× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সম্পাদকীয়

অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই হবে

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৫ ০৯:১৯ এএম

অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই হবে

পুরান ঢাকার চুড়িহাট্টা, চকবাজার, নিমতলী, বঙ্গবাজার, বনানীর এফআর টাওয়ার, বেইলি রোডের রেস্টুরেন্ট, বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বিএম ডিপো এবং সর্বশেষ রাজধানীতে সচিবালয়ের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলো এখনও বিভীষিকার চিহ্ন বহন করছে। দৃষ্টান্ত আরও আছে। কিন্তু এত মর্মন্তুদ ঘটনার পরও অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি কমেনি, আমাদের সচেতনতা বাড়েনি। বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয় ‘শীতকালে বাড়ে অগ্নিদুর্ঘটনা, সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ’ শীর্ষক ১৮ জানুয়ারি প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন পাঠে। ফায়ার সার্ভিসের তথ্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ১১ মাসে দেশে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে ২৪ হাজার ৪৭৮টি। অর্থাৎ গড়ে প্রতি মাসে দুই হাজারের বেশি আগুন লেগেছে। অন্যদিকে ২০২১ সালের পর দেশে প্রতিবছর অগ্নিদুর্ঘটনা বেড়েছে তিন হাজারেরও বেশি।

সাধারণত ডিসেম্বর থেকে মার্চÑ এই ৪ মাসে অগ্নিদুর্ঘটনা বেশি ঘটে। প্রশ্ন হচ্ছে, এই যে প্রতিনিয়ত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা, এই যে ক্ষয়ক্ষতি, এই যে প্রাণহানি তাতেও কি আমাদের সম্বিত ফিরেছে? সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল মহলগুলো দায়িত্ববান হয়েছে? অগ্নিদুর্ঘটনা কমাতে যেসব অঙ্গীকার-প্রতিশ্রুতি রয়েছে তাও কি দৃশ্যমান হয়েছে?

আমাদের স্মরণে আছে, পুরান ঢাকাসহ কয়েকটি বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত কমিটি ও টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছিল। তারা অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট কিছু সুপারিশও দিয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য ওই সুপারিশগুলো যে ফাইলবন্দিই রয়ে গেছে ফায়ার সার্ভিসের তথ্যও তারই সাক্ষ্য বহন করছে।

শীতকালে সবচেয়ে বেশি অগ্নিদুর্ঘটনার কারণ, এ সময় সব ধরনের দাহ্য বস্তু শুকিয়ে যায়। প্রাকৃতিক এই শুষ্কতা থেকেই তৈরি হয় আগুন লাগার পরিবেশ। এ ছাড়া শীতের সময়ে চুলা জ্বালিয়ে রাখা, লাকড়ি জ্বালিয়ে আগুন পোহানো, ধূমপানসহ নানা কারণে আগুন লাগে। অগ্নিঝুঁকির এই সময়ে তাই সতর্কতার অংশ হিসেবে ব্যক্তিপর্যায়ে কাজ শেষে রান্নাঘরের চুলা বন্ধ করা, মশার কয়েল ও বিড়ি-সিগারেটের আগুন নিভিয়ে ফেলার পাশাপাশি কারখানাসহ বড় স্থাপনাগুলোয় স্মোক ডিটেক্টর ও অটো ইলেকট্রনিক সিস্টেম স্থাপন জরুরি। এ ছাড়া বাসাবাড়ির ইলেকট্রিক লাইন নিয়মিত পরীক্ষা করানো, কলকারখানায় অটোমেটিক ইলেকট্রিক প্যানেল স্থাপন করাও জরুরি। অগ্নিকাণ্ড ঘটলেই প্রাথমিকভাবে নেভানোর চেষ্টার পাশাপাশি দ্রুত ফায়ার সার্ভিসকে জানানো জরুরি।

অতীতে রাজধানীর গুলশানের একটি বহুতল ভবনে জরুরি নির্গমন সিঁড়িসহ সব ধরনের নিয়ম মেনে ভবন নির্মাণ এবং অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা থাকার পরও অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনা ঘটে। সেসময় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা গিয়েছিল, গুলশানের বহুতল ভবনটিতে আগুন লাগার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে সতর্কসংকেত বেজে ওঠার পরও ভবনে বসবাসরত পরিবারগুলোর বেশিরভাগ তা আমলে নেয়নি। আবার যারা অ্যালার্ম শুনে ভবনের বিভিন্ন তলা থেকে বের হয়েছেন, তারাও জরুরি নির্গমন সিঁড়ি ব্যবহার করেননি। ফলে অগ্নিকাণ্ডে ওই সময়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে। অথচ ভবনটির বাসিন্দারা যদি সতর্কসংকেত আমলে নিতেন, জরুরি নির্গমন সিঁড়ি ব্যবহার করতেন; তাহলে প্রাণহানি এড়ানো যেত। তাই শুধু নিয়ম মেনে ভবন নির্মাণ ও আধুনিক অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থাই নয়, একই সঙ্গে প্রয়োজন তার যথাযথভাবে ব্যবহার নিশ্চিত করা। অগ্নিনিরাপত্তা বিধিগুলোর বিষয়ে মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ড হলে কীভাবে নিরাপদে ভবন থেকে বের হওয়া যাবে, সে বিষয়েও নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও প্রচারণা জরুরি। আগুন যেমন দুর্ঘটনাবশত লাগে, আবার অনেক ক্ষেত্রে সতর্কতার অভাবেও এ বিপর্যয় নেমে আসে। কাজেই অবহেলাজনিত আগুন, যা একটু সচেতন হলেই রোধ করা সম্ভব, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের মনোযোগ বাড়াতে হবে।

অগ্নিদুর্ঘটনা রোধে ফায়ার সার্ভিস সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছে। তাদের সেই বার্তাকে আমরা সাধুবাদ জানাই। সঙ্গে আমরা এও মনে করি, ফায়ার সার্ভিসসহ সরকারের কোনো সংস্থারই শুধু সমীক্ষা চালিয়ে বা পরামর্শ দিয়েই দায়িত্ব পালনের পাঠ চুকানোর অবকাশ নেই। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করাও তাদের দায়। তবে সেই দায়ে সাধারণেরও থাকতে হবে সহযোগিহতা ও সমর্থন। একা সরকারের পক্ষে বা কোনো সংস্থার পক্ষে বিশাল জনগোষ্ঠীকে ঝুঁকিমুক্ত করা সম্ভব নয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনায় তো তা আরও কঠিন। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেসের সাম্প্রতিক দাবানলও সেই বিষয়টি আমাদের সামনে স্পষ্ট করেছে। দুর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমাতে, প্রাণহানি আটকানো জনসচেতনতার বিকল্প নেই। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, অগ্নিঝুঁকি কমাতে সবার আগে প্রয়োজন জনসচেতনতা। এক্ষেত্রে সরকারকেও নির্মোহ অবস্থান নিয়ে দায়িত্বশীল প্রতিটি সংস্থার যথাযথ দায়িত্ব পালনের বিষয়ে নজরদারি বাড়াতে হবে, যাতে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা