দিবস
ডা. ওয়াকারুন নেসা মীম
প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০২৫ ০৯:৩৩ এএম
আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২৫ ১৩:২২ পিএম
ডা. ওয়াকারুন নেসা মীম
দাঁতব্যথা হলে অনেকে ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করেন। এসব ওষুধ সাময়িক সময়ের জন্য ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। তবে সঠিক সময়ে চিকিৎসা গ্রহণ না করলে দাঁতের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হতে পারে। দাঁতে ক্যাভিটি (গর্ত) কিংবা ক্যারিস (দন্ত ক্ষয়) সমস্যাজনিত অনেক রোগী চিকিৎসা না নিয়ে ব্যথা কমানোর জন্য ওষুধ সেবন করেন। এতে অনেক সময় একটা ছোট ক্যাভিটি কিংবা ক্যারিস থেকে দাঁতের গোড়ায় ইনফেকশন ছড়িয়ে যেতে পারে। তাই সময় থাকতেই দাতের চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। দন্ত চিকিৎসায় অবহেলা না করে বছরে অন্তত দুবার ডেন্টিসের কাছে যাওয়া উচিত।

সকালবেলার নাশতার পর ও রাতে ঘুমানোর আগে দাঁত ব্রাশ করতে হবে। এটা ছোটবড় সবার জন্যই প্রযোজ্য। অনেকে ভুল পদ্ধতিতে ব্রাশ করেন। এতে দাঁতের ক্ষতি হয় বেশি।
সঠিক নিয়মে ব্রাশ না করার কারণে দাঁতের মাড়ি নেমে বা সরে যায়। তিন মাস পরপর টুথব্রাশ পরিবর্তন করতে হবে। টুথব্রাশটি হতে হবে নরম ব্রেসেলযুক্ত। আর ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহার করতে হবে।
ডেন্টাল স্ক্যালিং একটি চিকিৎসাপদ্ধতি, যার মাধ্যমে দাঁতের উপরিভাগ এবং মাড়ির ওপর ও ভেতরে জমে থাকা ‘ডেন্টাল প্লাক’ বা ‘দন্তপাথুরি’ পরিষ্কার করা হয়। ডেন্টাল প্লাকে বিদ্যমান ব্যাকটেরিয়াগুলো ‘মাড়ির প্রদাহ’ বা ‘জিনজিভাইটিস’ তৈরি করে। মুখে দুর্গন্ধ হলে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। ব্রাশ করার পরও ছোট খাদ্যকণা দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকতে পারে; যা পরে মুখে দুর্গন্ধ তৈরি করে। তাই দাঁত আরও বেশি সুরক্ষিত এবং দুর্গন্ধমুক্ত রাখতে ব্রাশ করার পর ‘ডেন্টাল ফ্লস’ ব্যবহার করতে হবে। ব্রাশ করার পরেও দুই দাঁতের মাঝে (ইন্টার ডেন্টাল স্পেস) যে ফাঁকা জায়গা থাকে সেখানে খাদ্যকণা জমা থাকতে পারে। তাই ফ্লস ব্যবহার করার মাধ্যমে সেই ছোট ছোট খাদ্যকণা বের করে আনা যায়।
আপনি কী ধরনের খাবার খাচ্ছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। মনে রাখতে হবে মুখ শুষ্ক হলেই দুর্গন্ধ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। মুখে দুর্গন্ধ এড়াতে মাউথওয়াশ ব্যবহার করতে পারেন। তবে দীর্ঘদিন মাউথওয়াশ ব্যবহারে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এ ছাড়া এক গ্লাস কুসুমগরম পানিতে এক চিমটি লবণ মিশিয়ে কুলকুচি করতে পারেন। এটি জীবাণুরোধী দ্রবণ হিসেবে কাজ করবে।
সাধারণত ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-সমৃদ্ধ খাবার দাঁতের জন্য ভালো। খাদ্যতালিকায় সবুজ শাকসবজি ও ফলমূল রাখতে পারেন। খুব বেশি গরম, কিংবা খুব বেশি ঠান্ডা খাবার দাঁতের জন্য ভালো নয়। তাই গরম খাবারের সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডা পানীয় খাওয়ার অভ্যাস বাদ দিন। অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবার কিংবা কোল্ড ড্রিংকস ও ফাস্টফুড দাঁতের জন্য ক্ষতিকর। তাই এসব খাবার যত সম্ভব পরিহার করতে হবে।