× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

খট খট শব্দে মুখর টাঙ্গাইলের তাঁতপল্লী

অরণ্য ইমতিয়াজ, টাঙ্গাইল

প্রকাশ : ২০ মার্চ ২০২৫ ১১:৫২ এএম

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল তাঁতপল্লীতে শাড়ি বুননে ব্যস্ত এক কারিগর। প্রবা ফটো

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল তাঁতপল্লীতে শাড়ি বুননে ব্যস্ত এক কারিগর। প্রবা ফটো

শাড়িতেই যেন নারীর সৌন্দর্য। বাঙালি নারীর সৌন্দর্য শাড়ি যত নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলে অন্য কোনো পোশাকে সেটা প্রকাশ পায় না। আধুনিকতার ছোঁয়াতেও শাড়ির প্রতি বাঙালি নারীদের রয়েছে অনেক দুর্বলতা। কোনো উৎসবে তাই নারীর প্রথম পছন্দ শাড়ি। আর শাড়ির প্রসঙ্গ উঠতেই চলে আসে টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ির নাম। 

ঈদ সামনে রেখে শাড়ির চাহিদা বেড়ে যায় অনেক। তাই বছরের অন্য সময়ের চেয়ে ঈদ মৌসুমে শাড়ি তৈরি করতে হয় অনেক বেশি। গ্রাহকের চাহিদা পূরণ করতে রমজান শুরু হতেই শাড়ি তৈরির ধুম পড়ে যায় তাঁতপল্লীতে। 

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার বিখ্যাত পাথরাইল ছাড়াও এ উপজেলার চন্ডী, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কেস্টপুর নতুনপাড়া, ঘারিন্দা, কালিহাতী উপজেলার বল্লা, রামপুরসহ টাঙ্গাইলের তাঁতসমৃদ্ধ এলাকায় শাড়ি তৈরি হচ্ছে। এসব এলাকা এখন তাঁত বুননের খট্ খট্ শব্দে মুখর। তাঁতের কারিগররা এখন মহাব্যস্ত। সকাল থেকে সন্ধ্যা এমনকি রাতেও তারা শাড়ি বুননে ব্যস্ত সময় পার করছেন। 

টাঙ্গাইল শহরের কেন্দ্রস্থল নিরালা মোড় থেকে মাত্র সাত কিলোমিটার দক্ষিণে পাথরাইল গ্রাম। রাস্তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দুই পাশ থেকেই ভেসে আসে তাঁত বুননের খট্ খট্ শব্দ। তাঁত কারিগররা দিন-রাত পরিশ্রম করে তৈরি করছেন শাড়ি। আর সেই শাড়ি বিক্রির জন্য তোলা হচ্ছে দোকানে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকারি ক্রেতারা শাড়ি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, লন্ডন, ইতালি, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশেও যাচ্ছে টাঙ্গাইল শাড়ি। তাদের চাহিদা পূরণ করতেই তাঁত কারিগরদের এত ব্যস্ততা।

তাঁতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্যমতে, নব্বই দশকের হিসাব অনুযায়ী টাঙ্গাইলের কুটিরশিল্পের তাঁতগুলো তাঁতিদের বাড়ির অভ্যন্তরে বসানো হতো। এর মধ্যে ৭২ শতাংশ পাঁচটি তাঁতের সমন্বয়ে গঠিত, ১১ শতাংশ তাঁত ৬ থেকে ১০টি তাঁতের সমন্বয়ে গঠিত, ৬ শতাংশ তাঁত ১১ থেকে ১২টি তাঁতের সমন্বয়ে গঠিত এবং অবশিষ্ট ১১ শতাংশ বারোটির অধিক তাঁতের সমন্বয়ে গঠিত। ১৯৯২ সালের হিসাব অনুযায়ী টাঙ্গাইল জেলায় ১ লাখের অধিক তাঁত ছিল এবং তাঁতির সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৫০ হাজার। ২০০৮ সালে ১ লাখ ছোটবড় কারখানায় ৩৭ হাজার ২২২টি তাঁত এবং ৭০ হাজার তাঁতি ছিল। ২০১৩ সালের শুমারিতে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, টাঙ্গাইল জেলায় ওই সময়ে ৬০ হাজার তাঁত ছিল। এর মধ্যে ৮ হাজার ৩০৫টি পিট তাঁত, ৫১ হাজার ১৪১টি চিত্তরঞ্জন তাঁত এবং ৮৯২টি পাওয়ারলোম তাঁত। সেই ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্পের তাঁতের সংখ্যা কমে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ৪০২টি।

দফায় দফায় সুতার দাম বৃদ্ধি এবং কারিগরের অভাবে এ শিল্প আগের অবস্থায় নেই। তারপরও রমজান এলে তাঁতিরা নতুন করে স্বপ্ন দেখে। ঈদকে কেন্দ্র করে শাড়ির চাহিদা বেড়ে যায় অনেক। তাই রমজানে ধুম পড়ে যায় শাড়ি তৈরিতে। এখন ক্রমেই এগিয়ে আসছে ঈদ। তাঁতপল্লীর বিক্রয় কেন্দ্রগুলোতে সারি সারি গাড়ি এসে ভিড় করছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসছেন খুচরা ও পাইকারি ক্রেতারা। 

পাথরাইলের তাঁতিরা জানান, টাঙ্গাইল শাড়ির চাহিদা একসময় তুঙ্গে ছিল। নানা সমস্যার কারণে এখন সে অবস্থা নেই। হস্তচালিত তাঁতে শাড়ি বানাতে বেশি সময় লাগে। সে অনুযায়ী কারিগরদের মজুরি দেওয়া যায় না। ফলে কারিগররা চিত্তরঞ্জন ও পাওয়ারলুমের দিকে ঝুঁকছে। মহাজনদের কাছ থেকে সুতা, তানা এনে কারিগর দিয়ে শাড়ি বানাই। শাড়ি তৈরি করে মহাজনদের দেই। তারাই বিক্রি করেন। সে ক্ষেত্রে আমরা ক্ষুদ্র মজুরি পাই। ইচ্ছা করলেই আমরা কারিগরদের মজুরি বাড়াতে পারি না। এর প্রভাব শাড়িতে পড়ছে। তারপরও নারীদের তাঁতের শাড়ির প্রতি আলাদা দৃষ্টি তো রয়েছেই।

কারিগর সুমন বসাক বলেন, ঈদ এলে সময় পাওয়া যায় না, এত ব্যস্ত থাকতে হয়। সারা দিন তাঁতে বসে কাটে। অন্য সময়ের চেয়ে অনেক বেশি পরিশ্রম হয়। এ সময় আমরাও বেশি কামাইয়ের জন্য বেশি বেশি শাড়ি তৈরির চেষ্টা করি। আগে থেকে আমাগো কাম (কাজ) বাড়ে। রোজা শুরু হইলে দিন-রাত নাই, কাজ করতে হয়। খুব চাপ থাকে তখন। অনেক রঙ ও ডিজাইনের শাড়ি আমরা বানাই। তাঁতের শাড়ি মানুষ পছন্দ করে বেশি। 

কারিগররা জানান, তাদের প্রতি শাড়ি তৈরিতে একটা নির্দিষ্ট হারে মজুরি দেওয়া হয়। তবে দক্ষতার ওপর নির্ভর করে মজুরি কমবেশি হয়ে থাকে।

টাঙ্গাইল তাঁতশিল্প মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি ও যত্তোশ্বর অ্যান্ড কোং-এর স্বত্বাধিকারী রঘুনাথ বসাক বলেন, ঈদ এলে টাঙ্গাইল তাঁতের শাড়ির কদর অন্য সময়ের চেয়ে অনেক বেড়ে যায়। এ শাড়ি পরে নারীরা যত আনন্দ পায়, অন্য শাড়িতে সেটা পাওয়া যায় না। সেদিক বিবেচনা করেই প্রতিবছর শাড়ির ডিজাইনে বৈচিত্র্য ও নতুনত্ব আনার চেষ্টা করা হয়। তাঁতের শাড়ির ডিজাইন ও গুণগত মান অনেক ভালো। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা