× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সম্পাদকীয়

ধর্ষকের শাস্তি হোক দৃষ্টান্তমূলক

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০২৫ ১০:৪১ এএম

প্রবা গ্রাফিক্স

প্রবা গ্রাফিক্স

সাম্প্রতিক সময়ে ধর্ষণ যেন অপ্রতিরোধ্য অপরাধ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। গণমাধ্যমের তথ্য মতে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশের আনাচে-কানাচে প্রতিনিয়ত নানা বয়সি নারীরা ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন। পাশবিক কায়দায় একের পর এক ঘটে চলেছে ধর্ষণ; যার ভিকটিম বেশিরভাগই শিশু। কঠোর আইন, নারী অধিকার সংগঠন, মানবাধিকার সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিবাদ, গণমাধ্যমের সংবাদ প্রচার এবং লেখালেখিÑ কোনো কিছুতেই ধর্ষণকারীদের দৌরাত্ম্য কমছে না। এই মুহূর্তে সারা দেশে ধর্ষণবিরোধী প্রতিবাদ চলছে। এর মধ্যে মাগুরায় ৮ বছরের শিশু ধর্ষণের ঘটনাটি ব্যাপকভাবে আলোচনায় এসেছে। ঘটনায় দেশবাসী স্তম্ভিত, বাকরুদ্ধ ও শঙ্কিত। প্রতিদিনের বাংলাদেশসহ দেশের সব গণমাধ্যমে ধর্ষণের এই লোমহর্ষক ঘটনাটি সবিস্তারে এসেছে। বোনের শ্বশুরবাড়িতে ধর্ষণের শিকার শিশুটি এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। গত ৩ দিন ধরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও তার অবস্থার উন্নতি হয়নি। শনিবার তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) স্থানান্তর করা হয়। মাগুরাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় তোলপাড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও। নারীর প্রতি সহিংসতা ও বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোও সোচ্চার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবি করেছেন। 

বাংলাদেশে নারীর প্রতি সহিংসতার পরিসংখ্যান বরাবরই উদ্বেগজনক। হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) তথ্য অনুসারে, ২০২০-২৪ সাল পর্যন্ত গত পাঁচ বছরে, বাংলাদেশে কমপক্ষে ১১ হাজার ৭৫৮ জন নারী ও মেয়েশিশু নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার হয়েছে, যার মধ্যে ৬ হাজার ৩০৫ জনকে ধর্ষণ করা হয়েছে। আরও আশঙ্কার বিষয়, যাদের ধর্ষণ করা হয়েছে তাদের মধ্যে ৩ হাজার ৪৭১ জনের বয়স ১৮ বছরের নিচে, যা মোট ঘটনার ৫৫ শতাংশেরও বেশি। এর মধ্যে ১ হাজার ৮৯ জন নারী ও কন্যাশিশুকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়েছে এবং ২০৭ জনকে যৌন সহিংসতার পর হত্যা করা হয়েছে। যাদের মধ্যে ১১৮ জনই শিশু। এ ছাড়া অন্তত ৫০ জন ভয়াবহ সহিংসতার ট্রমা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন। সংস্থাটি বলছে, নারীর প্রতি সহিংসতার পরিধি কেবল ধর্ষণ নয়, এর বাইরেও বিস্তৃত। এইচআরএসএসের সাম্প্রতিক সময়ের তথ্য অনুসারে, ২০২৫ সালের প্রথম দুই মাসের পরিসংখ্যান আতঙ্কিত হওয়ার মতো। এই সময়ে অন্তত ২২৪ জন নারী ও কন্যাশিশু সহিংসতার শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে ১০৭ জনকে ধর্ষণ করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৬৬ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। ২৭ জন নারী ও শিশুকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়েছে এবং ২৯ জন যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে ১৬ জনই শিশু। যৌতুক-সম্পর্কিত সহিংসতার কারণে মারা গেছেন ছয় জন নারী, আহত হয়েছেন দুই জন। পারিবারিক সহিংসতায় ৫৮ জন নারী প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে ২০ জন আত্মহত্যা করেছেন। অ্যাসিড হামলায় মৃত্যু হয়েছে একজনের। সাম্প্রতিক এসব ঘটনায় সমাজকর্মী খুশী কবির বলেছেন, ‘আমরা একটি গভীর সংকটের মুখোমুখি হয়েছি। মূল সমস্যা হলো, আমাদের দেশের দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেই এবং প্রায়ই দেখা যায় একশ্রেণির মানুষ অপরাধীদের সমর্থন করে। এটি সামগ্রিকভাবে সমাজের জন্য বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করছে।’ 

ধর্ষণ, নারী-শিশু নির্যাতনসহ সব ধরনের অপরাধ দমন সরকারের অন্যতম দায়িত্ব। এই ক্ষেত্রে সরকার ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে আসছে। কোনভাবেই পরিস্থিতির উন্নতি ঘটছে না। তবে প্রত্যাশার কথা, হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ শিশু ধর্ষণ মামলাটি ১৮০ দিনে মধ্যে শেষ করার জন্য স্বতঃপ্রণোদিত আদেশ দিয়েছেন। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাও বলেছেন, ‘সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে। নারীরা যেন নির্ভয়ে ও নির্বিঘ্নে চলাফেরা ও দায়িত্ব পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা হবে।’ সরকারের অন্য উপদেষ্টা ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে কঠোরতার কথা বলেছেন। এ কথা সত্য যে, অপরাধীদের শাস্তি কালেভদ্রে হয়ে থাকে। তবে তার কোনো ইতিবাচক প্রভাব ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন প্রবণতা হ্রাসের ক্ষেত্রে পড়ে না। এখন দেখার বিষয় উপদেষ্টার প্রতিশ্রুতি কাজের মাধ্যমেই প্রমাণ হয় কি না।

পরিস্থিতি দেখে মনে হয়, ধর্ষণের ব্যাপারটা এখন দুর্বৃত্তের কাছে ডালভাত। প্রয়োগহীন আইনই যেন তাদের বেপরোয়া করছে। ন্যায়বিচারের অভাবেই অপরাধীরা সাহস পায়। অনেক সময় দেখা যায়, দেশের আইন ও বিচারব্যবস্থা যখন শিথিল থাকে, তখনই ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধের বিস্তার ঘটে। অনেক সময় আইনের ফাঁকফোকর গলে অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার আড়ালে থাকে। এছাড়া  মানুষে-মানুষে সম্পর্ক কেমন যেন শিথিল হয়ে যাচ্ছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে সামাজিক বন্ধন। খুব কাছের কারও জীবনে ট্র্যাজিক কিছু না ঘটলে কেউ যেন তা অনুভব করে না। সামাজিক ঐক্য ও পারিবারিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় করা দরকার। সমাজের সুরক্ষায় এই বন্ধন নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। আমরা মনে করি, ধর্ষণের বিরুদ্ধে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। আইনের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে, এসব ঘটনা বারবার ঘটবে। ধর্ষণের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হোক, এটা গণমানুষের দাবি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা