× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সম্পাদকীয়

গতির সঙ্গে প্রগতিও আসুক

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ২০ মার্চ ২০২৫ ১১:১৭ এএম

প্রবা গ্রাফিক্স

প্রবা গ্রাফিক্স

দেশের যোগাযোগব্যবস্থায় আরেকটি নতুন পালক যুক্ত হলো যমুনা রেলসেতু উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে। উত্তরবঙ্গের ১৬ জেলার মানুষের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান এটা। এতে উত্তর জনপদের যোগাযোগ, বাণিজ্য ও অর্থনীতিতেও নতুন দিগন্তরেখা সূচিত হলো। যা অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ পেল। সহজ করে বললে, সম্ভাবনাময় অগ্রযাত্রার পথে গতির সঙ্গে প্রগতির ছোঁয়া পেল উত্তরের জনপদ। সাম্প্রতিক সময়ে পদ্মা সেতুতে রেলসংযোগের ফলে বদলে গেছে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা। পদ্মার পর এবার যমুনায় রেলসেতু নির্মাণে বদলে যাবে উত্তর-দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগÑ এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়। পরিসংখ্যান বলছে, দেশে ৩ হাজারের বেশি রেলওয়ে সেতু রয়েছে। আগে দেশের সবচেয়ে বড় রেলওয়ে সেতু ছিল পাবনার পাকশীর শতবছরের পুরোনো হার্ডিঞ্জ ব্রিজ। বর্তমানে যমুনার ওপর নির্মিত সেতুটি খুলে দেওয়ায় এটিই দেশের বৃহত্তম রেলওয়ে সেতু।

১৮ মার্চ প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ ‘উত্তরের পথে গতির ছোঁয়া’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রেলসেতুর পূর্ব প্রান্তের ইব্রাহিমাবাদ রেলস্টেশন থেকে ফলক উন্মোচন, ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে সেতুটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব এম ফাহিমুল ইসলাম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানি রাষ্ট্রদূত সাইদা সিনিচি এবং জাইকার দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক মহাপরিচালক মি. ইতো তেবুয়েকি। রেলপথ সচিব গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘যমুনা বহুমুখী সেতু ১৯৯৮ সালে চালু হলেও রেলের জন্য আলাদা সেতুর প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়। এ কারণে নতুন এ ডেডিকেটেড রেলসেতু নির্মাণ করা হয়েছে। আগে সেতু দিয়ে ট্রেনের গতি ছিল ঘণ্টায় ২০ কিলোমিটার, যা এখন বেড়ে ১২০ কিলোমিটার হয়েছে। সেতু পার হতে লাগবে মাত্র ৩ মিনিট। ডাবল লাইন চালু হওয়ায় ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোয় রেল যোগাযোগ আরও গতিশীল হবে। এ ছাড়া পণ্যবাহী ট্রেনও চলাচল করতে পারবে, যা রেলের আয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।’ জানা গেছে, যমুনা নদীর বিদ্যমান সেতুর ৩০০ মিটার উজানে সেতুটি নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে ১৬ হাজার ৭৮০.৯৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি (জাইকা) ৭২.৪০% অর্থায়ন করেছে। সেতুর মোট দৈর্ঘ্য ৪.৮ কিলোমিটার, পিলার সংখ্যা ৫০টি এবং স্প্যান ৪৯টি। প্রকল্পটির কাজ ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। আরও জানা গেছে, রেলসেতু চালু হওয়ায় ঢাকা থেকে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের রেলযাত্রার সময় ৩০ মিনিটের বেশি কমবে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালে যমুনা নদীর ওপর সড়কসেতু চালু হয়। ওই সেতুতে শেষ মুহূর্তে রেল ট্র্যাক যুক্ত করা হয়। এর মাধ্যমে ঢাকার সঙ্গে সরাসরি উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রেল যোগাযোগ স্থাপিত হয়। তবে ২০০৬ সালে সেতুটিতে ফাটল দেখা দেওয়ার পর সেতুর ওপর দিয়ে ট্রেন চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। তখন থেকে সেতু দিয়ে ঘণ্টায় ২০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচল করত। পরে দীর্ঘ নতুন এই রেলসেতুটি নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয় ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে। জাপান ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে। প্রকল্পের নকশা প্রণয়নসহ সেতুর নির্মাণ ব্যয় প্রথমে ধরা হয়েছিল ৯ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা। ২০২৩ সালের মধ্যে এর কাজ শেষ করার কথা ছিল। পরে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ১৬ হাজার ৭৮০ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। মেয়াদ বাড়ানো হয় ২০২৫ সাল পর্যন্ত।

জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও আর্থবৈষম্য নিরসনে ভারসাম্যমূলক সমৃদ্ধির অগ্রভাগে যেকোনো দেশের যোগাযোগব্যবস্থা। আর রেলপথ হচ্ছে যোগাযোগের অন্যতম সাশ্রয়ী, সহজ, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব মাধ্যম। এতে মানুষের সহজ যাতায়াত যেমন নিশ্চিত হয়, তেমন জনপদের ব্যবসাবাণিজ্যসহ সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন হয়। সে অর্থে বলা যায়, যমুনা রেলসেতু উত্তরবঙ্গ থেকে পণ্য পরিবহনব্যবস্থা সহজ করবে, কমবে পণ্য পরিবহন খরচ, যা এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সামাজিক জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। এমনকি আমাদের দেশের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের বড় অংশই স্থলবন্দরগুলোর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এসব স্থলবন্দরের অধিকাংশের অবস্থান দেশের উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার সীমান্তে। এসবের মধ্যে বেনাপোল ও বুড়িমারী স্থলবন্দর অন্যতম। এ ছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর ও ভারতের মালদহের মধ্যে রেলপথে পণ্য পরিবহনে রেল নেটওয়ার্ক রয়েছে। এ পথেও বিপুল পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়। যমুনা রেলসেতু চালু হওয়ায় এ পণ্য আমদানি-রপ্তানির পরিধি আরও বাড়বে বইকি।

একটা সেতুর গুরুত্ব মানে ওই অঞ্চলসহ সমগ্র দেশের সমৃদ্ধি। এ সেতু চালু হওয়ায় এখন থেকে যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী রেল নিয়মিত চলাচল করবে। এতে মহাসড়কগুলোর ওপরও চাপ অনেকটা কমে আসবে। কমে যাবে পরিবহনের খরচও। এ কথা সত্য, এতদিন এ পথে যে বিড়ম্বনা ছিল, তা-ও আর থাকছে না। আমরা মনে করি শুধু ঢাকা নয়, গুরুত্ব বিবেচনায় এ সেতু অন্যান্য জেলার অংশের সঙ্গে যুক্ত করা জরুরি। এটা করা গেলে সেতুকেন্দ্রিক সাফল্যের পরিধি আরও বাড়বে, দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা