ড. মোহীত উল আলম
প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৫ ১৫:৪৪ পিএম
ড. মোহীত উল আলম
অনলাইন সংবাদ মাধ্যমের খবরে জানলাম, ঢাকার সাতটি কলেজ আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন থাকছে না। কলেজগুলোকে সম্মানজনকভাবে পৃথককরণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি বাতিলের দাবি করে আসছিল। সেই দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে কর্তৃপক্ষের গৃহীত সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। খুবই যুক্তিযুক্ত এবং যৌক্তিক সিদ্ধান্তের জন্য কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ।
প্রায় আট বছর আগে, ২০১৭ সালে সরকারি সাত কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়। এর আগে কলেজগুলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ছিল। যে সমস্যাগুলো সামনে রেখে কলেজগুলোকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়, পরবর্তীতে আরও অনেকগুলো সমস্যা সামনে আসে। যার প্রেক্ষিতে এই কলেজগুলোর শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন থেকে বেরিয়ে আসতে চায়। তারা নিজেদের জন্য স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠারও দাবি করে। সেই দাবিকেই এতদিন পর এসে সম্মান জানানো হলো।

সাতটি কলেজকে পৃথক করার সিদ্ধান্ত এবং তাদের আলাদা বিশ্ববিদ্যালয় করার পরিকল্পনাও যুক্তিযুক্ত। ঢাবির অধীনে থাকায় তাদের সুবিধার সঙ্গে অনেকগুলো অসুবিধাও ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কলেজগুলোকে পৃথক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এখন মন্ত্রণালয়কে এই সাত কলেজ ঘিরে পরিকল্পনা করতে হবে। কলেজগুলোকে নিয়ে স্বতন্ত্র একটি বিশ্ববিদ্যালয় করা যেতেই পারে। যে নীতিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, সেই নীতিরই একটি ক্ষুদ্রাংশ নিয়ে গঠিত হতে পারে এই স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়। আলাদা একটি নাম দিয়ে স্থাপিত বিশ্ববিদ্যালয়টির মাধ্যমে আমাদের উচ্চশিক্ষার যে বিস্তার ও বিস্তৃতি, তারও সীমানা বাড়বে। এটা আমাদের জন্য প্রয়োজন। জনসংখ্যা অনুযায়ী আমাদের আরও অনেক অনেক বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজন। এক্ষেত্রে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম সপ্তর্ষী বা সপ্তপদী বিশ্ববিদ্যালয় করা যেতে পারে।
আমাদের মনে রাখতে হবে, সামনে হয়তো আরও এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অবকাশ আসবে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আরও আবেদন আসতে পারে। দেশে আরও অনেক বড় বড় কলেজ রয়েছে। তারা নিজেরা নিজেরা হয়তো বিশ্ববিদ্যালয় কাঠামোর মধ্যে আসতে চাইতে পারে। সেক্ষেত্রেও আবেদনগুলো সহজভাবে নিতে হবে। এ ধরনের প্রস্তাবে বাধা দেওয়া যাবে না, এগুলো খুলে দিতে হবে। তাতে করে উচ্চ শিক্ষার বিস্তার বাড়বে, আমাদের শিক্ষা কার্যক্রমে গতি আসবে। উত্তরাধুনিকতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারণাই তো বিকেন্দ্রীকরণকেই সমর্থন করে। আমাদের পরিসর যত বাড়বে, আমাদের সীমানা যত বিস্তৃত হবে তত বেশি সুবিধা। মনে রাখতে হবে, কোনো কিছুই সীমানার বাঁধনে আটকে রাখার প্রবণতা রাখা যাবে না।