× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সমুদ্র দূষণ

জীববৈচিত্র্য ও সম্পদ রক্ষায় উদ্যোগ নিন

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২৫ ১৬:৪২ পিএম

জীববৈচিত্র্য ও সম্পদ রক্ষায় উদ্যোগ নিন

সমুদ্রকে বলা হয় পৃথিবীর ফুসফুস। অক্সিজেনের একটা বড় জোগান আসে এই সমুদ্র থেকেই। সমুদ্রে রয়েছে নানা ধরনের সম্পদ। আমাদের দেশের উপকূলজুড়েও রয়েছে বিশাল সমুদ্র এবং তার অসীম সম্পদ। এসব সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা গেলে দেশের অর্থনীতি অনেক এগিয়ে যাবে। সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষার প্রতিশ্রুতি আমাদের ব-দ্বীপ পরিকল্পনায়ও রয়েছে। এখন সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন দরকার। কিন্তু মানুষের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে সমুদ্রের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে সমুদ্রসম্পদ কাঠামোর ওপর প্রভাব পড়ছে। বলা চলে, সঠিক পরিকল্পনার অভাবে সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য আজ নানাভাবে ক্ষতির সম্মুখীন। এমনিতেই শিল্পের বর্জ্যসহ বিভিন্নভাবে দূষণ, সমুদ্র উপকূলে মানুষের বসবাস এবং তাদের জীবন পদ্ধতিÑ এসবকিছু সমুদ্রে জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকির। এর মধ্যে রয়েছে সমুদ্রে মৎস্য আহরণকারী জাহাজের নাবিকদের অবাধ বিচরণ ও তাদের ব্যবহৃত খাবার ও পণ্যের বর্জ্যসমূহ। আগে এসব বর্জ্য সমুদ্রেই ফেলে দেওয়া হতো। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সামুদ্রিক মৎস্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় নাবিকরা সেসব বর্জ্য উপকূলে ফিরিয়ে আনছেন। ফলে দূষণ থেকে কিছুটা রক্ষা পাচ্ছে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য। সমুদ্রকে রক্ষায় এই ধরনের উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। আমাদের বিশাল জলরাশি ও সম্পদকে বাস্তু ব্যবস্থাপনার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। যাতে দেশীয় সমুদ্রসীমানায় যেমন হবে, তেমনি সমুদ্রসম্পদের ক্ষতিসাধন রোধে বিশ্বেও এই দৃষ্টান্ত অনুকরণীয় হয়।

৫ জুলাই প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ ‘সাগর থেকে বছরে ২৫ টন বর্জ্য ফিরছে উপকূলে’ শীর্ষক প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ‘এফভি যৌথ উদ্যোম’ নামের ফিশিং জাহাজটি ২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ২৪ মার্চ পর্যন্ত মোট চারটি যাত্রায় সমুদ্রে মাছ ধরে। এই চার ট্রিপে নাবিকরা মোট ৩৮ কেজি অপচনশীল বর্জ্য উপকূলে ফিরিয়ে আনেন। সেই হিসেবে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে চালু হওয়া এই উদ্যোগে ২৫০টি বাণিজ্যিক ফিশিং জাহাজ বছরে প্রায় ২৫ মেট্রিক টন অপচনশীল বর্জ্য সমুদ্রে ফেলা থেকে বিরত থাকবে। জানা গেছে, প্রতিটি জাহাজে দুটি করে ‘বর্জ্য বিন’ বসানো হয়েছে। ওই বর্জ্য উপকূলের নির্ধারিত ডাম্পিং স্টেশনে ফেলার ব্যবস্থা রয়েছে। 

উল্লেখ্য, সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া একটি জাহাজে প্রায় ৩০-৪০ জন নাবিক থাকেন। তাদের খাবারের বেশিরভাগ থাকে পলিথিনে মোড়ানো, যা খাওয়া শেষে আগে সমুদ্রে ফেলা হতো। এই বর্জ্যের কারণে সাগরে ঘোস্ট ফিশিং, মাছের প্রজনন ব্যাঘাতসহ বাস্তুতন্ত্রে নানাবিধ ক্ষতির দৃষ্টান্ত রয়েছে। ফলে মাছের সরবরাহও দিন দিন কমে আসছিল। 

এমন পরিস্থিতিতে সংকটটি মোকাবিলায় পরিকল্পনা নেয় সামুদ্রিক মৎস্য দপ্তর। পরিকল্পনা অনুযায়ী তা বাস্তবায়নও শুরু হয়। সর্ব শেষ তথ্য মতে, দেশের ২৬৪টি জাহাজের মধ্যে ২৫০টিতেই বসানো হয়েছে বর্জ্য বিন। মৎস্য দপ্তরের হিসাবে, একটি জাহাজ বছরে গড়ে ১০ বার সমুদ্রে যায় এবং প্রতি ট্রিপে ১০ কেজির মতো বর্জ্য উৎপন্ন করে। ফলে বছরে প্রায় ২৫ হাজার কেজি বা ২৫ টন বর্জ্য সমুদ্রে না পড়ে উপকূলে ফিরে আসছে। পরিসংখ্যান বলছে, দেশের ৩৩-৩৪ হাজার যান্ত্রিক নৌযান, যেগুলো এখনও এই পরিকল্পনার আওতায় আসেনি, সেগুলোকে আওতায় আনতে পারলে দূষণ আরও কমবে। এমনিতেই জলবায়ু পরিবর্তনে উপকূলীয় অঞ্চলে তাপমাত্রা বাড়ছে। একই কারণে বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা। এতে সমুদ্র ও উপকূল এলাকার প্রতিবেশ নষ্ট হচ্ছে। প্রাণী ও জীবকুলের খাদ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। সংকটে পড়ছে জীববৈচিত্র্য। তাই জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে হবে আমাদের স্বার্থেই। 

এ কথা সত্য যে, সমুদ্রসম্পদ, সমুদ্রসীমা বা সমুদ্রসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে একটা সময় দেশের মানুষের খুব একটা আগ্রহ ছিল না। বিগত সময়ে মিয়ানমারের কাছ থেকে আইনিভাবে সমুদ্র জয় করার পরই মূলত এ বিষয়ে সাধারণ মানুষের ধারণা প্রসারিত হয়। তখন আমরা বুঝি সমুদ্রসম্পদ রক্ষা করা কতটা জরুরি। বলা চলে সমুদ্রসীমা জয়ের ফলে অবারিত সুযোগ ও সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। এখন আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ের মাধ্যমে দেশের সমুদ্রসীমা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত। আমরা মনে করি, নিজেদের সমুদ্র এলাকার বিপুল সম্পদ কাজে লাগাতে পারলে অর্থনৈতিকভাবে আমরা আরও এগিয়ে যাব। অতীতে সমুদ্র বিজয়ের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু সমুদ্র রক্ষা করা, সঠিক সমুদ্র ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ লক্ষ করিনি। ফলে সমুদ্রের সম্পদ কীভাবে সুষ্ঠুভাবে আহরণ করব, তার কোনো সরকারি পরিকল্পনা আমরা দেখতে পাইনি। এ ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারকে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়ার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

আমাদের উপকূল, সুন্দরবন এবং পানি ব্যবস্থাপনা গড়তে হবে ব্লু ইকোনমির ভিত্তিতে। কারণ একটি আরেকটির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। সমুদ্রকে দূষণমুক্ত রাখা এবং সমুদ্রসম্পদ রক্ষার বিষয়ে উপকূলের স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন করতে হবে। সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন সমুদ্রসম্পদ রক্ষায়। এখন আমাদের সমুদ্রে যে ধরনের ব্যবস্থাপনা চলছে, তাতে সামুদ্রিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় যথার্থ নয়। পৃথিবীর বহু দেশ তাদের জীববৈচিত্র্য হারিয়ে ফেলেছে নিজেদের অসাবধানতার কারণে। জীববৈচিত্র্য ঠিক রাখা যতই কঠিন হোক, আমাদের সেটা করতে হবে। অন্যথায় জীববৈচিত্র্য ও সমুদ্রসম্পদ কোনোটাই রক্ষা করা সম্ভব হবে না। এসব বিষয়ে এখন থেকেই আরও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা