তারুণ্য
মো. ইলিয়াস হোসেন
প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০২৫ ১০:৪৫ এএম
গত ১৫ বছরের দুঃশাসন, দুর্নীতি ও বিরোধী মতের নিপীড়নের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা স্বৈরাচারী সরকার গত জুলাই মাসে মারাত্মকভাবে হোঁচট খায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা চাকরির কোটা সংস্কারসংক্রান্ত বিষয়ে মহামান্য আদালতের একটি রায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয় এবং আন্দোলনে মাঠে নামে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের কয়েকজন নেতার লাগামহীন বক্তৃতা ও অবজ্ঞায় আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হতে থাকে এবং দেশের সকল স্কুল-কলেজে তা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেশের নিপীড়িত সকল শ্রেণি-পেশার মানুষও যোগ দেয়। ফলে আন্দোলন ছাত্র-জনতার সর্বজনীন আন্দোলনে রূপ নেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৫ আগস্টে স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটে। প্রধানমন্ত্রী তার পদ ছেড়ে পার্শ্ববর্তী দেশে চলে যেতে বাধ্য হন। আন্দোলনে অসংখ্য মানুষ আহত-নিহত হয়। আহত অসংখ্য মানুষ এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের এই ত্যাগ চিরস্মরণীয়।

স্বৈরাচারী সরকার
পতন আন্দোলনের মূল ভুমিকায় ছিল তরুণ শিক্ষার্থীরা, যাদের বলা হয় জেনারেশন জেড। এই জেনারেশন
জেড বা জেন-জি মূলত তারা, যাদের জন্ম ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে। এই প্রজন্ম প্রযুক্তিগতভাবে
অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও দ্রুত পরিবর্তনশীল সামাজিক পরিবেশে বেড়ে উঠেছে। তাদের মনস্তাত্ত্বিক
ও তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি আগের প্রজন্ম থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এরা বর্তমান প্রযুক্তি
ও ডিজিটাল দক্ষতার সাথে খুব স্বাভাবিকভাবে মিশে গেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংক্রিয়
প্রযুক্তি এবং সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের মাধ্যমে সমাজের যেকোনো পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত
করতে সক্ষম এই প্রজন্ম অধিকতর বহুমাত্রিক চিন্তাভাবনা করে। তারা লিঙ্গবৈষম্য, জাতিগত
ভেদাভেদ এবং সাংস্কৃতিক পরিচয় নিয়ে আগের প্রজন্মের তুলনায় অনেক বেশি উন্মুক্ত ও গ্রহণযোগ্য।
ফলে তারা সামাজিক ন্যায়বিচার, বৈষম্যহীনতা ও বৈচিত্র্যের প্রচার ইত্যাদিতে যথেষ্ট সক্রিয়,
যা সমাজকে আরও সমতাভিত্তিক করে তুলতে সক্ষম। এই প্রজন্মের শিক্ষার ধরন এবং মনস্তাত্ত্বিক
উন্নতি তাদের উদ্ভাবনী ক্ষমতাকে অনেক শক্তিশালী করেছে। তারা সমস্যার সমাধানে নতুন ও
সৃজনশীল পদ্ধতি ব্যবহার করে সমাজে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে এবং উন্নয়নকে ত্বরান্বিত
করতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। তা ছাড়া পরিবেশগত সমস্যা এবং জলবায়ু পরিবর্তন নিয়েও
জেনারেশন জেড অত্যন্ত সচেতন। তাদের সচেতনতা এবং সক্রিয়তা সমাজে টেকসই উন্নয়ন এবং পরিবেশ
সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সার্বিকভাবে জেনারেশন জেড-এর উদ্ভাবনী দৃষ্টিভঙ্গি,
প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বর্তমান সমাজকে ভবিষ্যতে একটি সমৃদ্ধ, উদ্ভাবনী
ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম।
অপরদিকে জেনারেশন
জেড-এর ইন্টারনেট ও মোবাইল প্রযুক্তিতে উচ্চমাত্রার সংযুক্তি উদ্বেগের কারণ বলে অনেকে
