পরিপ্রেক্ষিত
আর কে চৌধুরী
প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১০:৫০ এএম
সরকার পতনের পর দেশের নানা স্থানে বেশ কিছু শিল্পকারখানা দুর্বৃত্তদের হামলাসহ নানা কারণে হুমকির মুখে পড়েছে। হামলা এবং শ্রম-অসন্তোষের মুখে ঝাঁপ টানা হতে থাকে একের পর এক কারখানার। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রচেষ্টায় কিছু কারখানা চালু হলেও গ্যাস-বিদ্যুৎ, ডলার ও মূলধন সংকট, কাঁচামালের অপর্যাপ্ততা, পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়াসহ নানা কারণে স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে বহু কারখানা। গত ছয় মাসে বন্ধ হয়েছে শতাধিক গার্মেন্ট এবং অন্তত ১০টি টেক্সটাইল মিল। তালিকায় রয়েছে সিমেন্ট, ইস্পাত ও কাগজশিল্পের কারখানার নামও। ফলে নানা সংকটে বিপর্যয় নেমে এসেছে শিল্প ক্ষেত্রে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস) জানিয়েছে, প্রায় ১০ লাখ শ্রমিক কর্মহীন হয়েছে। প্রতিদিনই কর্মক্ষম বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। অনেকেই রাস্তায় নেমে আসছে। অবস্থা উদ্বেগজনক। জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিয়ে কর্মসংস্থান রক্ষা এবং নতুন কাজের ক্ষেত্র তৈরি করতে না পারলে সামাজিক অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি রাজনৈতিক কারণেও বেশ কয়েকটি বড় শিল্প গ্রুপের কারখানা বন্ধ হয়েছে। কোনো কোম্পানির মালিক গ্রেপ্তার হয়েছেন, কেউবা পালিয়ে গেছেন। এতে তাদের অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে। এসব কারখানায় কাজ হারিয়ে পথে বসা শ্রমিকরা চান তাদের কর্মস্থল খুলে দেওয়া হোক। পরিবার-পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকার রুটিরুজির ক্ষেত্র ওই শিল্প। একের পর এক শিল্পকারখানা যদি বন্ধ হয়ে যায়, কর্মক্ষম বেকারের সংখ্যা বাড়তেই থাকবে। এ কর্মক্ষম মানুষগুলো কাজ না পেলে নানা অস্থিরতা বাড়বে। বাড়বে অপরাধপ্রবণতা ও সামাজিক অপরাধ। এতে জননিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। এসব ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হোক। এমনিতেই দেশে বেকার জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে শ্রমশক্তির ২৬ লাখ ৬০ হাজার মানুষ বেকার ছিল। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর ২০২৪ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বরের ত্রৈমাসিক শ্রমশক্তি জরিপে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
১৩তম আইসিএলএসের ভিত্তিতে বিবিএসের সর্বশেষ ত্রৈমাসিক জরিপ অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর শেষে দেশের শ্রমশক্তি ছিল ৭ কোটি ৬ লাখ নারী-পুরুষ। এর মধ্যে পুরুষ ৪ কোটি ৭৪ লাখ ৯০ হাজার এবং নারী ২ কোটি ২৫ লাখ ৭০ হাজার। জরিপের সময় দেশে ৬ কোটি ৭৫ লাখ ১০ হাজার নারী-পুরুষ আগের সাত দিনে এক ঘণ্টা মজুরির বিনিময়ে কাজ করেছেন। অর্থাৎ এরা কর্মে নিয়োজিত হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ ৪ কোটি ৫৭ লাখ ৭০ হাজার এবং নারী ২ কোটি ১৭ লাখ ৪০ হাজার।
যারা কর্মে নিয়োজিত নন কিন্তু বেকার হিসেবেও বিবেচিত নন, তারাই মূলত শ্রমশক্তির বাইরের জনগোষ্ঠী। এ জনগোষ্ঠীতে আছেন শিক্ষার্থী, অসুস্থ ব্যক্তি, বয়স্ক, কাজ করতে অক্ষম, অবসরপ্রাপ্ত এবং কর্মে নিয়োজিত নন বা নিয়োজিত হতে অনিচ্ছুক এমন গৃহিণীরা।
উল্লেখ্য, প্রতি বছর কমপক্ষে ২০ লাখ মানুষ চাকরির বাজারে প্রবেশ করে। তাদের মধ্যে ১৩-১৪ লাখ মানুষের দেশের অভ্যন্তরে কর্মসংস্থান হয়। বাকিরা কাজের জন্য প্রবাসে যায়। তাই দুই দশক ধরে বেকারের সংখ্যা মোটামুটি ২৪-২৮ লাখের মধ্যেই রয়েছে।
আশার কথা হলো, এ পরিবর্তনগুলো ইতিবাচক সংস্কারের দিকে যাচ্ছে; যা আমরা সবাই চাই। তবে সেটা যত তাড়াতাড়ি হবে, ততই সবার জন্য মঙ্গলজনক।