× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সম্পাদকীয়

সাত নাবিক খুনের রহস্য ভেদ করতেই হবে

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৪ ১১:২৫ এএম

সাত নাবিক খুনের রহস্য ভেদ করতেই হবে

চট্টগ্রাম থেকে ইউরিয়া সার নিয়ে সিরাজগঞ্জগামী এমভি আল বাখেরা নামের চাঁদপুরের মাঝেরচর এলাকায় নোঙর করা জাহাজটিতে গলা কেটে সাত নাবিককে হত্যার নৃশংস ঘটনা যেকোনো শান্তিপ্রিয় নাগরিককে অধিকতর উদ্বিগ্ন-উৎকণ্ঠিত না করে পারে না। ২৪ ডিসেম্বর প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজটিতে নাবিক ছিলেন ৮ জন। তার মধ্যে দুর্বৃত্তদের নৃশংসতা থেকে একজন বেঁচে গেলেও তিনিও মুর্মূষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এমন নৃশংসতার ঘটনা শুধু নৌপথের নিরাপত্তাই নয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উদ্বেগজনক অবনতিরও ইঙ্গিত করে। এই ঘটনার রহস্য এখন পর্যন্ত উন্মোচিত না হলেও ধারণা করা যায়, তা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আমরা যখন এই সম্পাদকীয় লিখছি তখন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের অনলাইন সংস্করণে দেখছি, নিহতদের লাশ নিতে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের সামনে ভিড় করছেন স্বজনরা। এ ঘটনায় চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে শিল্প মন্ত্রণালয়। আমরা মনে করি, এই নৃশংস ঘটনার রহস্য উন্মোচনে এবং দ্রুত বিচারের প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রত্যেকটি সংস্থার দায়িত্বশীলদেরও অধিকতর তৎপরতার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের যথাযথ ভূমিকা পালন বাঞ্ছনীয়। 

শিল্প মন্ত্রণালয় এমভি আল বাখেরা জাহাজে সাত খুনের ঘটনায় যে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে তাকে আমরা স্বাগত জানাই। আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। টানা বেশ কিছুদিন ধরে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা মহলের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার চিত্র উঠে এসেছে। আমরা দেখছি, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অপরাধপ্রবণতা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। খুন-ডাকাতি-ছিনতাইসহ বহুবিধ দুষ্কর্ম নাগরিক সমাজে দুর্ভাবনার ছায়া প্রলম্বিত করেছে। আল বাখেরা নামক জাহাজটিতে উদ্ধারকাজ চালাতে গিয়ে একজন উদ্ধারকর্মীর যে বর্ণনা প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ উঠে এসেছে তাও শুভবোধ সম্পন্ন কাউকেই অস্বস্তিতে না ফেলে পারে না। নৌ পুলিশ জানিয়েছে, ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে চাঁদপুরের মেঘনা নদীর হাইমচর উপজেলার ঈশানাবালা এলাকায় ওই জাহাজটি থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় ৮ জন নাবিককে উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে তারা পাঁচজনকে মৃত উদ্ধার করেন। বাকি তিনজনকে আহত অবস্থায় চাঁদপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই সম্পাদকীয় স্তম্ভেই আমরা কয়েকদিন আগেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অর্থাৎ জননিরাপত্তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সব পক্ষের নজর আরও গভীর করার তাগিদ দিয়েছিলাম। আমরা দেখছি, দেশের পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে সমাজবিরোধীরা বিভিন্ন ছদ্মাবরণে সময়-সুযোগ বুঝে জননিরাপত্তায় অভিঘাত করছে। আমরা জানি, যেকোনো স্থিতিশীল সমাজের অন্যতম শর্ত জননিরাপত্তা। টেকসই উন্নয়নের সঙ্গেও জননিরাপত্তার বিষয়টি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। দেশের পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার যখন রাষ্ট্র সংস্কারের নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করে বৈষম্যের ছায়া সরাতে নানারকম সংস্কারমূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে তখন নতুন করে সমাজবিরোধীদের মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার বিষয়টি উৎসে নজর দেওয়ার তাগিদও দেয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সমাজে অপরাধ বৃ্দ্ধির মতো উদ্বেগজনক পরিস্থিতির উদ্ভব কিংবা জিইয়ে থাকা অনেকটাই অপ্রত্যাশিত। জননিরাপত্তাহীনতার ছায়া রাষ্ট্র বিনির্মাণের অবয়বে নতুন করে প্রশ্নও যুক্ত করছে। হঠাৎ করেই দেশে হত্যাসহ নানাবিধ অপরাধের ঘটনা বেড়ে চলার পেছনে রাজনৈতিক কোনো ইন্ধন রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখার তাগিদও ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহল থেকে উঠেছে। চাঁদপুরে মাঝনদীতে নোঙর করা জাহাজে নাবিকদের গলা কেটে হত্যার বিভীষিকা এ প্রশ্নও দাঁড় করায়, সমাজবিরোধীদের এত শক্তির উৎস কোথায়? 

চাঞ্চল্যকর কোনো ঘটনা ঘটলে সংবাদমাধ্যম মুখর হয়ে ওঠে, সরকারের সমালোচনা হয়, প্রশাসনের দায়িত্বশীল কারও কারোর গাফিলতির চিত্রও উঠে আসে কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে নানামহল থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এই প্রেক্ষাপটে সরকার ও প্রশাসন কিছুটা নড়েচড়ে বসে কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই যথাযথ প্রতিবিধান নিশ্চিত না হওয়ার মতো অনভিপ্রেত অধ্যায় সামনে চলে আসে। ফলে সমাজবিরোধী শক্তি আড়াল থেকে ফিরে আসে কিংবা দুর্বল অভিযোগ গঠনের কারণে গ্রেপ্তার হলেও জামিন নিয়ে বেরিয়ে যায়। আমাদের অভিজ্ঞতায় এও আছে, তারাই পরবর্তী সময়ে আরও গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়ে এবং অপরাধীদের কেউ কেউ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখে ধুলো দিয়ে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার নজিরও রয়েছে। গুরুতর কোনো অপরাধী কারা অভ্যন্তর থেকে তার চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে নানামাত্রিক অপরাধের বিস্তৃতি ঘটায় এমন চিত্রও ইতেঃপূর্বে সংবাদমাধ্যমেই বহুবার উঠে এসেছে। অর্থাৎ অপরাধ চক্রের ধারাবাহিকতায় কোনো ছেদ পড়ছে না। অপরাধ কেন হয়, অপরাধের মাত্রা কেনে বাড়ে, অপরাধীরা কেন বেপরোয়া হয়ে ওঠে এমন অনেক প্রশ্নও উঠেছে। চাঁদপুরে জাহাজে নাবিক হত্যার মর্মস্পর্শী ঘটনাটি সেই প্রশ্নগুলোই ফের সামনে নিয়ে এসেছে। লোমহর্ষক এমন অপরাধের উৎসে নজর দিয়ে আশু যথাযথ প্রতিবিধান নিশ্চিত করতে না পারলে জননিরাপত্তাহীনতার ছায়া আরও প্রলম্বিত হবে, এ আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া না। 

চাঁদপুরে জাহাজে নাবিক হত্যার ঘটনাটির পেছনে হীনস্বার্থজনিত কোনো বিষয় সংশ্লিষ্ট কি নাÑ এমন প্রশ্নও কোনো কোনো মহল থেকে উঠেছে। আমরা মনে করি, সবার আগে জননিরাপত্তা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে মানবাধিকারের সুরক্ষাও কঠিন হয়ে পড়বে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করায় সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর দায় অনেক বেশি তা সত্য, কিন্তু এও অনস্বীকার্য; এ ক্ষেত্রে রাজনীতিকসহ সমাজপ্রতিনিধিদের দায়ও কম নয়। কিছু সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সক্ষমতা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি। এই প্রেক্ষাপটে আমরা আশা করব, তারা তাদের দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে আরও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে। চাঁদপুরে পণ্যবাহী নৌযানে নৃশংসতার প্রেক্ষাপট রচনার অনুসন্ধান করে খুনের রহস্য ভেদ করতেই হবে। ডাকাতি-হত্যা-দস্যুতা-ছিনতাই উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে এই বার্তাও সংবাদমাধ্যমেরই। আমরা আশা করব, সব প্রশ্নের সুরাহা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল পক্ষগুলো প্রশ্নাতীতভাবে দ্রুততার সঙ্গে করতে সক্ষম হবে। সুশাসনের ব্যাপারে মনোযোগ আরও গভীর করা জরুরি। আমাদের বিশ্বাস, আইনের শাসন নিশ্চিত হলে জানমালের নিরাপত্তার পথ সুগম হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা