শুভ বড়দিন
জেসান বিশ্বাস
প্রকাশ : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৪ ১১:১৬ এএম
বড়দিন হলো এক বিশেষ দিন, যা যিশুখ্রিস্টের জন্মদিন হিসেবে পালিত হয়। দিনটি খ্রিস্টধর্মের অন্যতম প্রধান উৎসব হলেও এর তাৎপর্য পুরো মানবজাতির জন্য গভীর। যিশুখ্রিস্ট কেবল একটি ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা নন; তিনি মানবতার মুক্তি ও ঈশ্বরের প্রেমের প্রকাশ। কেন তার জন্ম এত গুরুত্বপূর্ণ? তা বুঝতে আমাদের তার আগমন ও কর্মের গুরুত্ব অনুধাবন করতে হবে। যিশুখ্রিস্টের আগমনের মূল কারণ পাপগ্রস্ত মানবজাতিকে মুক্তি দেওয়া। আদম ও হাওয়ার পাপের মাধ্যমে মানবজাতি পাপের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়, যা ঈশ্বরের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক ছিন্ন করে। ঈশ্বরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, একটি নিখুঁত ও পাপমুক্ত আত্মা প্রয়োজন ছিল মানবজাতিকে পুনরায় ঈশ্বরের সঙ্গে মিলিত করার জন্য। সেই মুক্তিদাতা হলেন যিশুখ্রিস্ট।

যিশুর আগমন নিয়ে
বহু শতাব্দী আগে থেকেই ভবিষ্যদ্বাণী হয়েছিল। যিশাইয় নবী বলেছিলেন, ‘একটি কুমারী গর্ভধারণ
করবেন এবং তিনি এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেবেন; তার নাম হবে ইম্মানুয়েল’ (যিশাইয় ৭ :
১৪)। মিখা নবী উল্লেখ করেছিলেন, তিনি বেথলেহেমে জন্মগ্রহণ করবেন। এই ভবিষ্যদ্বাণীগুলো
যিশুর জন্মের মাধ্যমে পূর্ণ হয়, যা প্রমাণ করে তিনি ঈশ্বরের নির্ধারিত মুক্তিদাতা।
যিশুখ্রিস্টের জীবন ও শিক্ষা তাকে অনন্য করে তোলে। তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন এক সরল
ও দরিদ্র পরিবেশে। কিন্তু তার মধ্যে ছিল পূর্ণ ঈশ্বরত্ব ও মানবত্ব। তিনি কখনও পাপ করেননি
অথচ সব মানুষের পাপের বোঝা বহন করেছিলেন। তার শিক্ষা ভালোবাসা, ক্ষমা ও দানশীলতার মাধ্যমে
মানবজাতিকে একটি নতুন জীবনধারা শেখায়।
যিশুখ্রিস্টর
ক্রুশীয় মৃত্যুর এই মহৎ আত্মত্যাগ ছিল ঈশ্বরের প্রতি তার নিখুঁত আনুগত্য ও আমাদের প্রতি
অসীম ভালোবাসার প্রকাশ। যিশুখ্রিস্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তিনি আবার আসবেন। তিনি বলেছেন,
‘আমি তোমাদের জন্য স্থান প্রস্তুত করছি। আর যদি আমি স্থান প্রস্তুত করি, তবে আমি আবার
এসে তোমাদের আমার কাছে নিয়ে যাব, যাতে তোমরা যেখানে থাক, আমিও সেখানে থাকি (যোহন ১৪
: ৩)।’ এই প্রত্যাবর্তনের দিনটি হবে তার রাজত্ব প্রতিষ্ঠার দিন, যেখানে সৎকার্যশীলরা
চিরন্তন আনন্দে থাকবে ও অন্যায় শাস্তি পাবে।
যিশুখ্রিস্ট আমাদের
দায়িত্ব দিয়েছেন পৃথিবীর সব জাতির কাছে সুসমাচার প্রচার করার। তিনি বলেছেন, ‘তোমরা
সব জাতির লোকদের শিষ্য করো, তাদের বাবা, ছেলে এবং পবিত্র আত্মার নামে বাপ্তিস্ম দাও
এবং যা কিছু আমি তোমাদের শিখিয়েছি, তা পালন করতে শিক্ষা দাও (মথি ২৮:১৯-২০)।’ সুসমাচার
প্রচার শুধু একটি কাজ নয়, এটি ঈশ্বরের প্রেম ও যিশুর ত্যাগকে সব মানুষের কাছে পৌঁছে
দেওয়ার পবিত্র আহ্বানও।
যিশুখ্রিস্টের
গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় তিনি পাপীর পরিত্রাতা। তিনি নিজেকে ক্রুশে উৎসর্গ করেছিলেন মানবজাতির
পাপের প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে। রোমীয়দের প্রতি পত্রে (৫:৮) লেখা আছে, ‘কিন্তু ঈশ্বর আমাদের
প্রতি তার প্রেম এভাবে প্রকাশ করেছেন: যখন আমরা পাপী ছিলাম, তখনই খ্রিস্ট আমাদের জন্য
মারা গিয়েছিলেন।’ তার মৃত্যু এবং পুনরুত্থান আমাদের চিরন্তন জীবন লাভের পথ তৈরি করেছে।
যিশুখ্রিস্টের জন্ম কেবল একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়; এটি সমগ্র মানবজাতির মুক্তির বার্তা। বড়দিন কেবল আনন্দ-উৎসবের দিন নয়, বরং ঈশ্বরের অসীম প্রেম ও মানবজাতির প্রতি করুণা উপলব্ধি করার সময়। যিশুখ্রিস্টের জন্ম আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ঈশ্বর আমাদের কতটা ভালোবাসেন ও আমাদের জীবনে কীভাবে সত্যিকারের শান্তি এবং মুক্তি আনতে চান। সুতরাং বড়দিনে যিশুর জন্মের গুরুত্ব উপলব্ধি করে আমরা যদি তাকে জীবনের পরিত্রাতা হিসেবে গ্রহণ করি, তবে আমাদের জীবন পরিপূর্ণ ও অর্থবহ হবে।