পরিপ্রেক্ষিত
তৌহিদা আক্তার
প্রকাশ : ২০ মার্চ ২০২৫ ১১:০৫ এএম
প্রবা গ্রাফিক্স
সাম্প্রতিক সময়ে বেশি ধর্ষণের শিকার হচ্ছে মেয়েশিশুরা। কোনো কোনো স্থানে ছেলেশিশুদেরও বলাৎকারের কথা শোনা যায়। এর কারণ কী হতে পারে? আমার মতে মানবিক মূল্যবোধের অনুপস্থিতি এর জন্য চরমভাবে দায়ী। যে পুরুষ ধর্ষণ করছে তার মানবিক মূল্যবোধের জায়গাটুকু কতটা বিকৃত মানসিকতার, তা ভাববার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে আমি মনে করি।
যে ধর্ষণ করছে তার যেমন সঠিক বিচারের প্রয়োজন, তেমন এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না হয় সেদিকে মনোযোগ দেওয়া ততোধিক প্রয়োজন। এ কাজটি যেমন জঘন্য অপরাধ, তেমন একটি মানসিক বিকৃত রোগও বটে। তাই ধর্ষককে তার সাজা কার্যকরের আগে মনোচিকিৎসক বা গবেষকের মাধ্যমে কারণ অনুসন্ধান করা দরকার, কেন তারা এমন পৈশাচিক বিকৃতিতে আসক্ত। যখন কারণ জানা যাবে তখনই কেবল সম্ভব এ ধরনের পাপ থেকে বিকৃত মানুষদের ফিরিয়ে আনা।
এসব ক্ষেত্রে দেখা যায়, অপরাধীর অতীতে এমন কিছু ঘটনা থাকে যা তাকে এমন নিন্দনীয় অপরাধের দিকে ধাবিত করে। মোদ্দা কথা, অপরাধীর পারিবারিক, সামাজিক, পারিপার্শ্বিক অবস্থান সম্পর্কে বিশ্লেষণ করতে হবে। তবে সবার একই রকম সমস্যা যে থাকবে তা নয়, বিভিন্ন অপরাধীর ঘটনা বিভিন্ন রকম হবে এটাই স্বাভাবিক। তাই পারিবারিক বা সামাজিকভাবে প্রভাবিত সমস্যাগুলো পারিবারিক বা সামাজিকভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব। শিশু বয়স থেকেই সচেতনতামূলক প্রতিকারের পন্থা অবলম্বন করতে হবে। যেমন বর্তমান সময়ে শিশুদের ভালো স্পর্শ ও খারাপ স্পর্শ শেখানো হয়; তেমনি তাদের নিজের শরীরের স্পর্শকাতর মুহূর্তে নিজেকে কীভাবে সংযত করতে হবে সে ব্যাপারেও তাদের বিভিন্ন উপায়ে সচেতন করতে হবে। আর এ বিষয়গুলো মাধ্যমিক স্কুলে শুরু করা উচিত। তেমনি করে পুরুষ শিশুটিকে যদি তাদের জৈবিক চাহিদা নিয়ন্ত্রণ করার কোনো কর্মশালা করা যায় এবং তাতে তাদের খারাপ ও ভয়াবহতা সম্পর্কে শেখানো হয় তাহলে ভবিষ্যতে ধর্ষণের মতো অপরাধের মাত্রা অনেক কমে আসবে। এ ধরনের কর্মশালা সরকারিভাবে ও বিভিন্ন এনজিওগুলো সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারবে। কারণ এনজিওগুলো খুব সহজেই সাধারণ মানুষের সান্নিধ্যে যেতে পারে।
আবারও বলছি, এ ধরনের বিকৃত মানসিকতা দূর করতে দরকার অপরাধীদের মস্তিষ্ক নিয়ে গবেষণা। এ ধরনের গবেষণা থেকেই বেরিয়ে আসবে অপরাধের কারণসমূহ। আর কারণগুলো যখন বেরিয়ে আসবে তখন সেভাবেই আমাদের পদক্ষেপগুলো সাজিয়ে সমাজের প্রতিটি মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরি করতে হবে, সেটা তাদের সন্তানের জন্য। কারণ ধর্ষণের ফল কিন্তু শুধু ভিকটিমই সাফার করে না, সেই ধর্ষকের পরিবারও কিন্তু সাফার করে। কারণ এখন মিডিয়ার যুগ, মিডিয়াই সব উন্মোচন করে দেয় পুরো জাতির সামনে। তাই প্রতিটি পরিবারকে বোঝাতে হবে আপনার পরিবারের ছেলেশিশু যেন ভবিষ্যতে এমন কোনো জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে না যায়। এজন্য তাদের প্রতি যত্ন নিতে হবে। এত গেল শিক্ষিত শ্রেণির কথা, এবার আশা যাক নিম্নশ্রেণির যারা আচরণ দেখে বুঝতে পারবে না হয়তো সে ক্ষেত্রে তাদের জন্য প্রয়োজন জনসচেতনতা তৈরি করে বোঝানো। এ শ্রেণির কাছে খুব সহজে পৌঁছানোর মাধ্যম হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয়। এদের জন্য সরকারকে বাধ্যতামূলক উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে। যেন তাদের পাঠ্যবইয়ে ধর্ষণের বিরুদ্ধে কিছু উপদেশ দেওয়া থাকে। পাশাপাশি ধর্ষণের বিরুদ্ধে যে আইন আছে তার যথাযথ প্রয়োগ দরকার। আমি মনে করি, সামাজিক প্রতিরোধ ও আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমেই ধর্ষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো সম্ভব।