× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বিনামূল্যের পাঠ্যবই

নজরদারি বাড়াতে হবে

মো. আবুল হাসান

প্রকাশ : ৩০ জানুয়ারি ২০২৫ ০৯:১৪ এএম

নজরদারি বাড়াতে হবে

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষা সহজলভ্য করার জন্য এক দশক ধরে সরকার প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে পাঠ্যবই সরবরাহ করছে। প্রতি বছর জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলাদা এক ধরনের উচ্ছ্বাস ও উন্মাদনা কাজ করে। নতুন বই হাতে তারা বাড়ি ফেরে। নতুন বই তাদের পাঠের উৎসাহ বাড়িয়ে তোলে। আগে এ বই ভারত থেকে ছাপানো হতো। কিন্তু গত বছর জুলাই-আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে ভারত থেকে বই ছাপানোর টেন্ডার বাতিল করে অন্তর্বর্তী সরকার। তাছাড়া অল্প সময়ে বইয়ের গুণগত মান বজায় রেখে পাঠ্যক্রমে সংশোধন ও পুনর্মার্জনের কাজ করতে হয়েছে। ফলে এখনও সকল শিক্ষার্থীর হাতে বই পৌঁছায়নি। 

আন্তর্জাতিক বাজারে কাগজের দাম বেড়েই চলেছে। এমন সময়ে বইমেলা দুয়ারে কড়া নাড়ছে। ফলে কাগজের চাহিদার নিরিখে দাম বাড়লেও তার সরবরাহ কম। তবু অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বশীল মহল পাঠ্যবই মুদ্রণে বাড়তি মনোযোগ ও যত্ন নিচ্ছে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যবই না পৌঁছানোর সুযোগ নিচ্ছে একটি অসাধু বই ব্যবসায়ীচক্র। একশ্রেণির অসাধু শিক্ষা কর্মকর্তা, ছাপাখানা ব্যবসায়ী তাই অসৎ পথ অবলম্বন করে বাজারে বই আনছেন। যেহেতু বছরে শিক্ষাবর্ষ থাকে সংক্ষিপ্ত তাই অভিভাবকরা প্রথম তিন মাসের মধ্যেই সন্তানদের পাঠে হাতেখড়িটুকু ধরিয়ে দিতে চান। যেহেতু এখনও বই পাওয়া যাচ্ছে না, তাই তারা বইয়ের জন্য উদ্‌গ্রীব হয়ে ছোটাছুটি করছেন। এজন্য টাকার দিকে না তাকিয়ে অভিভাবকরা বিনামূল্যের বই কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। একদিকে বইয়ের সংকট কাটাতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার, অন্যদিকে একটি মহল কাগজের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বই ছাপাচ্ছে এবং বিক্রি করছে। শহরে বাস্তবতা এমন হলেও গ্রামের বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন। সেখানে শিক্ষার্থীরা পুরোনো বইও পাচ্ছে না। সম্প্রতি প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়, বেশ কয়েকটি স্কুলের শিক্ষক কেজি দরে পুরোনো বই বিক্রি করে দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে এনসিটিবির নিয়ম তারা অনুসরণ করেননি। অর্থাৎ শিক্ষা খাতে এমন এক ধরনের অনৈতিকতা দেখা দিয়েছে, যা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

পাঠ্যবই না পাওয়ার মানসিক ও বাস্তবিক অবস্থা অনুধাবন করতে হবে। বই না পেয়ে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। তাদের মনে হয় তারা পিছিয়ে পড়ছে। আর বিনামূল্যের বই ছাপাখানার মালিকরা এমনভাবে প্রিন্ট করেন যা আসল বইয়ের মতো হয় না। ফলে বই হাতে নিয়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থীরা বইবিমুখ হয়ে ওঠে। আবার এ ধরনের বইগুলোতে অনেক সময় বাঁধাইয়ে দুর্বলতা থাকে এবং তা-ও চড়া দামে বিক্রি হয়। আর দেরিতে বই পেলে শিক্ষার্থীরা দেরিতে পড়া শুরু করে। আমরা পুরোনো শিক্ষাক্রমে ফিরে গেছি। তাই শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হবে। এদিকে পাঠ্যবইয়েও বদল এসেছে। যদিও পিডিএফ উন্মুক্ত কিন্তু পিডিএফ পড়ার মতো উপযুক্ত ডিভাইস সবার থাকে না। আর পিডিএফ পড়ে প্রস্তুতি নেওয়াও কঠিন। অর্থাৎ দ্রুত শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। কিন্তু এখানেই দায়িত্ব শেষ নয়।

যেমনটি বলেছি, এখন ছাপাখানা ব্যস্ত সময় পার করছে। বই ছাপাতে ছাপাতে মার্চ চলে আসতে পারে বলে জানিয়েছে প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর ওই প্রতিবেদনটি। সব পাঠ্যবই হাতে পেতে অপেক্ষা দিনদিন দীর্ঘ হচ্ছে। এজন্য ফেব্রুয়ারি-মার্চের ভেতর শিক্ষার্থীদের হাতে সব বই তুলে দেওয়ার জন্য সরকারের এ-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা জরুরি। পাশাপাশি অতিরিক্ত দাম দিয়ে বই কেনা থেকে অভিভাবক, শিক্ষার্থীরা বিরত থাকলে সরকারের বেঁধে দেওয়া পরবর্তী সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই পৌঁছে যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এতদিন ভারতে টেন্ডার থাকায় দেশি ছাপাখানাগুলো লাভবান হয়নি। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের এ উদ্যোগ দেশি ছাপাখানাশিল্প পুনরুজ্জীবিত করেছে। বেশিরভাগ সময় দেখা যায়, মে-জুনে বই ছাপার কাজ শুরু হয়, যা নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে অর্ধেক ছাপানো শেষ হয়ে যায়। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সব দেশি ছাপাখানায় টেন্ডারের প্রক্রিয়া শেষ করতে সময় লেগে যায়। তবে সরকার পরিবর্তনের পর সিলেবাসসহ পরিমার্জন করে বইয়ের কাজ হাতে পাওয়ায় এ বছর কিছুটা দেরি হলেও পরবর্তী বছর থেকে তা স্বাভাবিক হবে বলে আশা রাখছেন সংশ্লিষ্টরা।

পটপরিবর্তনের কারণে আমাদের এ সংকট দেখা দিয়েছে, সেহেতু শিক্ষকসহ অভিভাবকদেরও এটা মেনে নিয়ে যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে হবে। পাশাপাশি সব ছাপাখানা থেকে যাতে বই বিভিন্ন বইয়ের দোকানে না গিয়ে স্বল্প সময়ের মধ্যে সরকারিভাবে প্রতিটি বিদ্যালয়ে পৌঁছে যায়, সে ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের আরও সচেতন হতে হবে। আমরা দেখেছি, বিনামূল্যের এসব পাঠ্যবই বাজারে যাওয়ার পেছনে কিছু সরকারি কর্মকর্তারও হাত থাকে। বিশেষ করে জেলা বা উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে বইয়ের অতিরিক্ত চাহিদা দেখানো হয়, যেখান থেকে বেশি দামে কিছুসংখ্যক বই কালোবাজারে চলে যাচ্ছে। এর বাইরে অনেক ছাপাখানার মালিক অতিরিক্ত দাম পাওয়ায় সরকারকে না দিয়ে বাইরে বই বিক্রি করে দিচ্ছে। এতে সব পাঠ্যবই হাতে পেতে অপেক্ষা দিনদিন দীর্ঘ হচ্ছে। এজন্য ফেব্রুয়ারি-মার্চের ভেতর শিক্ষার্থীদের হাতে সব বই তুলে দেওয়ার জন্য সরকারের এ-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা জরুরি। পাশাপাশি অতিরিক্ত দাম দিয়ে বই কেনা থেকে অভিভাবক, শিক্ষার্থীরা বিরত থাকলে সরকারের বেঁধে দেওয়া পরবর্তী সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই পৌঁছে যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং অভিভাবকদের মধ্যে এমন ভাবনা জাগাতে হবে, কাউকে অনৈতিকভাবে পাঠ্যবই বিক্রি করতে দেখলে তারা যেন পুলিশের কাছে অভিযোগ দেয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও কড়া নজরদারি বাড়াতে হবে। নীলক্ষেতসহ রাজধানীর অনেক স্থানেই পুরাতন বইয়ের দোকান রয়েছে; এসব দোকানেই অধিকাংশ সময় এসব বই পাওয়া যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সংকটটি যত দ্রুত অনুধাবন করা যাবে তত দ্রুত আমরা সমাধানের দিকে এগোতে পারব। পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পড়লে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমনকি অভিভাবকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই এ সমস্যাটি সামান্য সংকট ভাবলে ভুল হবে।

  • জ্যেষ্ঠ শিক্ষক, আদমজী ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা