× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

নির্বাচনী রোডম্যাপ

গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পথ নিশ্চিত হোক

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ১৫ জুন ২০২৫ ১৬:১৫ পিএম

গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পথ নিশ্চিত হোক

লন্ডনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠক দেশের রাজনীতিতে এক ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে। অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের মধ্যকার বৈঠকটি কেবল একটি রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা ছিল না, বরং ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ঘিরে যেসব প্রশ্ন ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল তা থেকে উত্তরণের পথও খুলল। 

সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর উভয় পক্ষই নিজেদের সন্তুষ্টির কথা যৌথ সংবাদসম্মেলনে জানিয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টার কাছে আগামী বছরের রমজানের আগে নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তাব করেন তারেক রহমান। এ প্রস্তাবের জবাবে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা গেলে ২০২৬ সালে রমজান শুরু হওয়ার আগের সপ্তাহেও নির্বাচন আয়োজন করা যেতে পারে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, বৈঠকটি ছিল মূলত রাজনৈতিক সমঝোতার এক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। আলোচনা ফলপ্রসূ ধরে নিলে বলা যায়, নির্বাচন আগামী রোজার আগে যেকোনো দিন অনুষ্ঠিত হতে পারে। ফলে এ বৈঠকের মধ্য দিয়ে নির্বাচনের সময়সীমা যে জট তৈরি হয়েছিল, তাও খুলে গেল। রাজনৈতিক মতবিরোধ এড়িয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে প্রধান উপদেষ্টার ভূমিকা এবং বক্তব্যকে আমরা স্বাগত জানাই। 

প্রয়োজনীয় সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্নের সঙ্গে সঙ্গে একটি সুষ্ঠু, সুন্দর, নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব অন্তর্বর্তী সরকারের কাঁধে। কিন্তু জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচনের সময়সীমা নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়ছিল। বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপিসহ বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন দাবি করে আসছিল। অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকার বরাবরই নির্বাচন ডিসেম্বর থেকে পরবর্তী জুন মাসের মধ্যে অনুষ্ঠানের পক্ষে মত দিয়েছে। মাঝে সময়ের ব্যবধান খুব অল্প হলেও উভয় পক্ষের মধ্যে দূরত্ব না কমে বাড়ছিল। এরই মাঝে হঠাৎ করেই পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন এপ্রিল মাসের প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা জানান। তার ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয় এবং দলগুলো চলতি বছরের ডিসেম্বরেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রশ্নে অনড় থাকে। বাস্তবতা এমন পর্যায়ে যে, বিএনপির অবস্থান পরিবর্তন না হলে এপ্রিলে নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হবে না। এতে রাজনীতিতে দেখা দেবে আরও বড় ধরনের সংকট। এই প্রেক্ষাপটে লন্ডনে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তারেক রহমানের বৈঠকের খবর রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করে। এর আগে ড. ইউনূসের সঙ্গে বিএনপির নেতাদের একাধিকবার কথা হলেও নির্বাচনী রোডম্যাপ ও সংস্কার নিয়ে আলোচনায় তেমন অগ্রগতি লক্ষ করা যায়নি। এবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সরাসারি নিজেই আলোচনায় অংশ নেন। যার ফলে নির্বাচনী রোডমাপ ঘোষণার পথ যেমন খুলে গেল, তেমনই এর মাধ্যমে আমাদের রাজনীতিতে ইতিবাচক ধারারও সূচনা হলো। এতে করে আগামীদিনের রাজনীতিতেও অচলাবস্থা তৈরির পথ বন্ধ হলো। কারণ বরাবরই আমরা বলে এসেছি, আলোচনাই সকল সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ। আলোচনা ছাড়া কোনো সমস্যারই সমাধান সম্ভব নয়। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও আশার সঞ্চার হবে। 

আমরা মনে করি, নির্বাচনের সময়সীমা নির্ধারণ যেমন জরুরি, তেমনি জরুরি একটি অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান নিশ্চিত করা। নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণার মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনমুখী হবে, এতে করে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পথে আমাদের এগিয়ে চলা সহজ হবে। সরকারের আন্তরিকতায় ধর্মবর্ণ-নির্বিশেষে সমাজের সকল স্তরের মানুষ স্বেচ্ছায় ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিতে পারার মধ্য দিয়ে একটি সত্যিকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের প্রত্যাশা এখন সবার। 

দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধান উপদেষ্টা বরাবরই সরকারের তিন লক্ষ্য বা এজেন্ডার কথা বলে আসছেনÑ সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন। সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জুলাই সনদ চূড়ান্ত করা, রাষ্ট্রীয় সংস্কারের প্রসঙ্গও রয়েছে। এ নিয়ে কারও দ্বিমত নেই। মাঠে সক্রিয় থাকা কোনো দল সংস্কার ও বিচারের বিরোধিতা করেনি। আমরা মনে করি, যে রাজনৈতিক নেতৃত্ব বা দল অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে, তারা নীতিনির্ধারকদের কোনো কাজ বা পদক্ষেপের সমালোচনা করতেই পারে। এর বিপরীতে সরকারের যেসব যুক্তি আছে, সেটাও তারা উপস্থাপন করতে পারে। কিন্তু কোনোভাবে রাজনৈতিক দল ও নেতৃত্বকে সরকারের প্রতিপক্ষ ভাবা ঠিক নয়।

এই মুহূর্তে দরকার গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার সাহসী উদ্যোগ। কারণ আগামী নির্বাচন হচ্ছে গণঅভ্যুত্থানে পরাজিত একটি শক্তির বিরুদ্ধে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা না পেলে অপশক্তির দৌরাত্ম্য বেড়ে যায়। তাই সরকারের দায়িত্ব আস্থাশীল পরিবেশ নিশ্চিত করে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করা। আমাদের বিশ্বাস, এই বৈঠক ফলপ্রসূ একটি রাজনৈতিক অগ্রগতির দিকে এগিয়ে যাবে। ভুলে গেলে চলবে না, অতীতে আমাদের দেশের রাজনীতিতে এমন বহু সংলাপই হয়েছে, যার ফল শেষ পর্যন্ত ‘অমীমাংসিত’ থেকে গেছে। জনগণ বারবার আশার প্রতিশ্রুতি পেয়েছে, কিন্তু সুনির্দিষ্ট রূপরেখা বা বাস্তব অগ্রগতি হয়নি। আমরা চাই, জাতির প্রত্যাশার সঙ্গে সংগতি রেখে নির্বাচন কমিশন দ্রুত নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করবে। দেশবাসী বহু কাঙ্ক্ষিত জাতীয় নির্বাচনের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাক। আমরা চাই, রাজনীতির মাঠ আর উত্তপ্ত না হোক।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা