× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সম্পাদকীয়

পানির বিশুদ্ধতায় কোনো ছাড় নয়

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ০৫ মার্চ ২০২৫ ১০:০৯ এএম

পানির বিশুদ্ধতায় কোনো ছাড় নয়

পানির অপর নাম জীবন। স্বচ্ছ ও বর্ণহীন এ পদার্থটি জীবকুলের জন্য অপরিহার্য উপাদান। দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি কাজে পর্যাপ্ত পানি প্রয়োজন। আর সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে প্রয়োজন নিরাপদ বিশুদ্ধ পানি। শহুরে জীবনে আমরা বোতলজাত পানি বা জার পানির ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। প্রতিদিন হোটেল বা রেস্তোরাঁ, অফিস, রাস্তার আশপাশের দোকান থেকে শুরু করে উৎসব-অনুষ্ঠান, ভ্রমণপথে, বাসাবাড়িতে এসব (বোতলজাত ও জার পানি) খাবার পানি ব্যবহার হচ্ছে। আমরা যারা প্রতিনিয়ত এসব বোতলজাত পানি পান করছি, সে পানি কতটা নিরাপদ তা কি ভাববার অবকাশ পাই? এসব বোতলজাত খাবার পানি পান করে আমরা কি স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছি? এসব প্রশ্ন সামনে রেখেই ৪ মার্চ, প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ ‘বিশেষায়িত বলে ‘দুর্গন্ধযুক্ত পানি’ উচ্চদামে বিক্রি’ শিরোনামে উঠে এসেছে ভয়াবহ তথ্য। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশেষায়িত বলে দুর্গন্ধযুক্ত খাবার পানি বিক্রি করছে রাজধানীর অভিজাত গুলশান এলাকার একটি হোটেল। শুধু দুর্গন্ধযুক্ত নয়, সামুরাই নামে বোতলজাত এ পানি উচ্চদামেও বিক্রি করে রেস্টুরেন্টটি। বাজারে অন্যান্য ব্র্যান্ডের আধা লিটারের বোতলজাত পানি যেখানে ১৫-২০ টাকা, সেখানে ওই রেস্টুরেন্ট কাস্টমাইজড বলে বিক্রি করছে ৬০ টাকায়। সামুরাই প্যাকেজড ড্রিংকিং ওয়াটার নামের দুর্গন্ধযুক্ত ওই পানি খেয়ে সাময়িক অসুস্থ হয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। দুর্গন্ধযুক্ত পানি বিক্রির বিষয়টি সামনে এসেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) একটি অনুষ্ঠানে। জানা গেছে, বিবিএস আয়োজিত ‘ভায়োলেন্স অ্যাগেইনস্ট উইমেন (ভাউ)’ শীর্ষক জরিপ প্রকাশ অনুষ্ঠানে অতিথিদের জন্য খাবার সরবরাহের দায়িত্ব পায় গুলশানের ওই রেস্টুরেন্টটি। সেখানে খাবারের সঙ্গে ‘সামুরাই’ নামের আধা লিটারের একটি বোতলজাত পানি সরবরাহ করা হয়। প্রথমে একজন গণমাধ্যমকর্মী পানিতে দুর্গন্ধের বিষয়টি সামনে আনেন। তিনি জানান, পানিতে দুর্গন্ধ, লাইনের পানির মতো লাগছে। পরে উপস্থিত অন্যরাও পানিতে দুর্গন্ধের অভিযোগটি আনেন। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, উপস্থিত অন্যরাও পানিতে দুর্গন্ধের বিষয়টি বিবিএসের কর্মকর্তাদের নজরে আনলে তারাও একইরকম অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন।

ঢাকা শহরের ক্রমবর্ধমান জনগণের খাবার পানির চাহিদার সুযোগ নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা এসব দূষিত বোতলজাত পানির ব্যবসা করছে। আর সাধারণ মানুষের হাতে তুলে দিচ্ছে বিষাক্ত পানি। এ ধরনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। নানা সময়ে বিশুদ্ধ পানি সেবনবিষয়ক সচেতনতারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয়নি। যারা সবচেয়ে বেশি সচেতন হওয়ার কথা তারাই যে দায়িত্বহীন তার প্রমাণ এ প্রতিবেদন। ফলে এ বিষসমতুল্য পানি মানুষকে ধীরে ধীরে অসুস্থ করে তুলছে, শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দিচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছেÑ এসব ব্যবসায়ী কীভাবে ব্যবসা করছেন, যেখানে পানি উৎপাদন, বোতলজাত ও বাজারজাত করতে গেলে বিএসটিআই, ওয়াসা, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, পরিবেশ মন্ত্রণালয়, শ্রম মন্ত্রণালয় ও সিটি করপোরেশন থেকে অনুমতি ও লাইসেন্স নিতে হয়। আর দায়িত্বপ্রাপ্ত এসব সংস্থাও কেন এসব বিষয় প্রতিকারে গুরুত্ব দিচ্ছে না, সে প্রশ্ন বারবার সামনে আসছে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) তাদের গবেষণায় ব্র্যান্ড বোতল পানির বিভিন্ন উপাদানের পরিমাণগত ও গুণগতমান বিশ্লেষণ করে সাধারণ উপাদান যেমন টিডিএস (খনিজ উপাদান, লবণ, মেটাল, আয়ন ইত্যাদি), ক্লোরাইড, কলিফরম, ফেকাল কলিফরম, পিএইচ, নাইট্রাইট, নাইট্রেট, লিড, ক্রোমিয়াম, আয়রন ইত্যাদি কী পরিমাণে থাকা উচিত এবং ব্র্যান্ড বোতলজাত পানিতে বিডিএস মান যথাযথ নয় বলে মন্তব্য করেছেন। তারা বোতলের গায়ে কলিফরম বা ফেকাল কলিফরমের কোনো উল্লেখ নেই বলেও মন্তব্য করে। তারা সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেছে, সব সময় নিরাপদ পানি যেমন ফুটানো পানি ব্যবহার করতে হবে এবং জারের পানি ও বোতলজাত পানি ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ কর্তৃক নিয়মিত বাজার পরিদর্শন ও পানির গুণগতমান পরীক্ষা এবং অপরাধীদের যথাযথ শাস্তি প্রদান করতে হবে।

বিশুদ্ধ পানি প্রাপ্তি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। জীবদেহের শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার সঙ্গে পানির সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। এক কথায়, পানি জীবনের জন্য একটি অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। একজন মানুষ খাবার গ্রহণ ছাড়া তিন সপ্তাহ বাঁচতে পারে। কিন্তু পানি পান ছাড়া তিন দিনও বাঁচতে পারে না। তবে সে পানি অবশ্যই বিশুদ্ধ ও নিরাপদ হতে হবে। তাই পানি নিয়ে হেলাফেলার কোনো সুযোগ নেই। কারণ পানি ছাড়া জীব বাঁচতে পারে না। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, ১ ফোঁটা পানিতে ৫ কোটির বেশি জীবাণু থাকতে পারে। অনেক সময় পানিই মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যে পানি ছাড়া মানুষের জীবন বাঁচে না, সে পানি নিয়ে প্রতারণা চলতে পারে না। এর প্রতিকার জরুরি। যারা এ জীবনবিনাশী প্রতারণা করছে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সামান্যতম শিথিলতা কাম্য নয়। পাশাপাশি দরকার নাগরিক সচেতনতা। সব নাগরিকের ঘরে বাইরে পানি পানে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনই কাম্য।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা