× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আন্দোলন

মামলা বাণিজ্য ঠেকাতেই হবে

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ২৭ জুন ২০২৫ ১৫:৫০ পিএম

মামলা বাণিজ্য ঠেকাতেই হবে

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শিক্ষার্থীসহ অসংখ্য মানুষ আহত-নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন থানায় মামলা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে গণহারে মামলা দায়েরের সংখ্যা বেড়েছে। ফলে অনেক নিরপরাধ মানুষের মনেই ভর করেছে গ্রেপ্তার আতঙ্ক। যদিও থানায় মামলা রেকর্ড হলেই এজাহারনামীয় আসামি ধরার বাধ্যবাধকতা পুলিশের নেই, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই তদন্ত ছাড়াই এজাহারনামীয় আসামিদের ধরার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি এজাহারের শেষ দিকে নাম থাকা আসামি গ্রেপ্তারের নজিরও সাম্প্রতিক সময়ে তৈরি হয়েছে। 

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এসব মামলার এজাহারের বর্ণনা যেমন প্রায় একই রকম, তেমনি প্রধান আসামিদের নামও প্রায় এক। বরং স্থান বিশেষে যুক্ত হয় শতাধিক অজ্ঞাত আসামির কথা। আর প্রতিটি মামলায় অজ্ঞাতনামা কয়েকশ আসামি থাকায় সুযোগসন্ধানীদের জন্য তৈরি হচ্ছে বাণিজ্য করার পথ। 

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের পরিবার ও স্বজনেরা মামলা করেছেন। আবার গণমাধ্যমে অনেক মামলার বাদীই বলছেন, ‘তারা মামলার বিষয়ে কিছু জানেন না। থানায় নিয়ে গিয়ে মামলার কাগজপত্রে তাদের সই নেওয়া হয়েছে এবং ইচ্ছামতো কেউ আসামিদের নাম বসিয়ে দিয়েছেন।’ একই ঘটনায় একাধিক মামলাও হয়েছে এবং হচ্ছে। ২৬ জুন প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ প্রকাশিত ‘মামলা বাণিজ্যের টার্গেট শিল্পোদ্যোক্তারা’ শীর্ষক প্রতিবেদনেও বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সরকারের গেজেটভুক্ত অতি গুরুতর আহত জুলাই-যোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন চট্টগ্রামের সাইফুদ্দীন মুহাম্মদ এমদাদ। ডান চোখে গুলিবিদ্ধ হওয়া এমদাদের আহত হওয়ার ঘটনায় ঢাকা ও চট্টগ্রামে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। দুই মামলায় একই বর্ণনা থাকলেও ঘটনাস্থল দেখানো হয়েছে আলাদা। অথচ আইন অনুযায়ী একই ঘটনায় দুটি মামলা হতে পারে না। আবার একই সময়ে একই ব্যক্তির ঢাকা-চট্টগ্রাম দুই জায়গায় আহত হওয়ার ঘটনাও অবিশ্বাস্য। শুধু এ ঘটনাতেই নয়, অনেক ক্ষেত্রেই একটি সংঘবদ্ধ চক্র মামলা দায়ের করছে যেখানে আসামি করা হচ্ছে কিছু মানুষকে ‘টার্গেট’ করে। যাদের একটি বড় অংশ ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক। 

আমাদের স্মরণে আছে গত ২৮ এপ্রিল রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবসের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা হয়রানিমূলক মামলা সম্পর্কে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের বলেছিলেন, ‘আপনাদের কাছে একটা অনুরোধ করব, মামলাগুলো যারা করে, তাদের একটু খুঁজে বের করেন। খুঁজে বের করে মামলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন, তাদের উন্মোচন করেন। তারা যদি কোনো হীন উদ্দেশ্যে, শত্রুতামূলক উদ্দেশ্যে, অন্যের ব্যবসা, জায়গাজমি দখলের উদ্দেশ্যে কিংবা চাঁদার উদ্দেশ্যে এ ধরনের মামলাগুলো করে থাকেন, আপনাদের প্রতি অনুরোধ তাদের ভূমিকা প্রকাশ করেন, জনগণের কাছে দেখিয়ে দেন।’ 

অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য জরুরি। কিন্তু উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে কাউকে আসামি করার মধ্যে যে ষড়যন্ত্র এবং ‘বাণিজ্যে’র লক্ষ্য তা ন্যায়বিচারের অন্তরায় এবং  আইনের শাসনেরও পরিপন্থী। তাই আমরা মনে করি, সরকারকে উদ্যোগী হয়ে শুধু সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সূত্র ধরেই নয়, তদন্ত সাপেক্ষে মামলা বাণিজ্যের পথ বন্ধ করতে হবে। 

সংস্কারের যে উদ্দেশ্যে ছাত্র-জনতার যে মহৎ ত্যাগ, তাদের রক্তের বিনিময়ে যে গণঅভ্যুত্থান, তা কারও ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে না। মামলা বাণিজ্যের নামে যে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে, কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষ যেভাবে মামলার মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে তা চলতে দেওয়া যায় না। ঢালাও মামলা সরকারের জন্যও বিব্রতকর। তাই কেউ যেন গায়েবি মামলা দায়ের করতে না পারে সেজন্য মামলাগুলো চিহ্নিত করার একটি মানদণ্ড নির্ধারণের পাশাপাশি এ ধরনের মামলা দায়েরের প্রবণতা কমাতে উদ্যোগ নিতে হবে। যারা ভিত্তিহীন মামলার মাধ্যমে ‘মামলা বাণিজ্য’ করতে চাইছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

আমরা মনে করি, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের ও আসামিদের গ্রেপ্তার করা হলে বিচার প্রক্রিয়া যেমন স্বচ্ছতা পাবে, তেমনি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের সম্ভাবনাও জোরালো হবে। অন্যথায় ‘নিছক হয়রানিমূলক’ মামলায় অনেক নিরপরাধ ব্যক্তিও দুর্ভোগের শিকার হতে পারেন। আর মামলা বাণিজ্যের নামে যেভাবে শিল্পপতিদের জড়ানো হচ্ছে, তাতে করে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই জনমনে আস্থা অর্জনের স্বার্থে ঢালাও মামলা, গায়েবি মামলা বা মামলা বাণিজ্য যে নামেই অভিহিত করি না কেন, এই অপতৎপরতা বন্ধের উদ্যোগ নিতে হবে। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা