স্মরণ
পূরবী চৌধুরী
প্রকাশ : ০৩ জানুয়ারি ২০২৫ ১০:০৯ এএম
রাবেয়া খাতুন
আজ প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুনের মৃত্যুবার্ষিকী। ২০২১ সালের ৩ জানুয়ারি ৮৫ বছর বয়সে তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন। পেশায় শিক্ষক এবং একটা সময় সাংবাদিকতা করলেও সাহিত্যকর্ম ও সৃজনশীলতার জন্য তিনি আজ স্মরণীয়। প্রায় ছয় দশকের লেখালেখির জগৎ তার। নানা শ্রেণির মানুষের সান্নিধ্যের কারণে তার সাহিত্যের চরিত্র, দৃশ্যপট ও চিত্রকল্পগুলো ছিল দৃশ্যমান বাস্তবতাভিত্তিক। তাকে অভিহিত করা হতো জীবনঘনিষ্ঠ কথাসাহিত্যিক হিসেবে। তার কয়েকটি গ্রন্থ ধ্রুপদি সাহিত্যের মর্যাদা পেয়েছে। সহজ করে বললে তার মেধা ও মননশীলতা সমৃদ্ধ করেছে বাংলা সাহিত্য।
কর্মময় জীবনে
বাংলা একাডেমি, চলচ্চিত্র জুরি বোর্ড, লেডিস ক্লাব, বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ, মহিলা সমিতিসহ
অসংখ্য সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন রাবেয়া খাতুন। তার নিজস্ব সম্পাদনায় পঞ্চাশের দশকে
বের হতো ‘অঙ্গনা’ নামে নারীদের একটি মাসিক পত্রিকা। রাবেয়া খাতুনের জন্ম ১৯৩৫ সালে
মুন্সিগঞ্জের বিক্রমপুরে মামার বাড়িতে। পৈতৃকবাড়ি একই জেলার শ্রীনগর উপজেলার ষোলঘর
গ্রামে। ১৯৫২ সালের ২৩ জুলাই সম্পাদক ও চিত্রপরিচালক এটিএম ফজলুল হকের সঙ্গে রাবেয়া
খাতুনের বিয়ে হয়। চার সন্তানের জননী রাবেয়া খাতুন। প্রথম সন্তান ফরিদুর রেজা সাগর।
তারপর কেকা ফেরদৌসী, ফরহাদুর রেজা প্রবাল ও ফারহানা কাকলী।
তার প্রকাশিত
পুস্তকের সংখ্যা শতাধিক। এর মধ্যে রয়েছে উপন্যাস, গবেষণাধর্মী রচনা, ছোটগল্প, ধর্মীয়
কাহিনী, ভ্রমণকাহিনী, কিশোর উপন্যাস, স্মৃতিকথা। রেডিও, টিভিতে প্রচারিত হয়েছে অসংখ্য
নাটক, জীবন্তিকা ও সিরিজ নাটক। তার গল্পে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে কয়েকটি। তার রচিত
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস অবলম্বনে বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম ২০০৪
সালে নির্মাণ করেন ‘মেঘের পরে মেঘ’ চলচ্চিত্র। ২০১১ সালে তার আরেকটি জনপ্রিয় উপন্যাস
অবলম্বনে নির্মিত হয় চলচ্চিত্র ‘মধুমতী’। ২০০৩ সালে তার লেখা অবলম্বনে চলচ্চিত্র ‘কখনো
মেঘ কখনো বৃষ্টি’। রাবেয়া খাতুন উপন্যাস লিখেছেন ৫০টির বেশি, চার খণ্ডে সংকলিত ছোটগল্পের
সংখ্যা চার শতাধিক। ছোটদের জন্য গল্প-উপন্যাসও লিখেছেন তিনি। বাংলাদেশের ভ্রমণসাহিত্যেরও
অন্যতম লেখক তিনি।
সাহিত্যচর্চার
জন্য পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন একুশে পদক (১৯৯৩), বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৭৩), নাসির
উদ্দীন স্বর্ণপদক (১৯৯৫), হুমায়ূন স্মৃতি পুরস্কার (১৯৮৯)সহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা।
বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় অবদানের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবেন কথাসাহিত্যিক রাবেয়া
খাতুন। তার মৃত্যুবার্ষিকীতে সশ্রদ্ধ শ্রদ্ধাঞ্জলি।