মনে করে। তবে এটি সমাজের সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও রাখতে সাহায্য করতে পারে।
যেমন জেনারেশন জেড গ্লোবাল কানেকটিভিটির সুযোগ নিয়ে তথ্য সংগ্রহ ও শেয়ার করে বৈশ্বিক
দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত করাসহ বিভিন্ন সংস্কৃতি, ধারণা ও অভিজ্ঞতার সংমিশ্রন ঘটিয়ে ভবিষ্যতে
দেশের মধ্যে সমতাপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সমাজ গঠনে সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে।
এ ছাড়া তারা ইন্টারনেটের মাধ্যমে অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে জ্ঞান অর্জন
এবং নিজেদের ভাবনাচিন্তা ও উদ্ভাবনী ধারণাগুলো শেয়ার করে বৈশ্বিক সম্প্রদায়কেও সমৃদ্ধ
করতে সহায়তা করতে পারে। বর্তমানে তারা মোবাইল অ্যাপস, গেমস, ই-কমার্স, ফ্রিল্যান্সিং,
ডিজিটাল মার্কেটিং ও ক্রিয়েটিভ কনটেন্ট এবং অন্যান্য ডিজিটাল টুলসের মাধ্যমে সামাজিক
সচেতনতা, সক্রিয়তা, উদ্যোক্তার মানসিকতা এবং ইনোভেশন ও ক্রিয়েটিভ চিন্তাভাবনার প্ল্যাটফর্ম
তৈরি করতে শিখেছে, যার মাধ্যমে তারা অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধি অর্জন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি,
সামাজিক, রাজনৈতিক ও পরিবেশগত আন্দোলনে অংশগ্রহণসহ অন্যদের সচেতন করতে গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা রাখছে। অধিকন্তু ইন্টারনেট ও অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলের ব্যবহার জেনারেশন জেডকে
প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ, জ্ঞানবহুল ও উদ্ভাবনী করে তুলছে, যা সমাজকে ভবিষ্যতে নতুন উচ্চতায়
নিয়ে যেতে সহায়ক।
এই জেনারেশনকে
নিয়ে আরও একটি অভিযোগ, এরা ভিডিও গেম খেলা এবং মোবাইল ব্রাউজিংয়ের মাধ্যমে নিজেদের
দৈনন্দিন জীবনের বড় অংশ ব্যয় করে। তবে তাদের এই আসক্তির ইতিবাচক দিকও রয়েছে। তা হলো,
অনেক ভিডিও গেম স্ট্র্যাটেজিক চিন্তাভাবনা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সমস্যা সমাধানের
দক্ষতা উন্নত করাসহ হার না মানার মানসিকতা তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। উদাহরণস্বরূপ,
রোল-প্লেয়িং গেম বা স্ট্র্যাটেজি গেমস খেলার মাধ্যমে তরুণরা জটিল সমস্যার সমাধান করার
কৌশল শিখছে, যা ভবিষ্যতে বাস্তব জীবনের সমস্যাগুলো সমাধানে কাজে লাগতে পারে। এ ছাড়া
ভিডিও গেমস খেলার মাধ্যমে অনেক তরুণ ইউটিউব, টুইট ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে কনটেন্ট
ক্রিয়েটর হিসেবে কর্মজীবন গড়ে তুলছে। গেমিং কমিউনিটি এবং ই-স্পোর্টসের মাধ্যমে তরুণরা
আয় করছে, যা ডিজিটাল ইকোনমিতে নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে।
মাল্টিপ্লেয়ার গেমগুলোতে খেলোয়াড়দের একসঙ্গে দলবদ্ধভাবে কাজ করতে হয়, যা দলগত দক্ষতা
ও যোগাযোগের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এ ছাড়া অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্মে আলোচনা ও মতামত বিনিময়ের
মাধ্যমে তারা কীভাবে একে অপরের সাথে কার্যকরীভাবে যোগাযোগ করতে পারে, তা শিখছে। ভিডিও
গেম খেলা এবং মোবাইল ব্রাউজিং শুধুমাত্র বিনোদন নয়; এগুলো জেনারেশন জেড-এর জন্য সৃজনশীলতা,
দক্ষতা ও সামাজিক সংযুক্তি বৃদ্ধির প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। সর্বোপরি যা ভবিষ্যতে
সমাজের গঠনমূলক পরিবর্তনে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে।
জুলাই-আগস্টের
অভ্যুত্থানে জেনারেশন জেড-এর ভূমিকা ছিল সবচেয়ে বেশি। তারাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের
ব্যানারে কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু করে, যা ক্রমান্বয়ে সরকার পতনে ১ দফার আন্দোলনে
রূপ নেয়।
এই আন্দোলনে নিরস্ত্র
শিক্ষার্থীরা ভ্যানগার্ড হিসেবে সন্মুখ সারিতে থেকেছে। তাদের অনেকে সোশ্যাল মিডিয়া
প্ল্যাটফর্ম যেমন ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটক ব্যবহার করে আন্দোলনের পক্ষে
সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা তৈরিতে সক্ষম হয়। তাদের পোস্ট, ভিডিও ও লাইভ স্ট্রিমের
মাধ্যমে আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ও আদর্শ সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়ে এবং সরকারবিরোধী নানা
স্লোগান, মিম ও ভিডিও ভাইরাল হয়। জেনারেশন জেডের যে অংশটি রাস্তায় আন্দোলনে সরাসরি
অংশগ্রহণ করেছে, তাদের অনেকেই বর্তমানে জাতিকে নেতৃত্ব দিতে শুরু করেছে, যা নতুন বাংলাদেশ
বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। সার্বিকভাবে, জেনারেশন জেড বাংলাদেশের
রাজনৈতিক আন্দোলনে তাদের উদ্ভাবনী, সৃজনশীল ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে হার না
মানার মানসিক শক্তিতে বলীয়ান হয়ে চূড়ান্ত বিজয়ের লক্ষ্যে সরকার পতনের আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা পালন করে, যা গত ১৫ বছরে তথাকথিত রাজনৈতিক দলগুলো করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই সরকার
পতনের এই আন্দোলনের সিংহভাগ কৃতিত্ব সাধারণ ছাত্র-জনতার প্রাপ্য।
গত ১৫ বছরে স্বৈরাচারী
সরকার বিরোধী মতের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার, মামলা, গুম-খুন, ইত্যাদি বিভিন্ন কায়দায়
নিপীড়ন ও নির্যাতন অব্যাহত রাখার মাধ্যমে দমননীতি প্রয়োগ করে। ফলে তৃনমূল পর্যায়ে রাজনৈতিক
দলগুলোর মধ্যে নেতৃত্বের অভাব দেখা দেয় এবং এর ফলে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষে সফলভাবে
কোনো আন্দোলন পরিচালনা সম্ভব হয়নি। এতে দলীয় কর্মীরাও দ্বিধাদ্বন্দ্বে থেকেছে এবং সঠিকভাবে
মাঠে নামতে পারেনি। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর অনেক শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধেই অসংখ্য
মামলা এবং গ্রেপ্তারের হুমকি থাকায় দলগুলোর মনোবল দুর্বল হয়েছে, যা বড় ধরনের আন্দোলন
গড়ে তোলার পথে বাধার কাজ করেছে।
বর্তমানে ৫ আগস্ট-পরবর্তী
গণতান্ত্রিক সরকার কেমন হবে তা নিয়ে চলছে আলোচনা। ছাত্র-জনতার আন্দোলন-পরবর্তী সকল
শ্রেণি-পেশার মানুষের গণদাবিÑ রাষ্ট্র সংস্কার করা। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ইতোমধ্যে
সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছে। অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক গৃহীত সকল সংস্কার কার্যক্রম
সম্পন্নের পরেই সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হতে হবে। সেক্ষেত্রে আগামীর
সরকারব্যবস্থা তারুণ্যনির্ভর হবে নাকি গতানুগতিক রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে গঠিত হবেÑ তা
নির্ভর করছে বেশ কিছু প্রভাবক বিষয়ের ওপর। যদিও তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং
সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তবে এটাই একমাত্র নিয়ামক নয়। আমাদের তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ
করে জেনারেশন জেড ও মিলেনিয়ালরা রাজনীতিতে আগ্রহী এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়।
তারা রাজনৈতিক সংস্কারের দাবি জানাচ্ছে, নতুন নেতৃত্ব চাইছে এবং অনেক ক্ষেত্রে পুরোনো
রাজনীতির সাথে বিরোধিতা করছে। তরুণরা উন্নয়ন, স্বচ্ছতা ও ভালো শাসনব্যবস্থা চায়।
এই তারুণ্য দেশের বড় শক্তি। এর যাতে অপচয় না হয় এজন্য রাজনৈতিক শক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা পালন করতে হবে। যদি এ প্রজন্মের ভোটাররা বড় কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথে এগিয়ে
আসে, তাহলে তারুণ্যনির্ভর নতুন দল বা জোট ক্ষমতায় আসতে পারে, সেক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সময়ের
প্রয়োজন। তবে এজন্য একটি সংগঠিত ও কার্যকর রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের দরকার হবে, যা এখনও
স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান নয়। তা ছাড়া বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রভাব, তার কার্যকলাপ
ও নীতির ওপরও নির্ভর করছে পরবর্তী গণতান্ত্রিক সরকার কেমন হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের
সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনার ক্ষমতা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে
সক্ষমতা বিবেচনায় রেখে তারা একটি নতুন বা পুরোনো শক্তিশালী দলকে সুবিধা দিতে পারে।
তবে বাংলাদেশে রাজনৈতিক কাঠামো এখনও অনেকটাই দুই প্রধান দলÑ বিএনপি ও আওয়ামী লীগ-নির্ভর।
এই দলগুলো তাদের প্রতিষ্ঠিত সংগঠন ও নির্বাচনী কৌশলের মাধ্যমে দেশীয় রাজনীতিতে শক্তিশালী
অবস্থানে রয়েছে। তাদের অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও দুর্বলতা সত্ত্বেও তারা ভোটারদের বড় একটি
অংশকে ধরে রাখতে সক্ষম। তবে আওয়ামী লীগ দল হিসেবে অতি পুরোনো হলেও পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে
এবং বর্তমান বাস্তবতায় তাদের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে জনগণের মাঝে আপত্তি থাকবে এটাই স্বাভাবিক।
এক্ষেত্রে বিএনপি ও অন্যান্য ছোট দলের মধ্যে জোট গঠনের মাধ্যমেই ভবিষ্যতের সরকার গঠনে
মূল ভূমিকা রাখতে পারে, এমন সম্ভাবনা গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় নিতে হবে।
যদি তরুণদের নেতৃত্বে
একটি নতুন বা বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি উঠে আসে এবং তা জনগণের মধ্যে জনপ্রিয়তা লাভ করতে
পারে, তাহলে তা ভবিষ্যতের সরকার গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে। বর্তমানে এমন কিছু ছোটখাটো
নতুন দল বা জোট আছে যারা নিজেদের পুরোনো দলের বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে,
কিন্তু তাদের গ্রহণযোগ্যতা এখনও স্পষ্ট নয়। তাই তরুণ প্রজন্ম সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে
প্রবেশ করতে চাইলে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার মতো জনসমর্থন অর্জন করতে হবে। তবে এজন্য
একটি স্থিতিশীল, সংগঠিত ও জনপ্রিয় নেতৃত্বের প্রয়োজন হবে, যা জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের
মাধ্যমে উঠে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তাদের নার্সিং ও মেন্টরিং করে রাজনৈতিকভাবে
সক্রিয় করতে এবং নেতৃত্বের মানসিকতা গড়ে তুলতে একটি ইন্টেলেকচুয়াল প্ল্যাটফর্ম খুবই
জরুরি।
সুতরাং ভবিষ্যৎ সরকার তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে গঠিত হবে নাকি গতানুগতিক রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে হবেÑ তা নির্ভর করছে তরুণদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, নতুন শক্তি গঠনের উদ্যোগ এবং পুরোনো দলগুলোর কৌশলগত অবস্থানের ওপর।