× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বিনিয়োগসহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২৫ ১৭:০৮ পিএম

বিনিয়োগসহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক

বাংলাদেশের কাছে বিশ্বকে বদলে দেওয়ার মতো দুর্দান্ত সব আইডিয়া রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে ব্যবসার ভালো সুযোগ রয়েছে। এ ব্যবসা শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, সারা পৃথিবীর জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে। গত বুধবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশ বিনিয়োগ সম্মেলন-২০২৫-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উল্লেখ্য, ৭ এপ্রিল শুরু হওয়া চার দিনের এ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াসহ ৪০ দেশের ৬ শতাধিক বিনিয়োগকারী ও প্রতিনিধি এতে অংশ নিয়েছেন। সম্মেলনে দেশের ২ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠানও অংশ নেয়। উদ্বোধনীতে বাংলাদেশ স্টার্টআপ কানেক্ট-২০২৫ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাস্তবতায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) ব্যবস্থাপনায় এ সম্মেলন আয়োজন। সম্মেলনের প্রথম দিন চট্টগ্রামে দুটি অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শনে গেছেন প্রায় ৬০ জন বিনিয়োগকারী; আর ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে হয়েছে উচ্চপর্যায়ের প্লেনারি অধিবেশন। আশা করছি এ বিনিয়োগ সম্মেলনে নেওয়া সব উদ্যোগ সফল হবে।

এমনি এক বাস্তবতায় ৯ এপ্রিল প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ ‘বিশাল বিনিয়োগের দুয়ার খুলছে’ শিরোনামে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে আশার বাণী। প্রতিবেদন বলছে, পাঁচটি বিকাশমান অর্থনীতির জোট ব্রিকসের উদ্যোগে গঠিত নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এনডিবি) আগামী এক বছরে বাংলাদেশকে ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ডলার তহবিল সহায়তা দেবে। সংস্থাটি ইতোমধ্যে বাংলাদেশে ৩০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ব‍্যবসায়ীরাও অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। চীনসহ বহু দেশ বিনিয়োগের আশ্বাস দিয়েছে। এর মাধ্যমে দেশে বিশাল বিনিয়োগের দুয়ার খুলতে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে বিস্তারিত ব্রিফিং করেন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। তিনি আরও জানান, ব্রিকসের ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করে বাংলাদেশ সম্পর্কে অনেক পজিটিভ ধারণা প্রকাশ করেছেন। তারা শুধু সরকারি খাত নয়, বেসরকারি খাতেও অর্থায়ন করতে চান। সম্মেলনে দেশের নতুন উদ্যোক্তাদের অর্থায়নের জন্য ৮০০ থেকে ৯০০ কোটি টাকার একটি তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। এ তহবিলের মাধ্যমে অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তিকরণে পিছিয়ে থাকা উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত সম্ভাবনা ও প্রয়োজনীয়তার বিষয়গুলো দেখা হবে।

বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য আমরা প্রতিনিয়ত নানা প্রচেষ্টার কথা বলি। দৃশ্যমান/অদৃশ্যমান উদ্যোগ বা আয়োজনেরও কমতি হয় না। দেশে-বিদেশে প্রতিনিয়ত সফর, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, রোড শো- মতো আয়োজনেরও ব্যবস্থা থাকে। এমনকি কোনো দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান, মন্ত্রী পর্যায়ভুক্ত ব্যাক্তি, এমনকি নতুন রাষ্ট্রদূত এলেও তাদের কাছেও বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। কিন্তু অপ্রিয় হলেও সত্যি, বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাশা অনুযায়ী হচ্ছে না। আমরা পিছিয়ে রয়েছি দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর তুলনায়। কেন এমন পরিস্থিতি? সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের বেসরকারি খাতবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশনের (আইএফসি) প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বাংলাদেশে ব্যবসায় পরিবেশ তথা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এখনও বাধা বিদ্যুতের সমস্যা, অর্থায়নের সীমিত সুযোগ, দুর্নীতি, অনানুষ্ঠানিক খাতের আধিক্য ও উচ্চ করহার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ অনুকূলে নয়। অতীতের সরকারগুলো ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের কথা দিয়ে কথা রাখেনি। ইউটিলিটি ঠিকমতো পাওয়া যেত না। যখন তখন ভ্যাট-ট্যাক্স বাড়ানো হতো। ছিল হয়রানি ও সীমাহীন দুর্নীতির বিষয়টিও। 

এ কথা স্বীকার করতেই হবে, গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। সরকারের পতন হলেও এখনও কাটেনি অস্থিরতা ও নানামুখী ষড়যন্ত্র। রাজনৈতিক পরিবেশ ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় দেশে বিগত কয়েক বছরের তুলনায় সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে বিদেশি বিনিয়োগ। দেশি বিনিয়োগেও অনীহা দৃশ্যমান। রয়েছে গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানির সংকট। সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিও ব্যবসার জন্য একটি বড় প্রতিবন্ধক হয়ে দেখা দিয়েছে। বরাবরের মতো এবারও বিনিয়োগকারীদের ভাষ্যে নানা বিষয় উঠে এসেছে। বাংলাদেশে ব্যবসা করলে কী ধরনের সুবিধা দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে যারা ব্যবসায়ী আছেন তারা কী ধরনের সমস্যা ফেস করছেন, সেগুলো উত্তরণে তাদের কী করতে হবে- এসব নানা প্রশ্ন। জানা গেছে, প্রধান উপদেষ্টাসহ সরকারের দায়িত্বশীলরা সব ধরনের নিশ্চয়তাসহ বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ার প্রতিশ্রুতির কথা তাদের বলেছেন।

দেশে প্রতিনিয়ত কর্মক্ষম জনসংখ্যা বাড়ছে। বেকারের সংখ্যায় উল্লম্ফন ঘটছে। এ অবস্থায় বিনিয়োগ বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। কারণ বিনিয়োগ বা কলকারখানা বাড়লেই কর্মসংস্থান বাড়বে। এজন্য বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি করা জরুরি। মনে রাখতে হবে, বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত না হলে, স্থানীয় বিনিয়োগ না বাড়লে বিদেশি বিনিয়োগও আকৃষ্ট হবে না। আমরা মনে করি, শুধু বক্তৃতা বা বিবৃতি দিলেই বিনিয়োগের পরিবেশের উন্নতি হবে না। বিনিয়োগসহায়ক পরিবেশও তৈরি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক, আমলাতান্ত্রিক ও অবকাঠামোগত যেসব সমস্যা আছে, তার সমাধানে সরকার সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, এটাই প্রত্যাশিত।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা