খেলাপি ঋণ
ড. মিহির কুমার রায়
প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২৫ ১৭:০৬ পিএম
ড. মিহির কুমার রায়
বর্তমানে ব্যাংক খাতের জন্য অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে লাগামহীন খেলাপি ঋণ। গত বছরের আগস্টে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে। এর কারণ পাঁচটি যথা এক. দেশি ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিয়মবহির্ভূত অনেক কিছু হয়েছে। দুই. ব্যাংক কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে ঋণগ্রহীতা নির্বাচনে ব্যর্থ হয়েছেন। তিন. ঋণের বিপরীতে রাখা পর্যাপ্ত জামানত, একই সম্পদ একাধিক ব্যাংকে জামানত রাখা ও জামানত বাজার মূল্যের চেয়ে বেশি দেখানো। চার. গ্রাহকের সব দলিল সংগ্রহ ও সঠিক যাচাই না করা। পাঁচ. ঋণগ্রহীতার তহবিল ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা, প্রয়োজন ও সামর্থ্যের বিচার না করে অতিরিক্ত ঋণ প্রদান, সময় সময় ঋণসীমা বাড়ানো, ঋণ তফসিলকরণ ও পুনর্গঠন সুবিধা দেওয়া ইত্যাদি। ঋণখেলাপি হলে আদায় ও বিতরণ ক্ষতিগ্রস্ত হয় যা সামষ্টিক অর্থনীতির বিবেচনায় জাতীয় আয়ে (জিডিপি) এর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তবে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় ঋণ দেওয়ার সংস্কৃতি যে ঋণখেলাপির অন্যতম কারণ তা ক্ষমতাবানরা মানতে নারাজ।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপি ঋণের সমস্যার সমাধান করার জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে কিছু ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়াসহ আর্থিক খাত সংস্কারের জন্য টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। সম্প্রতি দেশের সার্বিক হালনাগাদ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ডিসেম্বর শেষে তফসিলি ব্যাংকগুলোর মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা মোট ঋণের ২০ দশমিক ২ শতাংশ। সেপ্টেম্বর শেষে ছিল ২ লাখ ৮৫ হাজার কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ১৭ শতাংশ। জুনে ছিল ২ লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ১২ শতাংশ। জুন থেকে ডিসেম্বর, এ ছয় মাসে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১ লাখ ৩৯ হাজার কোটি টাকা। সূত্র জানান, গত সরকারের সময়ে ব্যাংক দখল করে নজিরবিহীন লুটপাট করা হয়েছে। লুটপাটের টাকার একটি বড় অংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। ফলে ওইসব ঋণ এখন আদায় হচ্ছে না। আদায় না হওয়ার কারণে ব্যাংক সেগুলো খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করছে। এতে খেলাপি ঋণ বেড়ে যাচ্ছে। খেলাপি ঋণের এ বৃদ্ধিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও আইএমএফ উদ্বেগজনক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের সমস্যা এখন অন্যতম একটি প্রধান চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য যেসব ব্যাংকে বেশি জালজালিয়াতি হয়েছে, ওইসব ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে দিয়ে নতুন পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংক খাতের জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। ওই টাস্কফোর্স ব্যাংক খাত পুনরুদ্ধার করতে কাজ করছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে চলমান সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ও কয়েকটি ব্যাংকে সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থবছরের শুরুর দিকে ব্যাংকব্যবস্থায় ব্যাপক তারল্য চাপ ছিল। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক গৃহীত নানাবিধ পদক্ষেপ এবং বিশেষ তারল্য সহায়তার কারণে ব্যাংক খাতের সার্বিক তারল্য পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি দেখা যাচ্ছে। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, জানুয়ারি শেষে ব্যাংকগুলোর তারল্য পরিস্থিতির আরও উন্নতি হয়ে অতিরিক্ত তরল সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৪৭ কোটি টাকায়, যা সেপ্টেম্বরে ১ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছিল। সংকোচনমুখী মুদ্রানীতির কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিনির্ধারণী সুদের হার বাড়ানো হয়েছে। এর প্রভাবে ব্যাংক খাতে সব ধরনের আমানত ও ঋণের সুদের হারও বেড়েছে। ঋণের সুদের হার বাড়ায় এবং সংকোচনমুখী মুদ্রানীতির কারণে একদিকে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা কমেছে। অন্যদিকে আমানতের সুদের হার বাড়ায় গ্রাহক ব্যাংকে সঞ্চয় করতে উৎসাহিত হচ্ছেন। এ ছাড়া ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও জালজালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে ব্যাংক খাতের প্রতি গ্রাহকের আস্থা কিছুটা বেড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকেও তারল্যের জোগান বাড়ানো হয়েছে। এসব মিলে ব্যাংক খাতে তারল্যের সংকট ধীরে ধীরে কমে আসছে। প্রতিবেদনে মূল্যস্ফীতির হার বাড়ার জন্য উচ্চ খাদ্যমূল্য, পণ্যের সরবরাহ চেইন বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং অভ্যন্তরীণ অসম্পূর্ণ বাজার কাঠামোকে দায়ী করা হয়েছে। এসব সমস্যা উচ্চ মূল্যস্ফীতির অন্যতম প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দেশের সার্বিক অর্থনীতি প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়, অর্থনীতির উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জগুলো সামনে রেখে মাঝারি মাত্রার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়ক ভূমিকা রাখতে কাজ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ লক্ষ্যে অভ্যন্তরীণ বাজারমূল্য বিশেষত খাদ্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রেখে পণ্যমূল্যের স্তরে স্থিতিশীলতা আনয়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জরুরি ও প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন করছে। সেগুলো বাস্তবায়নের জন্যও কাজ করছে। ফলে আগামী জুনের মধ্যে এ হার ৮ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব বলে প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন আঞ্চলিক সংঘাত, সম্ভাবনা ও সংরক্ষণবাদী বাণিজ্যব্যবস্থা দেশের অগ্রাধিকার খাতগুলোর বিকাশ বাধাগ্রস্ত করছে। এর মধ্যে রয়েছে কৃষি, রপ্তানিমুখী শিল্প, আমদানি বিকল্প শিল্প এবং কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (সিএমএসএমই) খাত। এসব খাতের বিকাশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণের ঊর্ধ্বগতির লাগাম টানার পাশাপাশি বর্তমান খেলাপি ঋণের মাত্রা হ্রাসে কার্যকর পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এছাড়া ব্যাংক খাতে তারল্য পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনা এবং আমানতকারীদের স্বার্থসুরক্ষা ও আস্থা পুনরুদ্ধারসহ আর্থিক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের সঙ্গে সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে ঋণখেলাপির ঊর্ধ্বগতিতে লাগাম টানতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আবারও বড় ছাড় দিয়েছে। নতুন নির্দেশনায় এক্সিট সুবিধার শর্ত শিথিল করা হয়েছে, যাতে ঋণখেলাপিরা আগের চেয়ে কম ডাউন পেমেন্ট দিয়েই এ সুবিধা নিতে পারেন। সার্কুলারে বলা হয়েছে, এখন থেকে বিদ্যমান ঋণের ন্যূনতম ৫ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট নগদ পরিশোধ করলেই এক্সিট সুবিধার জন্য আবেদন করা যাবে, যা আগে ছিল ১০ শতাংশ। এ ছাড়া ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের ক্ষমতা বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকার পরিবর্তে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের এক্সিট সুবিধা অনুমোদনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এক্সিট সুবিধাপ্রাপ্ত ঋণ যদি নির্ধারিত কিস্তি অনুযায়ী পরিশোধ না হয় এবং তা খেলাপিতে পরিণত হয়, তাহলে কোনো অবস্থায়ই তা পুনঃ তফসিরিকরণ বা পুনর্গঠন করা যাবে না। ব্যর্থ হলে ঋণ আদায়ের জন্য আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ঋণগ্রহীতার আবেদন পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নিতে হবে বলে সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক খাতের আরও একটি বিষফোড়া হলো খেলাপি ঋণ যার কোনো সমাধান স্বল্পমেয়াদে সম্ভব হয়ে উঠছে না, কেবল রাজনৈতিক সদিচ্ছার কারণে যা আর্থিক খাতের জন্য এক মহাবিপদ সংকেত। সরকারের উপদেষ্টা অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ঋণখেলাপি দেশের অর্থনীতির জন্য খুবই আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বিশেষ করে ঋণখেলাপিদের শাস্তি দেওয়ার আলোচনা এলেই একটা বিভাজন সরকারের তরফ থেকে করা হয় সেটি হলো ইচ্ছাকৃত ও অনিচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি। কিন্তু কে যে ইচ্ছাকৃত আর কে নয়, তার কোনো সুরাহা হয়নি। তবে সরকারর চাইলে এর সমাধান সম্ভব। বিগত সরকারের আমলে ব্যাংক ও আর্থিক খাত ছিল সবচেয়ে ভুক্তভোগী। সুশাসন ও শৃঙ্খলার অভাব এতটাই যে স্বাধীনতার পর বিগত ৫৪ বছরে এ দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাত এত বেশি সমস্যার মুখোমুখি আর কখনো হয়নি। নানা রকম অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। ঋণ জালিয়াতি, অবৈধ অর্থ পাচার থেকে শুরু করে শেয়ারবাজারে কারসাজিসহ অর্থনীতির প্রায় প্রতিটি খাতেই চলেছে দুর্বৃত্তপনা। তারল্যসংকটে পড়েছিল রাষ্ট্রায়ত্ত থেকে শুরু করে আধাসরকারি ও বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক। এখন খেলাপি ঋণ আদায়ে যেসব বিষয় সুবিবেচনায় আনার প্রয়োজন তা হলো- প্রথমত. ঋণ বিতরণ ও আদয়ে সমতা বিধান করা। ঋণ বিতরণ যদি স্বচ্ছতার সঙ্গে উৎপাদনশীল খাতে হয় তাহলে আদায়ের অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। এ ব্যাপারে ব্যাংকার কাস্টমারের নৈতিকতার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। যারা অসাধুতাকে অংশীদারির ভিত্তিতে পরিচালিত করে তারা উভয়েই সমান দোষী। এ ব্যাপারে প্রথমে ব্যাংকারদের সতর্ক হতে হবে এবং পরবর্তী সময়ে গ্রহকদেরও এ পথ অনুসরণ করতে হবে।
দ্বিতীয়ত. দেশের বেসরকারি ও সরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক সাধারণত আর্থিক বাজারের অংশ হিসেবে স্বল্পমেয়াদে গ্রহীতাদের ঋণের চাহিদা পূরণ করার কথা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, এ ব্যাংকগুলো দীর্ঘমেয়াদে ৪-৫ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ দিয়েছে; যার বেশিরভাগ খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছে। এখন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো নিয়মনীতি ভঙ্গ করে ঋণ দেওয়া এবং ঋণ খেলাপি হওয়ার মতো একটি যাতনা বয়ে বেড়াচ্ছে যার ফল তারল্যসংকট, মুনাফার ঘাটতি ও ইমেজসংকট। অথচ দীর্ঘমেয়াদে বৃহদাকার ঋণ প্রদানের জন্য বিশেষায়িত ব্যাংক যেমন বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল), বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (বিকেবি), বেসিক ব্যাংক, রাকাব ইত্যাদি রয়েছে যারা সরকারি ব্যাংক হিসেবে সরকারের সাহায্যপুষ্ট হয়ে বেশি সময়ের অর্থায়নে অংশ নিতে পারে। এ অসঙ্গতিগুলো দূর করা প্রয়োজন।
তৃতীয়ত. ব্যাংকিং খাতের বৃহদাকার ঋণগুলোর স্বচ্ছতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন না হওয়ায় অলাভজনক খাতেও ঋণ বিনিয়োগ হচ্ছে; যা পরবর্তী সময়ে খেলাপিতে পরিণত হয়। আবার রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেক লোন মঞ্জুর করা হয় যার বেশিরভাগ অনুৎপাদশীল খাতে চলে যায়; যার পরিণতি হয় খেলাপি ঋণ। এখন গণতান্ত্রিক সমাজে রাজনীতি সব ক্ষেত্রে বিচরণ করলেও অন্তত ব্যাংকিংয়ের মতো সেবাধর্মী আর্থিক খাতটি রাজনীতিমুক্ত রাখা যায় না কেন? এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকিং খাতের অভিভাবক হিসেবে তার সঠিক দায়িত্ব পালন করতে পারে না কেন?
চতুর্থত. ঋণ মওকুফ, ঋণের পুনঃ তফসিলিকরণ, ঋণের অবলোপন ইত্যাদি বিষয় এখন খুবই ক্ষতিকর ও অলাভজনক। এখন ব্যাংকও ঢালাওভাবে সবাইকে সুযোগ দিতে পারে না। কিংবা ঢালাওভাবে বিবেচনায়ও আনতে পারে না। কিন্তু জায়গাটিতে ব্যাংকার কিংবা ব্যাংকিং সুশাসনের অভাব পরিলক্ষিত হয় যা কোনোভাবেই প্রতিষ্ঠিত করা যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিসহায়তা, প্রশাসনিক সমর্থন ইত্যাদি তফসিলি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য খুবই জরুরি। সর্বশেষ বলা যায় সরকার যদি সচেষ্ট হয় তবে সামাজিকভাবে এসব খেলাপি ঋণের মোকাবিলা করা সম্ভব আবার প্রশাসনিকভাবেও সম্ভব। এখন কোনটি ভালো হবে তা কর্তৃপক্ষ ভেবে দেখবেন। তবে সমস্যার অবশ্যই শান্তিপূর্ণ সমাধান চাই ব্যাংকিং শিল্পের স্বার্থে।