× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ডেঙ্গু ও করোনার প্রকোপ

দরকার রাষ্ট্রীয় প্রস্তুতি এবং জনসচেতনতা

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২৫ ১৬:০৩ পিএম

দরকার রাষ্ট্রীয় প্রস্তুতি এবং জনসচেতনতা

দেশে করোনাভাইরাস এবং এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুর প্রকোপ ক্রমশ বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ডেঙ্গুজনিত মৃত্যুর ঘটনাও বাড়ছে। তবে ডেঙ্গুর তুলনায় করোনা সংক্রমণের হার এখনও কিছুটা কম। সংক্রমিত দুটি রোগই জনস্বাস্থ্যের নীরব ঘাতক এবং যা জনমনে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে এসব রোগ নিরীক্ষণে উপকরণ সংকটের বিষয়টিও আলোচনায় আসছে। এমনকি প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র, প্লাটিলেট কিট, জনবল ও স্থান সংকটের কারণে হাসপাতালগুলো সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে। সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো দুটি পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির তথ্যে জানা যায়, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এ বছরের সর্বোচ্চ ৩৯২ জন এবং করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আর একই সময়ে করোনায় তিনজন এবং ডেঙ্গুতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। শনাক্ত হওয়া এই পরিসংখ্যানের অধিকাংশ রোগীই রাজধানী ঢাকা ও কয়েকটি শহরের। এসব এলাকায় সীমিত পরিসরে রোগ নির্ণয়ের প্রস্তুতি রয়েছে। দেশের বহু জেলায় এখনও পর্যাপ্ত তার ঘাটতি রয়েছে। ফলে প্রকৃত সংক্রমণের চিত্র এখনও অজানা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

২৪ জুন প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ ‘একযোগে বাড়ছে ডেঙ্গু ও করোনার প্রকোপ’ শীর্ষক প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যের ভিত্তিতে বলা হয়েছে, এ বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সব মিলিয়ে ৮ হাজার ১৫০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৩৪ জনের। কেবল চলতি মাসে মারা গেছেন ১১ জন। অন্যদিকে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে সোমবার পর্যন্ত করোনা মোট পরীক্ষা করা হয়েছে ৬ হাজার ৪ জনের নমুনা। শনাক্ত হয়েছেন ৪৫২ জন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। তাদের মধ্যে আটজন পুরুষ ও ১১ জন নারী। এমন প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দেশের প্রতিটি বিভাগে করোনা ও ডেঙ্গু পরীক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি সরবরাহ জোরদার করা এবং হাসপাতালগুলোকে পূর্ণ প্রস্তুতিতে রাখা। সময়মতো প্রস্তুতি না থাকলে বিপর্যয়ের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংক্রমণের সংখ্যা হয়তো এখনও সেভাবে আতঙ্কিত হওয়ার মতো নয়। কিন্তু যেহেতু সংক্রমণ বাড়ছে, তাই উপেক্ষার সুযোগ নেই ।

বর্ষা মৌসুমে জনস্বাস্থ্যের জন্য ব্যাপক ক্ষতিকর প্রাণী হচ্ছে মশা। শুধু ডেঙ্গুই নয়, চিকুনগুনিয়া, ম্যালেরিয়ার মতো রোগের উপলক্ষ এই মশা। জানা গেছে, ২০২৪ সালে ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছেন ৫৭৫ জন। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) ২০২৪-২৫ সালের জরিপে দেখা গেছে, রাজধানীর ৫৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ বহুতল ভবনে পাওয়া গেছে ডেঙ্গুবাহিত এডিস মশার লার্ভা। এমন বাস্তবতায় একই দিন প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ “ঢাকা মশক নিবারণী দপ্তর’ একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান”- শীর্ষক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে প্রতিষ্ঠানটির অসারতার চিত্র। ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এ দপ্তরটি একসময় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকলেও বর্তমানে স্থানীয় সরকারের আওতায়। গত ৩২ বছর ধরে এটি কেবল প্রশাসনিক কাঠামোর একটি ছায়া হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। দপ্তরটির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় মশা মারার জন্য নেই আধুনিক সরঞ্জাম, নেই কীটনাশক বা যন্ত্রপাতি কেনার বাজেট, এমনকি নিজস্ব উদ্যোগে মাঠপর্যায়ে কোনো কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষমতাও। বরাদ্দ কেবল অফিস পরিচালনা ও বেতন-ভাতার জন্যই সীমিত। অভিযোগ আছে, এ দপ্তরের অধীনে বর্তমানে ২০০ শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত থাকলেও মাঠপর্যায়ের কর্মীরাই দুই সিটি করপোরেশনে দায়িত্ব পালন করছেন। সার্বিক বিচারে বলা যায়, ঢাকা মশক নিবারণী দপ্তর কার্যত একটি মৃতপ্রায় প্রতিষ্ঠান। তাই প্রশ্ন উঠছেÑ মশা দমনের জন্য ৭৫ বছর আগে গড়ে তোলা ‘ঢাকা মশক নিবারণী দপ্তর’-এর আর প্রয়োজন কী? আমরা মনে করি, যেখানে সমন্বিত ও বিজ্ঞানভিত্তিক মশা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জরুরি, সেখানে কেবল কাগুজে কাঠামো ও সীমিত ক্ষমতা দিয়ে জনস্বাস্থ্য রক্ষা করা অসম্ভব। সে কারণে দপ্তরটির প্রয়োজন পূর্ণাঙ্গ সংস্কার। আসলে মশা নিধন সম্পর্কে নানা সময়ে নানা ঘোষণা দেওয়া হলেও বাস্তবতার সঙ্গে সেসবের সামঞ্জস্য পাওয়া যাচ্ছে না। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো দৃশ্যমান কার্যক্রমও পরিলক্ষিত হচ্ছে না। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে, বারবার একই রকম সংকটের মুখোমুখি হয়েও আমরা কেন কাঠামোগত প্রস্তুতি গ্রহণে ব্যর্থ হচ্ছি? কেন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো মৌসুমি অভিযানের বাইরে একটি দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে পারছে না? 

এসব ক্ষেত্রে জনসচেতনতা বাড়ানোসহ স্বাস্থ্যবিধি মানা বাধ্যতামূলক করা জরুরি। এসব সংক্রমণ রোগ প্রতিরোধের দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, আমাদের সবার। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় প্রস্তুতি এবং ব্যক্তিগত সচেতনতাÑ এই দুইয়ের সমন্বয়ই হতে পারে প্রধান অবলম্বন। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে যে ১১ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় সর্বসাধারণকে মাস্ক পরাসহ জনসমাগমস্থল এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এই নির্দেশনাকে গুরুত্ব দিতে হবে। আর এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে শুধু ফগিং বা প্রচার কার্যক্রম যথেষ্ট নয়। বাসাবাড়ির পানির পাত্র, নির্মাণাধীন ভবন, ফুলের টব বা ব্যবহৃত টায়ারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলো চিহ্নিত করে নিয়মিত পরিদর্শন ও পরিষ্কার করা জরুরি। আমরা মনে করি, ডেঙ্গু ও করোনা উভয় ক্ষেত্রেই জনসচেতনতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা