। একইভাবে বদলে গেছে করোনার ধরনও। হাঁচিকাশি, শ্বাসকষ্ট, গলাব্যথা ও প্রচণ্ড জ্বর ছিল করোনার প্রধান উপসর্গ। এখন আক্রান্তদের মধ্যে জ্বরের তীব্রতা কম থাকে, শ্বাসকষ্টও হয় না সবার। তবে প্রচণ্ড মাথাব্যথা থাকে। চিকিৎসকরা বলছেন, ইদানীং এমন অনেক রোগী হাসপাতালে আসছে, যারা একই সঙ্গে করোনা ও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। 

৬ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুসংক্রান্ত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১২৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৭ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৩, ঢাকা উত্তর সিটিতে ৩১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ৪৮ এবং রাজশাহী বিভাগে ৩৯ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, এ বছর জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সব মিলিয়ে ১১ হাজার ৯৫৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ৪৫ জনের। অন্যদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাসংক্রান্ত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের চলমান পরীক্ষাগারগুলোতে ২৩৯টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৬ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ বছর এখন পর্যন্ত মোট ৬২৯ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে করোনায় ২৪ জনের মৃত্যু হলো। 

শঙ্কার আরও বিষয় হলো, এই সময়টায় ঘন ঘন বৃষ্টি হচ্ছে। এতে এডিসের বংশবিস্তারের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। যদিও বলা হচ্ছে, ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোতে মশকনিধনে অভিযান চলছে। কিন্তু এই অভিযান কতটা টেকসই, তা আক্রান্তদের পরিসংখ্যান বলে দিচ্ছে। মশার লার্ভা ধ্বংসে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হলো, সেগুলোর কার্যকারিতা কোন পর্যায়ে তার কোনো পরিসংখ্যান বা তথ্য এখনও স্পষ্ট নয়। দেখা যাচ্ছে, প্রতিটি ওয়ার্ডে বা অঞ্চলেই রোগী শনাক্ত হচ্ছে। মশা নির্মূলে কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ খুব একটা কার্যকর নয়। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে আগামী জুলাইয়ের শেষদিকে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা ব্যাপকহারে বাড়বে। তাই এডিস মশার উৎস পুরোপুরি নির্মূল করতে হবে। 

হাসপাতাল ও বিভিন্ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিত্র দেখে মনে হচ্ছে, সরকারের উচিত এখনই এই ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। দেশের হাসপাতালগুলোতে বিনামূল্যে পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানো, প্লাটিলেট ও রক্ত সরবরাহব্যবস্থা উন্নত করা, চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ জোরদার করা এবং দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য আর্থিক সহায়তা ফান্ড চালু করা। একই সঙ্গে নাগরিকদের সচেতন করতে নিয়মিত প্রচার অভিযান চালানো। কারণ ডেঙ্গু আর করোনা এখন নাগরিক জীবনের জন্য শুধু স্বাস্থ্যঝুঁকিই নয়, বরং এক বিশাল অর্থনৈতিক সংকটের কারণ হয়ে উঠেছে। 

আমরা মনে করি, এসব ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মানা বাধ্যতামূলক করা হোক। এসব সংক্রমণ রোগ প্রতিরোধের দায়িত্ব কেবল সরকারের একার নয়, দেশবাসী সবার। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় প্রস্তুতি এবং নাগরিক সচেতনতাÑ এই দুইয়ের সমন্বয় দরকার। অতি সম্প্রতি করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে যে ১১ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং সর্বসাধারণকে মাস্ক পরাসহ জনসমাগমস্থল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে তার বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নিতে হবে। আর ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশা নিধন বা প্রচার কার্যক্রমই যথেষ্ট নয়। বাসাবাড়ির পানির পাত্র, নির্মাণাধীন ভবন, ফুলের টব বা ব্যবহৃত টায়ারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলো চিহ্নিত করে নিয়মিত পরিদর্শন ও পরিষ্কার করা জরুরি। উভয় ক্ষেত্রেই জনসচেতনতার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মানা জরুরি বলে আমরা মনে করি। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা