× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

প্রজন্মের ভাবনা

শিশুদের মানসিক সুস্থতা ও নিরাপত্তা জরুরি

হৃদয় পান্ডে

প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৫ ১৮:৩৩ পিএম

শিশুদের মানসিক সুস্থতা ও নিরাপত্তা জরুরি

একজন শিশুর জীবনের ভিত্তি গড়ে ওঠে তার শৈশবের অভিজ্ঞতায়। সেই অভিজ্ঞতা যদি ভালোবাসা, নিরাপত্তা এবং বোঝাপড়ায় ভরপুর হয়, তবে শিশুটিও ধীরে ধীরে বিকশিত হয় আত্মবিশ্বাসী ও মানবিক একজন মানুষ হিসেবে। কিন্তু বর্তমান সময়ে শিশুরা নানা কারণে মানসিক চাপে ভুগছে; যার একটা বড় অংশ পরিবার, সমাজ ও শিক্ষাব্যবস্থার অদক্ষতা থেকে জন্ম নিচ্ছে। আমরা যখন বলি, ‘শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য’, তখন সেটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ মানসিক বিকাশের প্রক্রিয়া হিসেবে দেখতে হবে। শিশু যেন নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে পারে, দুঃখ পেলে যেন প্রকাশ করতে পারে, ভুল করলে সেটা নিয়ে শেখার সুযোগ পায়, এই পরিবেশ গড়ে তোলা মানসিক স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার প্রথম ধাপ। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, অনেক পরিবারেই শিশুকে শোনা হয় না, তাকে কেবল নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা চলে। এতে শিশুর মনস্তত্ত্বে জন্ম নেয় এক ধরনের ভয় ও সংশয়। যা পরবর্তী সময়ে হয়ে দাঁড়ায় বড় এক অব্যক্ত চাপ। অনেক সময় বাবা-মা নিজেদের মানসিক চাপ শিশুদের ওপর স্থানান্তর করে দেয়, কখনও প্রত্যাশার ভার দিয়ে, কখনও তুলনার যন্ত্রণা দিয়ে।

সমাজের চোখে ‘ভদ্র শিশু’ সেই, যে চুপচাপ থাকে, কথা কম বলে, বড়দের মুখের ওপর কথা না বলে। অথচ এই ‘ভদ্রতা’র আড়ালে হারিয়ে যাচ্ছে শিশুদের সরলতা, স্বতঃস্ফূর্ততা এবং সবচেয়ে বড় কথাÑ মনের স্বাধীনতা। সামাজিক মিথ ও আচরণবিধি শিশুদের ওপরে চাপিয়ে দেওয়া হয়, যেন তারা এক ধরনের ‘ছাঁচে ফেলা’ মানুষে পরিণত হয়। এর ফলে তারা নিজেদের মতো করে ভাবার কিংবা ব্যক্তিত্ব গঠনের সুযোগ পায় না। শিশুদের আত্ম-মূল্যায়নের প্রক্রিয়া যদি শুরুতেই নেতিবাচক হয়, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে তাদের আত্মসম্মানবোধ ধ্বংস করে দেয়। এবং এভাবেই সমাজের চাপ, প্রত্যাশা আর অস্বীকৃতির ভেতরে শিশুর মন ধীরে ধীরে হাঁপিয়ে ওঠে, যার প্রতিক্রিয়া আমরা দেখি বিভিন্ন আচরণগত সমস্যা, বিষণ্নতা কিংবা আত্মপ্রবঞ্চনার মধ্য দিয়ে।

বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে যেটুকু কাজ হয়েছে, তার মধ্যেও শিশুদের অবস্থান অত্যন্ত প্রান্তিক। মানসিক স্বাস্থ্য বলতে এখনও অনেকের কাছে বোঝায় পাগলামি বা পাগলের ডাক্তারÑ এই ভুল ধারণা এখনও মানুষের মন থেকে যায়নি। ফলে শিশুর কোনো মানসিক সমস্যা দেখা দিলেও পরিবার তা স্বীকার করতে চায় না, চিকিৎসার কথা ভাবা তো দূরের কথা। অনেক সময় এটি অভিভাবকদের অহংকারে আঘাত করে তাদের সন্তান ‘দুর্বল’ হতে পারে, এমনটা মানতে নারাজ থাকে তারা। অথচ ঠিকমতো সহায়তা পেলে একটি শিশুর মানসিক জটিলতা নিরসন করা সম্ভব। 

শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা শুধু পরিবারের নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত দায়িত্ব। একটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্থতায়, আর সেই সুস্থতা মানসিক স্বাস্থ্য ছাড়া পূর্ণ হতে পারে না। রাষ্ট্র যদি চায় একটি দক্ষ, মানবিক, উদার ও আত্মবিশ্বাসী প্রজন্ম তাহলে তাকে এখনই মানসিক স্বাস্থ্যকে জাতীয় অগ্রাধিকারের তালিকায় আনতে হবে। স্কুলে নিয়মিত কাউন্সেলিং সেবা চালু করতে হবে, শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্তি আনতে হবে এবং শিক্ষক-অভিভাবকদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি, গণমাধ্যমে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতামূলক প্রচার চালাতে হবে, যাতে সমাজের সকল স্তরে বিষয়টি গুরুত্ব পায়। রাষ্ট্রকে আরও করতে হবে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, যাতে শহর কিংবা গ্রামের ভেদাভেদ না থাকে। আমাদের মনে রাখতে হবে, একটি শিশু তার মনের যতটা গভীরে আনন্দ বহন করে, ততটাই গভীরে সে আঘাতও পায়। তাই সেই মনটাকে বুঝতে হবে, যত্ন নিতে হবে। এ শুধু একটি নীতিগত প্রয়োজন নয় এটি একটি মানবিক প্রয়োজন, যা উপেক্ষা করলে আমরা হারাব একটি সুস্থ, সহানুভূতিশীল সমাজ গঠনের সম্ভাবনা।

শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা