× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

প্রজন্মের ভাবনা

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গাছ

প্রিয়ন্তী কর্মকার

প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০২৫ ১২:০৫ পিএম

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২৫ ১৩:০০ পিএম

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গাছ

গাছ নিঃস্বার্থ ও উপকারী বন্ধু । আমাদের জীবনে গাছের ভূমিকা অনেক। আমরা বেঁচে থাকার জন্য অক্সিজেন গ্রহণ করি। গাছ আমাদেরকে এই অক্সিজেন দেয়। আমাদের শরীর কার্বন ডাই-অক্সাইড ত্যাগ করে। গ্যাস এই কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। গবেষণা তথ্য থেকে জানা যায়, এক হেক্টর আয়তনের ঘন বনের গাছেরা বায়ুমণ্ডল থেকে বছরে প্রায় চার টন ওজনের কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে এবং ফিরিয়ে দেয় প্রায় দুই টন বিশুদ্ধ অক্সিজেন। যেকোনো দেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় শতকরা ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের দেশে তা নেই। আমাদের বনভূমির পরিমাণ মাত্র ১৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ। যা শুধু পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর নয়, দেশের ভূপ্রকৃতির ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলছে। উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে বনভূমি ধ্বংস করা হচ্ছে। যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে নতুন সড়ক। এসব সড়ক তৈরির সময় রাস্তার দুপাশে থাকা গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে, কিন্তু পরবর্তীতে প্রায়ই সেখানে নতুন গাছ লাগানো হয় না। এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এ ছাড়া বসতি স্থাপন, কৃষি সম্প্রসারণ, আসবাবপত্র তৈরির জন্যও গাছপালা কেটে ফেলা হচ্ছে।

জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলেও বনভূমি ধ্বংসের হার বাড়ছে। বসতবাড়ি ও শিল্পকারখানা তৈরির জন্য বনভূমি উজাড় করা হচ্ছে। গৃহস্থালির জ্বালানি হিসেবে গাছের ব্যবহার এবং ইটভাটার জন্য কাঠ আহরণ পরিবেশ ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পশুপালনের জন্য বনভূমি ধ্বংস করে খামার নির্মাণ করা হচ্ছে। বনভূমি ধ্বংসের ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্যে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটছে। গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন বৃদ্ধি পাওয়ায় বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং অন্যান্য বিষাক্ত গ্যাসের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যাওয়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক উষ্ণায়নও বাড়ছে। অতিরিক্ত গাছ কেটে ফেলার কারণে মাটিক্ষয়ের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে নদীতীরবর্তী অঞ্চলে ভূমিধস এবং বন্যার সৃষ্টি হচ্ছে। অন্যদিকে, খরা পরিস্থিতি আরও তীব্র হচ্ছে।

বনভূমি ধ্বংসের ফলে বন্য প্রাণীর আবাসস্থল হারিয়ে যাচ্ছে। অনেক প্রাণী বিলুপ্তির পথে চলে যাচ্ছে। বনাঞ্চলের অধিবাসীরাও তাদের জীবনযাত্রার পরিবেশ হারাচ্ছে। এই পরিস্থিতি শুধু প্রাকৃতিক পরিবেশকেই প্রভাবিত করছে না, বরং অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং ঔষধি গাছপালার অস্তিত্বও হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। বনভূমি ধ্বংসের ফলে পর্যটন শিল্প বিপর্যস্ত হচ্ছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য হারিয়ে যাওয়ায় পর্যটক আকর্ষণ কমে যাচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। গাছ লাগানোর জন্য ব্যক্তি এবং প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। রাস্তার পাশে, বসতবাড়ি এবং ফাঁকা জায়গায় গাছ লাগানোর মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব। বনভূমি সংরক্ষণের জন্য সরকারি নীতিমালা কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। স্থানীয় জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি বনাঞ্চলের অবৈধ দখল এবং গাছ কাটার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি জোরদার করা প্রয়োজন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে বনভূমি রক্ষা এবং পুনরায় বনায়ন করার উদ্যোগ নিতে হবে। উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশ রক্ষা নিশ্চিত করতে হলে টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা একান্ত প্রয়োজন।


  • শিক্ষার্থী, রাজশাহী কলেজ
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা