ছালামত প্রধান
প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৫ ১৭:৫৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
পাথারিয়ার চিরসবুজ অরণ্যটি কেবল বনজ সম্পদের আধারই নয়, এটিকে বলা হয় এশিয়ার জীববৈচিত্র্য হটস্পট ইন্দো-বার্মা অঞ্চলের অংশ। একসময় এখানে বাঘ, গন্ডার, বুনো মোষ, এশীয় হাতি, সজারু, উল্লুক, ফেরেট ব্যাজার, ভাল্লুকসহ বহু বিপন্ন প্রাণীর বাস ছিল। সময়ের বিবর্তনে আজ অধিকাংশই বিলুপ্তির মুখে। খাদ্য ও নিরাপদ আবাসস্থলের অভাবের মধ্যে এখনও যে কয়টি প্রাণী টিকে আছে, তারাও লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। বলা চলে, দেশের পূর্বাঞ্চলের এক অনুপম প্রাকৃতিক ঐশ্বর্য পাথারিয়া হিলস রিজার্ভ ফরেস্ট আজ বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে।
উল্লেখ্য, মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী এই সংরক্ষিত বনাঞ্চল একসময় ১,১৫২ বর্গকিলোমিটার বিস্তৃত ছিল। দখলের কারণে বর্তমানে তা মাত্র ১৩৫ বর্গকিলোমিটারে দাঁড়িয়েছে। প্রভাবশালীদের দখলদারত্ব, বনজ সম্পদের লুণ্ঠন এবং বন বিভাগের গাফিলতি এর প্রধান কারণ।
হাজার হাজার একর বনভূমি দখল, আগুন দিয়ে বন ধ্বংস, সরকারি গাছপালা সাবাড়ের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠলেও কার্যকর কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা দেখা যায়নি। রয়েছে সীমান্তবর্তী বনাঞ্চলে শিকারিদের অনুপ্রবেশ এবং বন বিভাগের নীরবতার বিষয়টিও। এই ফরেস্টকে সম্পূর্ণভাবে দখলদার মুক্ত করতে হবে। অবশিষ্ট প্রাকৃতিক বনাঞ্চলকে সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করতে হবে। বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল সুরক্ষায় বনের ভেতর কৃত্রিম বনায়নের পরিবর্তে স্থানীয় প্রজাতির উদ্ভিদ রোপণ ও প্রাকৃতিক পুনর্জীবনের ব্যবস্থা করতে হবে। ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকায় সীমানা পর্যবেক্ষণ বাড়িয়ে শিকার প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। দখলদারদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। মনে রাখতে হবে, এটি আমাদের জাতীয় পরিবেশ ঐতিহ্যের অংশ। কোনোভাবে বিলুপ্ত হতে দেওয়া যাবে না।