× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সংকট সমাধানে চাই সুষ্ঠু পরিকল্পনা

শেলী সেনগুপ্তা

প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০২৫ ১১:৪৯ এএম

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২৫ ১৮:৪২ পিএম

সংকট সমাধানে চাই সুষ্ঠু পরিকল্পনা

আধুনিক জীবনধারার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত জ্বালানি উপকরণ গ্যাস। অপরিহার্য এই জ্বালানি শক্তির সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রতিদিনের গৃহস্থালী ও শিল্পকারখানার উৎপাদনব্যবস্থাও। বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং কৃষিতেও এর ব্যবহার ব্যাপক। সব মিলিয়ে অর্থনীতিতে প্রাকৃতিক গ্যাসের ভূমিকা অনেক। পরিবেশবান্ধব এ জ্বালানি যেমন নির্মল শিখায় জ্বলে তেমন এর দাহ্যক্রিয়াও কটুগন্ধহীন। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, প্রয়োজনের সময়ে এই গ্যাসসম্পদের অনুপস্থিতিও মাঝে মাঝে বিরক্তির কারণ হয়ে ওঠে। মাঝে মাঝে বলছি, কারণ আজকাল প্রায়ই গ্যাসবিহীন কাটাতে হয়। রান্নাঘরে নিয়মিত গ্যাস থাকে এ কথা বলার সুযোগ কম। প্রয়োজনীয় গ্যাসের অভাবে রান্নাঘরগুলো ভুগছে চরম জ্বালানি সংকটে। ফলে সময়মতো রান্না হচ্ছে না। প্রতিদিনই রান্নাঘরে শুরু হয় রীতিমতো যুদ্ধ। সকাল শুরু হয় রান্নার তাড়াহুড়া সঙ্গে গ্যাস ওভেনের চাবি ঘুরিয়ে আগুনের তীব্রতা বাড়ানোর অহেতুক চেষ্টায়। গৃহিণীদের কপালে বাড়তে থাকে বিরক্তির বলিরেখা। কারণ আগুনেঘনত্ব তথৈবচ। আবার কখনও কখনও গ্যাসের দেখাই মেলে না।

সম্প্রতি দেশজুড়েই গ্যাসের সংকটের কথা সংবাদমাধ্যমে আসছে। হঠাৎ নয়, এটি প্রতিদিনের ভোগান্তি। মধ্যরাত থেকে সকালের কিছুটা সময় পর্যন্ত গ্যাসের সরবরাহ থাকলও তা সন্তোষজনক নয়। তারপর গ্যাসের চুলার শুধুই নব ঘোরানো। কিন্তু গ্যাসের কাঙ্ক্ষিত প্রবাহের দেখা মেলা ভার। শুধু বাসাবাড়িতে নয়, অভিযোগ রয়েছে প্রয়োজনীয় গ্যাস পাচ্ছেন না শিল্পকারখানাগুলোও। ফলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। যাতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমাদের রপ্তানি বাণিজ্যও। সংবাদমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, দেশে গ্যাসের দৈনিক চাহিদা ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এখন সর্বোচ্চ সরবরাহ করা হয় ৩ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে আসে ২ হাজার মিলিয়ন ঘনফুটের কম। যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।

শীত মৌসুমে বিদ্যুৎ খরচ কম। তাই স্বাভাবিকভাবেই বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রগুলোতে গ্যাসের চাহিদা কম থাকে। এ কারণে ধারনা করা যায় অন্যান্য শিল্পকারখানা এবং আবাসিক ও বাণিজ্যিক খাতে গ্যাসের সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু তা হয় না। বরং গ্যাস সরবরাহ সংকট চলতেই থাকে। বর্তমানে গ্যাসসংকট আরও বেড়েছে। প্রাত্যহিক জীবনে ও শিল্পক্ষেত্রে গ্যাসের এমন সংকটে যে অচলাবস্থা  তৈরি হয় তা জনজীবনে এবং শিল্পের উৎপাদনেও বিরূপ প্রভাব ফেলছে। এ অবস্থার অবসানে গ্যাসসংকট মোকাবিলার জন্য উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় ঘাটতিগুলো খুঁজে বের করা জরুরি। সেইসঙ্গে প্রয়োজন সমস্যা অনুযায়ী সমাধান খোঁজা।

গ্যাসসংকটের প্রধান কারণগুলোর একটি, চাহিদার তুলনায় কম উৎপাদন এবং সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাব। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন বলছে, দেশের ৭০ শতাংশ বিতরণ লাইন ত্রুটিযুক্ত। যেগুলোর অধিকাংশরই মেয়াদ ফুরিয়ে গেছে অনেক আগেই। এছাড়া গ্যাসের এই পাইপলাইনগুলোর বেশিরভাগই নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি। ফলে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। গ্যাসের উৎপাদন ও সরবরাহ বৃদ্ধিতে বিশেষজ্ঞরা যেসব পরামর্শ দিয়েছেন, তার মাঝে দেশের বৃহৎ গ্যাসক্ষেত্রগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ এবং নতুন কূপ খনন ও পুরোনো কূপে ওয়ার্কওভার কাজ করে উচ্চহারে উৎপাদন বাড়ানো অন্যতম। আমরা জানি, দেশের মূল ভূখণ্ডের এখনও দুই তৃতীয়াংশ এলাকায় গ্যাস উত্তোলন বিষয়ক জোরালো অনুসন্ধান হয়নি। শুধু অতি সম্ভাবনাময় সমুদ্রবক্ষের গ্যাসক্ষেত্রগুলো অনুসন্ধানের আওতায় এসেছে, তাও অগভীর সমুদ্রে। গভীর সমুদ্রে এখনও তেমন অনুসন্ধান হয়নি। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অধীনে গভীরসমুদ্রসহ দেশের ভেতরে অনুসন্ধান কার্যক্রম বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে অনুসন্ধানকৃত কূপের সংখ্যাও বাড়াতে হবে, কাজ করতে হবে নতুন নতুন গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধানে। গ্যাসলাইন সরবরাহের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাইপলাইনগুলো সঠিকভাবে মেরামত করা উচিত, প্রয়োজনে পাইপগুলো পরিবর্তন করাও দরকার। দেশে গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে টেকসই ও আমাদের আর্থিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয়ের প্রতি নজর দিতে হবে। তাহলে গ্যাস আমদানিনির্ভরতাও কমানো যাবে। অধিক আমদানিনির্ভরতা অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করে।

গ্যাস সংকট থেকে মুক্তির জন্য গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধি, পুরোনো পাইপলাইন সংস্কার এবং অবৈধ সংযোগ বন্ধের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। একই সঙ্গে বিকল্প জ্বালানির উৎস ব্যবহারেও নজর দিতে হবে। যেন ভবিষ্যতের সংকট মোকাবিলা সহজ হয়। প্রতিদিনের ব্যবহারে অপচয় রোধ করার পাশাপাশি গ্যাস ব্যবহারে সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে। অহেতুক চুলা জ্বালিয়ে রাখা যাবে না। ব্যক্তির সচেতনতার পাশাপাশি অন্যদেরও সচেতন করতে হবে। সব অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হবে। সঠিক সময়ে গ্যাসের বিল পরিশোধ করতে হবে। এ বিষয়ে রেডিও, টেলিভিশন ও পত্রিকায় নিয়মিত জনসচেতনতাওমূলক প্রচারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। সবাইকে বোঝাতে হবে গ্যাস আমাদের সম্পদ, এ সম্পদ রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। আজকের সম্পদ রক্ষার প্রচেষ্টা আগামীতে আমাদের সমৃদ্ধ করবে। গ্যাসসংকট জিইয়ে রেখে অর্থনীতির চাকা সচল রাখা যাবে না। এজন্য সরকারকে বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করত হবে।

জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। প্রতিদিনের জ্বালানি ব্যবহারে সচেতন থাকতে হবে। এর প্রয়োগে সাশ্রয়ী হতে হবে। যতদিন পর্যন্ত আমরা জ্বালানিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে না উঠবো ততদিন তো বটেই স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও গ্যাসের অপচয় রোধে সবাইকে সচেষ্ট থাকতে হবে। তা হলেই আমরা একটি সুন্দর ও সুখী জাতিতে পরিণত হতে পারব, অর্থবিত্ত এবং নিজস্ব শক্তিতে সব সময় সমৃদ্ধ থাকতে পারব।

কলাম লেখক

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা