হাজী মো. রাসেল ভূঁইয়া
প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২৫ ১৬:৩৮ পিএম
সরকার চলতি জুলাই থেকেই পাঁচ বছর এবং তিন বছর মেয়াদিসহ কয়েকটি সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমিয়ে দিয়েছে। তাতেই উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা শুরু হয়েছে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর মধ্যে। যারা কিছু করতে পারেন না, অবসরপ্রাপ্ত, কর্মক্ষম, অসহায় নারী সেসব মানুষের একমাত্র ভরসার স্থল ছিল সঞ্চয়পত্র। কিন্তু তার মুনাফা এখন সরকার কমিয়ে দিয়েছে। এমনিতেই মূল্যেস্ফীতির চাপে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো দিশাহারা। বাজার করতে গেলে অনেক কিছুই বাজারের ব্যাগে কিনে আনতে পারেন না মধ্যবিত্তের পাতে গরুর মাংস এবং ইলিশ কবে পড়েছে তা অনেকেই জানেন না। এখন তারা আরও ভয়াবহ দুর্ভোগ আর দুর্গতির মধ্যে পড়বে।
সঞ্চয়পত্রে যে দুটি জনপ্রিয় স্ক্রিম রয়েছে তার মধ্যে পাঁচ বছর মেয়াদি তাতে প্রতি লাখে মাসে পাওয়া যায় ৮৬৪ টাকা আর তিন বছর মেয়াদি প্রতি লাখে মাসে পাওয়া যায় ৮২৪ টাকা। বিগত সরকার দেশের মধ্যবিত্ত ও নারীদের সামাজিকভাবে সহায়তা হিসেবে প্রথম দিকে ৫ বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্রে প্রতি লাখে ১১০০ টাকা করে মুনাফা দিত। কিন্তু ব্যাংক খাতের প্ররোচনায় তা আস্তে আস্তে কমতে থাকে। সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ বেড়ে যায় পুঁজিপতিরাও এখানে বিনিয়োগ করা শুরু করলে। তার ফলে মধ্যবিত্ত ও অসহায় নারীদের সামাজিক সহায়তামূলক সঞ্চয়পত্রে মুনাফা কমা শুরু হয়। সরকার সেটা রোধ করতে টিন বাধ্যতামূলক করেন। কিন্তু ব্যাংক খাতের মাফিয়ারা এবার সঞ্চয়পত্রে মুনাফা কমাতে বড় ধরনের প্রপাগান্ডা চালিয়ে মধ্যবিত্তকে হতাশ করেছে।
বিগত সরকারের আমলের অর্থমন্ত্রী ব্যাংক মাফিয়াদের কাছ থেকে বিরাট অঙ্ক হাতিয়ে নিয়ে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে অচলাবস্থা করেছিল। কিন্তু গত ছয় মাস আগে সঞ্চয়পত্রে নতুনভাবে মুনাফার হার নির্ধারণ করা হলে ও মানুষ সঞ্চয়পত্র কেনা শুরু করে। কিন্তু চলতি জুলাই তাতে আবার মুনাফার হার কমিয়ে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে এবার গলাচেপে মেরে ফেলার পাঁয়তারা চলছে। তাই দেশের মধ্যবিত্ত পরিবারকে বাঁচাতে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার বিবেচনা অত্যাবশ্যকীয় হয়ে পড়েছে।