প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০২৫ ১০:৪৯ এএম
প্রবা গ্রাফিক্স
ধর্ষণ একটি গুরুতর সামাজিক ব্যাধি। এ নিষ্ঠুর ও বর্বরতম কাজটি মানুষের মৌলিক অধিকার ও সম্মান ভয়াবহভাবে লঙ্ঘন করে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে আশঙ্কাজনক হারে ধর্ষণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিশু থেকে বয়স্ক কেউ ধর্ষক নামক পশুদের থেকে রেহাই পাচ্ছে না। প্রায় প্রতিদিনই পত্রিকায় উঠে আসছে ধর্ষণের বীভৎস চিত্র। ধর্ষণের ভয়াবহতায় মানুষ আঁতকে উঠছে। ধর্ষণের ভয়াবহতা এমন পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে যে নারী পারিবারিকভাবে নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। তার একা বাইরে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
চারদিকে এমন বিভীষিকাময় ও অসহিষ্ণু অবস্থা দেখে যে-কেউ আতঙ্কিত হওয়াই স্বাভাবিক। ধর্ষণকারী শুধু ধর্ষণ করেই ক্ষান্ত হচ্ছে না, অনেক সময় অ্যাসিড নিক্ষেপ ও ধর্ষণের পর ভুক্তভোগীকে নৃশংসভাবে হত্যা পর্যন্ত করছে। একের পর এক নৃশংস ঘটনা প্রমাণ করে, আমাদের সমাজে নারীর নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ। যেন সব সময় একটি অদৃশ্য ভয় কাজ করে। এটি শুধু যে আইনশৃঙ্খলার ব্যর্থতা তেমনটা নয়, বরং নৈতিকতার চরম অবক্ষয়। আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর তথ্য সংরক্ষণ ইউনিটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সারা দেশে ধর্ষণ ও দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে মোট ৪০১ জন নারী। তার মধ্যে ধর্ষণ-পরবর্তী হত্যার শিকার হয়েছে ৩৪ জন এবং ধর্ষণের পর আত্মহত্যা করেছে সাতজন। ধর্ষণকে আমাদের সমাজে অনেক সময় হালকাভাবে নেওয়া হয়, যা অপরাধীদের অপরাধের দিকে ধাবিত করে। নৈতিক মূল্যবোধ বিনষ্ট ও সামাজিক অবক্ষয় ধর্ষণে হায়েনাদের উৎসাহিত করে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি ধর্ষণের ভয়াবহতা বৃদ্ধিতে সহায়ক।
নারী নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এমন জায়গায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন। ধর্ষণের মতো পৈশাচিক আচরণ সমূলে ধ্বংস করতে পারিবারকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হবে। আত্মরক্ষায় নারীদের প্রশিক্ষণ প্রদান সময়ের দাবি। সেই সঙ্গে ধর্ষণ প্রতিরোধে রাজনৈতিক সদিচ্ছার যেমন প্রয়োজন, তেমন প্রয়োজন আইনের শাসন। এ ছাড়া ধর্ষণ প্রতিরোধে ব্যাপক জনসচেতনতা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেন পরিচালনা করা যেতে পারে। আমরা মনে করি নারীর প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতন প্রতিরোধে আইনের কঠোর প্রয়োগ অত্যন্ত জরুরি।
উম্মে সারমিন
কান্দিরপাড়, কুমিল্লা সদর, কুমিল্লা
খাদ্য নিরাপত্তায় সচেতন হোন
বাংলাদেশ কৃষিনির্ভর। দেশের বেশিরভাগ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষকের ভূমিকা অপরিসীম। কিন্তু যুগের পর যুগ তারা থেকে গেছে অবহেলিত ও বঞ্চিত। কৃষক মাঠে ঘাম ঝরিয়ে ফসল ফলান। অথচ তারা নিজেরাই ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত। প্রযুক্তির যুগে বিশ্বের অনেক দেশ কৃষিকে আধুনিক করে তুললেও বাংলাদেশে এখনও কৃষিব্যবস্থা অনেকটা সনাতন পদ্ধতির ওপর নির্ভরশীল। এতে কৃষক তেমন লাভবান হতে পারছেন না। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে উন্নত দেশগুলোয় কৃষক অধিক উৎপাদন করছেন এবং ভালো মুনাফা পাচ্ছেন। কিন্তু বাংলাদেশের কৃষকের অবস্থা একেবারে ভিন্ন। এখানে চাষাবাদে কৃষককে এখনও প্রচুর শারীরিক পরিশ্রম করতে হয়। উন্নত যন্ত্রপাতির অভাব, সঠিক পরামর্শের ঘাটতি এবং কৃষি উপকরণের উচ্চমূল্য কৃষকের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আসলে কৃষকের প্রতি আমাদের অবহেলা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাদের কঠোর পরিশ্রমের যথাযথ মূল্য দিতে হবে। কৃষি খাত আধুনিক ও টেকসই করতে হলে সরকার, সমাজ ও জনগণকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, কৃষকের হাসি মানেই দেশের হাসি।
আবদুল মান্নান
কমলাঘাট, মুন্সীগঞ্জ সদর, মুন্সীগঞ্জ