× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

অপরাধ দমনে ডিএনএ টেস্ট

মাহফুজ হক

প্রকাশ : ২৩ মার্চ ২০২৫ ১২:৪৭ পিএম

প্রবা গ্রাফিক্স

প্রবা গ্রাফিক্স

দেশে অপরাধ দমনে বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। ডিএনএ (ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড) টেস্ট এর মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অপরাধের তদন্তে ডিএনএ বিশ্লেষণের ব্যবহার অপরাধী শনাক্তকরণ ও নির্দোষ ব্যক্তির মুক্তি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। ডিএনএ মানুষের বংশগতির তথ্য ধারণকারী একটি অণু; যা জীবের শারীরিক ও মানসিক বৈশিষ্ট্য নির্ধারণে সহায়ক। এ প্রযুক্তি অপরাধ দমনে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ডিএনএ টেস্টের একটি প্রধান সুবিধা হলো এটি অপরাধী শনাক্তকরণে সাহায্য করে। ধর্ষণ, হত্যাকাণ্ড বা সিরিয়াল অপরাধের ক্ষেত্রে সরাসরি সাক্ষী না থাকলেও ডিএনএ প্রমাণের মাধ্যমে অপরাধীকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো অপরাধী অপরাধের জায়গায় রক্ত ফেলে যায় বা অন্য কোনো শারীরিক উপাদান রেখে যায় তবে সেই স্যাম্পল পরীক্ষা করে অপরাধীকে চিহ্নিত করা যায়।

ডিএনএ টেস্ট একটি সায়েন্টিফিক পদ্ধতি, যা অপরাধের স্থান থেকে সংগৃহীত বিভিন্ন প্রমাণ যেমন রক্ত, লালা, চুল বা ত্বক থেকে স্যাম্পল নিয়ে তা বিশ্লেষণ করে। স্যাম্পলটি দ্বারা বিশ্লেষণ করে অপরাধী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঠিক পরিচয় নির্ধারণ করা হয়। এর ফলে অপরাধী শনাক্ত এবং প্রমাণের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হয়। এর মাধ্যমে হত্যা, ধর্ষণ, চুরি এবং অন্যান্য গুরুতর অপরাধের তদন্তে সহায়তা পাওয়া যায়। অনেক ক্ষেত্রে ডিএনএ টেস্ট নির্দোষ ব্যক্তির মুক্তির পথও উন্মুক্ত করে দেয়। ভুল মামলায় যেসব মানুষ কারাগারে বন্দি ছিল, ডিএনএ পরীক্ষা করে তাদের নির্দোষিতা প্রমাণ করা সম্ভব হয়েছে। 

বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশে ডিএনএ ডেটাবেস তৈরি করা হয়েছে। এ ডেটাবেসে অপরাধীদের ডিএনএ সংরক্ষিত থাকে। ভবিষ্যতে যদি একই ধরনের অপরাধ ঘটে এবং সে অপরাধের স্থান থেকে ডিএনএ স্যাম্পল পাওয়া যায়, তা ওই ডেটাবেসের সঙ্গে মিলিয়ে অপরাধী শনাক্ত করা যায়। এটি বিশেষভাবে সিরিয়াল অপরাধীদের জন্য কার্যকর, যারা একাধিক অপরাধে জড়িত থাকে।

যদিও ডিএনএ টেস্ট অপরাধ দমনে অত্যন্ত কার্যকর, তবে এর কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সঠিক স্যাম্পল সংগ্রহ করা সব সময় সম্ভব হয় না। অনেক সময় প্রমাণ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে অথবা অপরাধীর ডিএনএ প্রমাণের সঙ্গে মেলে না। এ ছাড়া ডিএনএ পরীক্ষার জন্য বড় ধরনের ল্যাবরেটরি সুবিধা এবং অর্থের প্রয়োজন হয়, যা প্রতিটি অপরাধ তদন্তের ক্ষেত্রে সহজে প্রাপ্য নয়। ডিএনএ টেস্ট অপরাধ দমনে এক বিপ্লবী প্রযুক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এটি অপরাধী শনাক্তকরণ, নির্দোষ ব্যক্তির মুক্তি এবং তদন্তে সহায়তা প্রদান করে। যদিও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তবে সঠিকভাবে প্রয়োগ করলে ডিএনএ টেস্ট অপরাধ দমন ব্যবস্থার একটি অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠবে। ভবিষ্যতে এটি আরও উন্নত হবে এবং অপরাধের প্রতিকার আরও দ্রুত ও সঠিকভাবে করা সম্ভব হবে।

  • প্রতিদিনের বাংলাদেশের পাঠক
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা