× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ব্যাটারিচালিত রিকশা সঠিক পথে চালাতে হবে

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ০৭ মার্চ ২০২৫ ১৪:৫৫ পিএম

ব্যাটারিচালিত রিকশা সঠিক পথে চালাতে হবে

সম্প্রতি রাজধানীবাসীর জীবনে যোগ হয়েছে ব্যাটারিচালিত রিকশা বা ইজিবাইক; যা সাময়িক সুবিধা এনে দিলেও সমস্যা তৈরি করেছে কয়েকগুণ। ফলে এই বাহনের চলাচল নিয়ে নানামুখী কথাবার্তা শুরু হয়েছে। একদল চাইছে, বাহনটির ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে। অন্যদিকে আরেকদল চাইছে, বাহনটিকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে এনে তার চলাচল সীমিত করা হোক। উভয় পক্ষেই রয়েছে জোরালো যুক্তি। ফলে বাহনটির থাকা না-থাকা নিয়েও তৈরি হয়েছে সমস্যা। গত সরকারের সময়ে রাজধানীতে বাহনটির যাত্রা শুরুর পর থেকে দিন দিন তা ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। রাজধানীর সড়কে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ঝুঁকিপূর্ণ এই বাহন। বেপরোয়া গতি ও ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণের জন্য বাহনটিতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। আহত হচ্ছেন যাত্রী ও চালক। ক্ষেত্রবিশেষে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। নিয়মনীতি না থাকায় যান্ত্রিক বাহনগুলোর চলাচল হয়ে উঠেছে বেপরোয়া; যা যানজটের নগরে আরও অসহনীয় যানজট তৈরি করছে। সার্বিকভাবে এই ব্যাটারিচালিত রিকশা ঝুঁকিতে ফেলেছে পুরো নগরবাসীকে। আইনের চোখে তিন চাকার এই বাহনটি অবৈধ। এই বাহনে যেসব সামগ্রী ব্যবহার করা হয় তাও অবৈধ। এতে ব্যবহৃত সিসাযুক্ত বা পাউডার ব্যাটারি (লিড অ্যাসিড ব্যাটারি) এবং বৈদ্যুতিক চার্জিং স্টেশনের ব্যবহারের আইনগত বৈধতা নেই। বিআরটিএ বা সিটি করপোরেশন এই বাহনের কোনো লাইসেন্সও দেয়নি।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে ৬ মার্চ প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ প্রকাশিত ‘ব্যাটারিচালিত রিকশা : নিষিদ্ধ নয়, নীতিমালা জরুরি’ শিরোনামটি ইঙ্গিতবাহী। যার মাধ্যমেই সমাধান সূত্রের ইঙ্গিত মেলে। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অনুমোদন না থাকায় এটি কেন্দ্র করে কোটি কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে আর যেহেতু এটি বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না, সেহেতু এর দুর্বলতা দূর করে চলাচলের অনুমোদন দেওয়া উচিত। এতে যেমন চাঁদাবাজির পথ বন্ধ হবে, তেমনি সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পাবে।

প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, রাজধানীতে ১০ লাখের বেশি ব্যাটারিচালিত রিকশা-অটোরিকশা রয়েছে। এসব বাহনের চালকরা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো বাধাই মানছেন না। ব্যাটারিচালিত রিকশা বর্তমানে যোগাযোগব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ বাহন হয়ে উঠেছে। মানুষ সহজে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে এবং সাশ্রয়ী বাহন হিসেবে এই রিকশাকে গ্রহণ করেছে। বিকল্প যানবাহনের ব্যবস্থা না করে হঠাৎ এসব বাহন বন্ধ হলে যাতায়াতে সমস্যার পাশাপাশি অন্য পরিবহনগুলোর ভাড়াও বাড়তে পারে। যা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়াবে। একইভাবে ব্যাটারিচালিত রিকশার মাধ্যমে যাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে, তাদের বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ না করে ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধের বিষয়টি ভাবতে হবে। একটি গবেষণা প্রতিবেদন বলছে, প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় যত মানুষের মৃত্যু হয়, এর ২০ শতাংশই ঘটে ব্যাটারিচালিত রিকশার কারণে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঝুঁকিপূর্ণ এ যানবাহন যাতে রাজধানীতে চলাচল করতে না পারে, সেজন্য কর্তৃপক্ষের কঠোর হওয়া উচিত। তবে ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধে কঠোর হওয়ার আগে আমাদের ভাবতে হবে, যদি ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধই করতে হয়, তবে এ ধরনের রিকশা কেন আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়? কেন ব্যাটারিচালিত রিকশার বিভিন্ন পার্টস আমদানি হয়, প্রকাশ্যে শত শত দোকানে বিক্রি হয়? যেসব মালিক এসব রিকশা ক্রয়ের মাধ্যমে ভাড়ায় ব্যবসা করেন, তাদেরইবা কেন ধরা হয় না? আর আজকে সড়কে যে বিপুল পরিমাণ ব্যাটারিচালিত রিকশা, সেগুলো নিশ্চয় এক দিনে রাস্তায় নামেনি। আজকের এই অবস্থায় আসতেও দীর্ঘ সময় লেগেছে। আমাদের প্রশ্ন তাহলে শুরুতেই কেন ব্যবস্থা নেওয়া হলো না? 

আমরা মনে করি, অটোরিকশার ব্রেকিং সিস্টেম ও অবকাঠামোগত দুর্বলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বাহন হিসেবে চিহ্নিত। এখন এই দুর্বলতাগুলো যদি সরানো যায়, তাহলেও বাহনটিকে নিরাপদ করা সম্ভব। দেশে প্রচলিত ব্যাটারিচালিত রিকশার নকশা অন্যান্য পায়ে টানা সাধারণ রিকশার মতোই। সমস্যা হচ্ছে সাধারণ রিকশার ডিজাইন দ্রুতগতিতে চলার উপযোগী নয়। সাধারণ রিকশায় মোটর লাগিয়ে দ্রুতগতিতে চালানো হচ্ছে বলেই দুর্ঘটনা ঘটছে অনেক সময়। ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলোর জন্য একটি নকশা নির্দিষ্ট করে দেওয়া প্রয়োজন। নিরাপত্তা বাড়াতে এর নকশার সংস্কার প্রয়োজন। নিরাপত্তা ত্রুটিগুলো সংশোধন করার পাশাপাশি চলাচলেও শৃঙ্খলা আনতে হবে। নগরবাসীর চাহিদা অনুযায়ী, রাজধানীতে মানসম্মত গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। সেই সঙ্গে যেসব সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলছে, সেগুলোর কাঠামোর মানোন্নয়ন করে সড়কে চলাচলের উপযোগী করতে হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা