রাষ্ট্র সংস্কার
ড. মো. নুরুল ইসলাম
প্রকাশ : ২৯ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৬:২০ পিএম
পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার ওপর দাঁড়িয়ে আছে দেশ। এ ক্ষেত্রে সরকার মূলত গোটা রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের দিকে অধিক মনোযোগ দিলেও সামাজিক বিভিন্ন প্রভাবকের পরিবর্তন সামাল দিতে পারছে না। বিষয়টি সরকারের ব্যর্থতা বলা যাবে না। বরং সমাজের মানুষের সহনশীলতা ও নাগরিক বোধ সম্পর্কে সচেতনতার অভাব বলেই অভিহিত করতে হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতির চিত্র সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্যও নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে। একটি অভ্যুত্থানের পর যখন দীর্ঘদিন রাষ্ট্রে থিতু হয়ে থাকা সরকারের পতন ঘটে তখন স্বভাবতই রাষ্ট্রের সামাজিক অবকাঠামো ও নির্মাণগুলো স্থবির হয়ে পড়ে। তখন মতাদর্শিক অবস্থানগুলো বিক্ষিপ্ত অথচ নানা বৈচিত্র্যে একের পর এক হাজির হতে শুরু করে। আমরা এসব সংকটের মাধ্যমে সমাজকে উচ্ছৃঙ্খল বা অরাজক বলে রায় দিয়ে থাকি। কিন্তু যখন জনগণ তার ক্ষমতা প্রদর্শন করে তখন রাষ্ট্রকাঠামো নড়ে ওঠে এবং আস্তে আস্তে প্রশাসনিক কাঠামো বিদ্যমান অসন্তোষকে তাদের সেবার মাধ্যমে কমাতে শুরু করে। জুলাই-আগস্ট ২০২৪ ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আমাদের সমাজে যে পরিবর্তন এনেছে এর পরবর্তী সময়ে মতাদর্শিক বিচ্যুতি দেখা গেছে বেশি। এ ধরনের বিচ্যুতি ক্রমান্বয়ে বেড়েছে এবং সমাজে রাজনৈতিক বিভাজন এবং পুরোনো ধারার রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রচার-প্রসারই দেখা গেছে বেশি। সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া এবং সামাজিক অনাচার।
সম্প্রতি জাহাজে সাত খুন, কুমিল্লায় মুক্তিযোদ্ধাকে জুতার মালা পরিয়ে লাঞ্ছনা, রাজবাড়ীতে অনৈতিক পন্থায় খাসজমি বিক্রির প্রচেষ্টা, ব্যবসায়ী মহলের মধ্যে এক ধরনের উদাসীনতা যা মূলত বাজারব্যবস্থায় সিন্ডিকেটকে থিতু করে তুলেছে, আর্থিক খাতে বিগত সময়ের অনিয়ম-দুর্নীতির বিরূপ প্রভাব, বিচারব্যবস্থায় দীর্ঘসূত্রতা, পুলিশকে কার্যকরভাবে সক্রিয় করার বিষয়ে কিছুটা গাফিলতি, জনপ্রশাসনে স্থবিরতা, রাজনৈতিক মতবিভাজন, চুরি-ছিনতাই-ডাকাতি বেড়ে যাওয়া, গণপরিবহন নৈরাজ্য, নতুন করে চাঁদাবাজির উত্থান, সামাজিক অপরাধ বৃদ্ধিসহ সর্বশেষ সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ডÑএসব নানাবিধ সংকট একের পর এক সমাজ বিপর্যস্ত করে তুলছে। যেহেতু রাজনৈতিক কিংবা অন্য নৈতিক মতাদর্শের বিচ্যুতি বিদ্যমান রয়েছে তাই এখনও কোনোভাবেই মূল সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধান নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। বরং ধোঁয়াশা তৈরি হচ্ছে। সামাজিক নানা আন্দোলন ও চাহিদার মধ্যে আমরা মূল বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছি। নাগরিক চেতনা এবং সমাজে স্বৈরাচারী কোনো কাঠামো যেন আবার মাথা চাড়া দিতে না পারে এবং রাষ্ট্রকাঠামোয় যারাই প্রতিনিধিত্ব করবেন তারা সবাই যেন জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানোর উদ্যোগ নেন এবং শুধু এখানেই না থেমে যেন জনগণের কাছেই জবাবদিহি নিশ্চিত করেন। কিন্তু জবাবদিহি আদায় করার যে বোধ তা আমাদের সমাজের মধ্যে জন্মেছে কি না সেটিও একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। আপাতদৃষ্টে তা দেখা যাচ্ছে না।
