নাছির মিয়া দেওয়ান
প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২৫ ১৬:৩৫ পিএম
আমাদের জাতীয় ফল কাঁঠাল। এ সময়ে বিভিন্ন ফল ছাড়াও বাজারে কাঁঠাল পাওয়া যায়। এখন আরও একটি ফল পাকার সময়। এটা দেখতে কাঁঠালের মতো অনেকটা। মানুষ কাঁঠাল চিনলেও এই ফলটি খুব একটা চেনেন না। এর নাম চাম কাঁঠাল। দেখতে কাঁঠালের মতো। আকারে বেশ ছোট। স্বাদও কাঁঠাল থেকে ভিন্ন, অনেকটা টক জাতীয়। ফলটি মূলত পাহাড়ি অঞ্চলে পাওয়া যায়। বর্তমানে মৌসুমি ফলের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাওয়া যাচ্ছে পাহাড়ি ফল ‘চাম কাঁঠাল’। ফলটি পাহাড়ি চাপালিশ বা চামলগাছের ফল। এর এলাকাভেদে চাম্বল, চাম্বুল, কাঁঠালি চাম্বুল, চাম ফল, চাপালিশ ফল, বুনোফল, বুনো কাঁঠাল ইত্যাদি নামেও ডাকা হয়। গত কয়েক বছর এ ফলটি অনেকটা বিলুপ্তির পথে হলেও বর্তমানে অল্পবিস্তর পাওয়া যাচ্ছে। এ গাছটির ফল অত্যন্ত সুস্বাদু। ফলটি অনেক বন্যপ্রাণীর প্রিয় খাবার।
বাংলাদেশে সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, মধুপুর, রাঙামাটি ও পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় নগণ্য সংখ্যক এই গাছ রয়েছে। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, বড়লেখা উপজেলার সমনভাগ, জুড়ী উপজেলার পাথারিয়া, লাঠিটিলা, কুলাউড়া উপজেলার বরমচালসহ জেলার সংরক্ষিত বনাঞ্চলগুলোয় রয়েছে এই ফলের অসংখ্য গাছ। এসব গাছের ফল বর্তমানে শহরে পাওয়া যাচ্ছে। চলতি বছরে প্রতিটি চাম কাঁঠাল সাইজভেদে ৫০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
চাপালিশ সুউচ্চ পত্রঝরা গাছ। এটির উচ্চতা সাধারণত ৯০ ফুট পর্যন্ত হয়ে থাকে। গাছটিতে ফুল আসে মার্চ-এপ্রিল মাসে। এরপর আসে ফল। গাছটির ফল পাকে জুন থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে। বনাঞ্চলে চাপালিশের বীজ থেকে চারা হয়। এ ছাড়া অন্যান্য ফলদ গাছের পাশাপাশি বন বিভাগ চাপালিশ গাছের চারাও রোপণ করে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের আসাম, আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ, সিকিম, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভুটান, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, চীন, লাওস, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ায় এ গাছ প্রচুর পরিমাণে দেখা যায়। চাম কাঁঠাল অনেকেরই জনপ্রিয় ফল। চিকিৎসকদের মতে, এর রয়েছে অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা। এটি ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর, যা শরীরের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। চাম কাঁঠাল হজমে সহায়তা করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। উপকারী এই গাছটি বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচানো আমাদের সবার দায়িত্ব।