আমরা সংবাদমাধ্যমে দেখছি, রাজধানীসহ সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। খুন, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ডাকাতি, হামলা, দখল, ধর্ষণসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ক্রমেই বাড়ছে। জুলাইয়ের পটপরিবর্তনকে ইতিবাচক-নেতিবাচক যে দৃষ্টিতেই দেখা হোক না কেন, প্রকৃত বিষয় হলোÑএকটি রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে। এ পরিবর্তনের পর সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাধীনতা সম্পর্কে ভিন্ন একটি ধারণার জন্ম নিয়েছে। নানা প্রতিষ্ঠান কিংবা মহলের কর্মকর্তা-কর্মীরা এজন্য সড়ক অবরোধ করলে অনেকে ভাবেন, ন্যায্য দাবি আদায় করার জন্য তারা শান্ত অবস্থান রেখেছেন। একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দখল করে গোটা রাজধানীর মানুষের দিনটি অতিষ্ঠ করে তুলছেন। ভিড়ে আটকে থাকা অ্যাম্বুলেন্সের শব্দও তাদের কানে পৌঁছাচ্ছে না যেন। এগুলো নির্দেশ করে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটলেও সমাজের মনস্তাত্ত্বিক বিকাশ ঘটেনি। পটপরিবর্তনের পর রাষ্ট্রকে সহযোগিতা করা কিংবা আইন প্রতিপালনে নাগরিক দায়িত্ব পালনের বিষয়টিকে সতর্ক দৃষ্টিতে মেনে নেওয়ার মানসিক পরিপূর্ণতা গড়ে ওঠেনি। তাই সমাজের প্রতিটি অংশই এখন মনে করে, তাদের দাবিই সঠিক। এমনকি পুলিশের কার্যক্রমও তাদের কাছে অকেজো। এমনটি রাষ্ট্রের জন্য ভালো কিছু নয়। কারণ যদি জনগণ মব হিসেবে সমাজে অরাজকতা করে তার সুযোগ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো আরও ভয়াবহ সংকট তৈরি করে।
বাংলাদেশের রাজনীতির অর্জন যেমন আছে অনেক তেমনি বিসর্জনও কম নয়। আমাদের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে যদি পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করি তাহলে স্পষ্টতই প্রতীয়মান হয় দেশের জনগণকে স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে এ পর্যন্ত বহুবিধ প্রতিকূলতা-প্রতিবন্ধকতা ডিঙিয়েই আসতে হয়েছে। জুলাই-আগস্ট পরবর্তী প্রেক্ষাপটে মানুষ নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। দেশের সিংহভাগ সচেতন জনগণ মনে করে অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহীত সংস্কার কার্যক্রম যথাযথভাবে সম্পন্ন হোক। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঐক্য, সংস্কার ও নির্বাচন শীর্ষক জাতীয় সংলাপ পর্বে যথার্থই বলেছেন, সংস্কারবিহীন নির্বাচন দেশকে এগিয়ে নিতে পারবে না। সংস্কার বর্তমান প্রেক্ষাপটে বড় স্বপ্ন। সংস্কার এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক দলগুলোকে যথাযথ সহযোগিতা করতে হবে। কাঙ্ক্ষিত সংস্কার পর্ব শেষে নির্বাচন হলে এর সুফল শুধু দেশের জনগণই পাবে না, রাজনৈতিক দলগুলোর ভাগেও তা সমভাবেই বণ্টিত হবে। কাজেই সংস্কার আগে না দ্রুত নির্বাচন জরুরি এই তর্ক এখন নিরর্থক। এক কথায় বলতে হয়, পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে যে সুযোগ এসেছে তাতে সংস্কার সর্বাগ্রে জরুরি।
অর্থনীতিতে বৈদেশিক বিনিয়োগ হ্রাস পাওয়া, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান তৈরি না হওয়া এবং দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে না পারার নেতিবাচক প্রভাব সমাজে নানা শ্রেণির মানুষের ওপর পড়ে। এ নেতিবাচকতার ফলে নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ে। দারিদ্র্যের কশাঘাত থেকে বাঁচার জন্য তারা চুরি বা সংঘবদ্ধ হয়ে ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। তাদের উদ্দেশ্য থাকে কিছু অর্থ পাওয়া। আবার এ মানুষদের অনেক সময় সমাজের সুযোগসন্ধানী অনেকেই ব্যবহার করে। এভাবে আস্তে আস্তে অপরাধের একটি বৃত্ত তৈরি হয়। এমনকি পটপরিবর্তনের সময়ও যেহেতু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থেকে অর্থনৈতিক অনেক প্রতিষ্ঠানই কার্যকর অবস্থায় নেই, সেহেতু বেকারত্বের সঠিক চিত্রও আমরা দেখতে পাচ্ছি না। কিন্তু এটুকু বোঝা যাচ্ছে, শহর ও গ্রামীণ এলাকায় নিম্ন আয়ের মানুষ কোণঠাসা হয়েই নানা অপরাধে যুক্ত হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আমরা দেখতে পাচ্ছি দুই ধরনের প্রবণতা। কেউ কেউ সুযোগ সন্ধান করছে আর কেউ আসলে সুযোগের ব্যবহার করছে। দীর্ঘদিন যারা রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা হয়ে ছিল, তারা এখন প্রকাশ্যে রাজনীতি করার সুযোগ পাচ্ছে। নিজেদের রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের জন্য অনেকেই বিভিন্ন স্থানে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত গোষ্ঠীদের সঙ্গে আঁতাত করছে। আর এ আঁতাতের ফলে অপরাধীরাও সুযোগ পাচ্ছে। আবার যেহেতু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনও সম্পূর্ণভাবে স্থিতিশীল অবস্থায় ফেরেনি, তাই অনেকে অপরাধের সুযোগ নিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আমরা সরলভাবে অপরাধীদের শনাক্ত করতে পারব না।
দেশের অনেক শিক্ষিত মানুষের কাছেও প্রচলিত আইন সম্পর্কে ধারণা নেই। তাই তারা অনেক সময় অজ্ঞতাবশত অনেক অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায় এবং তা সমাজে বিচ্ছিন্ন কিছু অপরাধের জন্ম দেয়। উন্নত বিশ্বের অনেক দেশেই একজন নাগরিকের জন্য প্রয়োজনীয় আইনের পকেটবুক সংস্করণ থাকে। যাপিত জীবনে কোন কোন ক্ষেত্রে তারা আইন লঙ্ঘন করতে পারে কিংবা তার ওপর অন্যায় হলে কীভাবে ন্যায়বিচার পাবে তা এসব পকেটবুকে লেখা থাকে। অর্থাৎ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার প্রশাসনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি মানুষের মধ্যে আইন মেনে চলার সদিচ্ছা থাকতে হবে। কারণ মানুষ যখন জানবে কোন কোন ক্ষেত্রে সে আইন ভঙ্গ করছে, তখন তার মধ্যে সচেতনতা তৈরি হবে। আমাদের দেশে এ সচেতনতা তৈরি করা কঠিন। কারণ আমরা আমাদের আইনশৃঙ্খলা কাঠামোর আধুনিকায়ন করতে পারিনি। অনেক মানুষকেও আইনসচেতন করতে পারিনি, এটা খুব দুঃখজনক ।
পটপরিবর্তনের পর সমাজের মধ্যে মানুষ একটু বেশিই স্বাধীন ভাবনায় ভুগছে। কিন্তু সমাজে স্বাধীনতা সম্পর্কে তাদের ধারণা সঠিকভাবে গড়ে ওঠেনি। এটি আমাদের ব্যর্থতা। সমাজতত্ত্ববিদ হিসেবে সমাজকে নিয়ে যেভাবে কাজ করার কথা কিংবা যেভাবে সমাজকে নীতির মাধ্যমে বদলে দেওয়ার সুযোগ কাজে লাগানোর কথা তা আমরা অনেক ক্ষেত্রেই নিতে পারিনি। শিক্ষার ক্ষেত্রে সাক্ষরতাকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে প্রকৃত শিক্ষা কিংবা সচেতনতা বোধ গড়ার জায়গাটি গড়তে পারিনি। তাই সমাজ এক ধরনের দ্বিধাগ্রস্ত উত্তরে আটকে। নীতি-নৈতিকতা তাদের কাছে বালাই এবং দারিদ্র্য ও পুঁজিবাদী সমাজে অপরাধই আয়ের উৎস। অথচ প্রাচীন গ্রিসে নাগরিকত্ব নগররাষ্ট্রের স্বাধীনতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চলক। পারিবারিক যেকোনো সিদ্ধান্ত বা কর্মকাণ্ডের মতোই তারা বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে যেত। এ ক্ষেত্রে তারা অবশ্যই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেছে এবং ওই সময়ের নিরিখে নানা প্রতিবন্ধকতা ও কঠোর নিয়মের মধ্যেও ব্যক্তিস্বাধীনতা উপভোগ করেছে। আধুনিক সমাজে এতটা আয়েশি হওয়ার সুযোগ নেই। জটিল সমাজব্যবস্থায় তাই আইনকে বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে। আমাদের দেশে সবাইকে ঘরে ঘরে নিরাপত্তা দেওয়ার মতো জনবল নেই। কিন্তু আমাদের বিচারিক ব্যবস্থার পক্ষে সুশাসন ও বিচারিক দীর্ঘসূত্রতা দূর করার অসংখ্য সুযোগ রয়েছে। কিন্তু আমরা সে সুযোগ কাজে লাগাতে পারছি না এবং অনেকেই এসব বিষয়ে কোনো রা করছেন না। অথচ পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষায় অবস্থান করছে দেশ।
দেশে এখনও রাজনৈতিক দলগুলো শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে বলে মনে হচ্ছে না। অন্যদিকে অস্থিতিশীলতা বাড়ছে। নির্বাচন ও সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো নানা মতপার্থক্যে বিভক্ত হয়ে পড়ছে। এ সংকট সমাধানের জন্য সবার আগে রাজনৈতিক ঐকমত্য জরুরি। রাজনৈতিক সংস্কারও দরকার। রাজনৈতিক দলগুলোকে দ্রুত সামাজিক বাস্তবতা ও বিশৃঙ্খলাকে অনুধাবন করতে হবে। বিষয়টি তাদের নিজেদের অস্তিত্বের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। এখন সমাজে যে ধরনের স্বাধীনচেতা ভাবনা রয়ে গেছে সেখানে সঙ্গত কারণেই অনুমান করা যায়, নির্বাচনের আগে দলের উপদলীয় কোন্দল এমনকি আলাদা স্বতন্ত্র দল তৈরি হয়ে যেতে পারে। এমন হলে রাজনীতি এমন এক ঘোরপ্যাঁচে আটকাবে যা জটিলতা আরও বাড়াবে। এখন পর্যন্ত একাধিক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে গেছে মতাদর্শিক সংঘর্ষের জেরে। এমন ঘটনা সামাজিক অপরাধ। এ সবই সামাজিক অস্থিতিশীলতার দিকেই ইঙ্গিত করে। এ সংকট থেকে মুক্তি পাওয়ার একমাত্র উপায় রাষ্ট্রকে স্থিতিশীল রাখার জন্য নাগরিক কাউন্সেলিং শুরু করা। কাজটি কঠিন নয়। সরকারকে জনগণের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করতে হবে। আবার রাজনৈতিক দলকেও অংশীজন বানানোর দ্বার উন্মুক্ত রাখতে হবে। যে প্রত্যাশায় সংস্কার আমরা চাই, তার স্বার্থে হলেও ঢেকিটা গিলতে হবে।