× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বায়ুদূষণ

সংকটের উৎসে নজর দিতে হবে

ড. বিভূতিভূষণ মিত্র

প্রকাশ : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪ ১০:৩৬ এএম

ড. বিভূতিভূষণ মিত্র

ড. বিভূতিভূষণ মিত্র

বিআরটিএর হিসাব মতে, দেশে নিবন্ধিত বাস, ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানের সংখ্যা ৫৮ লাখ। এর মধ্যে ৮১ হাজার ৮৪৭টি বাস, মিনি বাস রয়েছে। ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও লরির সংখ্যা হবে ২ লাখ ২ হাজার ৭৭২টি। এসবের মধ্যে বাস-মিনিবাসের ৪১ শতাংশ ২০ বছরের বেশি পুরোনো। আর ট্রাক, কাভার্ডভ্যানের ১৫ শতাংশ ২৫ বছরের বেশি পুরোনো। যদিও দেশের প্রচলিত আইনে ২০ বছরের পুরোনো বাস ও ২৫ বছরের পুরোনো ট্রাক চলাচল নিষিদ্ধ। এইসব বাস, ট্রাকের ধোঁয়া বায়ুদূষণের অন্যতম কারণ। বলা হয়ে থাকে, বায়ুদূষণের ৪০ ভাগ হয়ে থাকে এইসব যানবাহন থেকে নির্গত ধোঁয়ায়। পরিবেশ মন্ত্রণালয় থেকে ইতোমধ্যে এইসব বাস, ট্রাক রাস্তা থেকে প্রত্যাহারের জন্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআরটিএ) চিঠি দেওয়া হয়েছে। 

এর আগে পুলিশ সদর দপ্তর থেকেও বলা হয়েছে, ফিটনেসবিহীন গাড়ি কোনো অবস্থাতেই চলতে দেওয়া যাবে না। কারণ হিসেবে জানানো হয়, সড়ক দুর্ঘটনার কথা। বিআরটিএর তথ্য মতে, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে প্রথম তিন মাসে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে গেছে। এবং এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মৃত্যু বাড়ছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে ৬০ দশমিক ২৮ শতাংশ। আর এতে মৃত্যু ঘটেছে ৪০ দশমিক ৩৩ শতাংশ। তথ্যমতে, জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে ১ হাজার ৬৩০টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে মারা গেছে ১ হাজার ৪৭৭ জন। আর এইসব ঘটনায় আহত হয়েছেন ১ হাজার ৯২০ জন। 

সম্প্রতি পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পুরোনো যানবাহন ও ধোঁয়া উদগিরণকারী মোটরযান যেন রাস্তায় বের না করা হয়। রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকার বায়ুমান ঝুঁকিপূর্ণ। এই অবস্থায় দূষিত বাতাসের প্রতি সংবেদনশীল মানুষদের দূষিত বাতাসের কারণে অপ্রয়োজনে ঘর থেকে না বের হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একান্তই প্রয়োজন হলে মাস্ক পরে বের হতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া বায়ুদূষণ মোকাবিলায় নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রত্যেককে উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে শিল্পকারখানার মালিক, ইটভাটার মালিকদের উল্লেখ করে কিছু কিছু পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। যেমন কঠিন বর্জ্য পোড়ানো বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া নির্মাণস্থলে ছাউনি ও বেষ্টনী দেওয়া, নির্মাণসামগ্রী ঢেকে রাখা, নির্মাণস্থলে যাতে ধুলো না ওড়ে সেজন্য দিনে অন্তত দুইবার পানি ছিটানোর কথা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়। 

গত ১২ ডিসেম্বর সকালবেলায় ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স স্কোর ছিল ২০২। ২০২ স্কোরের অর্থ হলো রাজধানী ঢাকার এখনকার বায়ুমান খুবই অস্বাস্থ্যকর। এই স্কোর জানান দিচ্ছে বিশ্বের চতুর্থ দূষিত শহরের তালিকায় এখন ঢাকা। অবশ্য প্রথম স্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর, সেখানকার স্কোর ২৭৭। দ্বিতীয় স্থানে আছে ভারতের দিল্লি, সেখানকার স্কোর ২৫১। তৃতীয় অবস্থানে আছে নেপালের কাঠমান্ডু। সেখানকার স্কোর ২০৭। 

কোনো স্থানের বাতাসে অতি ক্ষুদ্র বস্তুকণার পরিমাণ শূন্য থেকে ৫০’র মধ্যে থাকলে সেই বাতাসকে ভালো বাতাস বলা হয়ে থাকে আর ৫১ থেকে ১০০’র মধ্যে থাকলে মধ্যম। ১০১ থেকে ১৫০’র মধ্যে থাকলে তা বিপদসীমার মধ্যে আছে বলে ধরা হয়। ১৫১ থেকে ২০০’র মধ্যে থাকলে অস্বাস্থ্যকর এবং ২০১ থেকে ৩০০’র মধ্যে হলে খুবই অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ঢাকার বায়ুমান খুবই অস্বাস্থ্যকর এই কারণে। বায়ুমান ৩০১ থেকে ৫০০’র মধ্যে হলে তা বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কোনো একটা এলাকার বায়ুদূষণ বেড়ে যায় বাতাসে অতি ক্ষুদ্র কণার উপস্থিতির কারণে। ২০২৩ সালে বাতাসে যে পরিমাণ পিএম বা অতি ক্ষুদ্র বস্তুকণা পাওয়া গিয়েছিল তা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ডের চেয়ে ১৬ গুণ বেশি ছিল। 

শুধু ঢাকা নয়, ঢাকার নিকটবর্তী গাজীপুর দেশের সবচেয়ে দূষিত জেলা। ওখানকার মানুষের গড় আয়ু কমে যাচ্ছে ৮.৩ বছর। বাংলাদেশে বায়ুদূষণে প্রতি বছরে মারা যায় ৮০ হাজার মানুষ। বায়ুদূষণের কারণে যেমন বাড়ছে বিষণ্নতা তেমনি বায়ুদূষণের কারণে জিডিপির ৪ ভাগেরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ছাড়া বাংলাদেশে নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত দূষণের মাত্রা এত থাকে যে এটি সারা বছরের প্রায় ৬৫ শতাংশ। বিশ্বব্যাংকের আরও একটি তথ্য মতে, বাংলাদেশে ২০১৯ সালে বায়ুদূষণজনিত সমস্যায় ৭৮ থেকে ৮৮ হাজার মানুষ মারা গেছে। একটি তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে বায়ুদূষণের মাত্রা বেশি থাকে শীতকালে এবং অস্বাস্থ্যকর হলেও বর্ষাকালে দূষণ একটু কম থাকে। ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান তিনটি কারণ চিহ্নিত করেছে বিশ্বব্যাংক। এগুলো হলোÑ ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণ কাজে সৃষ্ট ধোঁয়া। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, প্রতি বছর বায়ুদূষণের কারণে বিশ্বে আনুমানিক ৩০ লাখ মানুষ মারা যায়। এসব বায়ুদূষণের কারণে মূলত স্ট্রোক, হৃদরোগ, ফুসফুসের ক্যানসার ও অন্যান্য রোগ, শ্বাসযন্ত্রের নানাবিধ সংক্রমণ হতে পারে। 

এই অবস্থায় সরকারের বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হলে ফিটনেসবিহীন গাড়ি বন্ধ করতে হবে। সম্প্রতি পরিবেশ উপদেষ্টা বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে একটি টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং বায়ুদূষণের উৎস চিহ্নিত করে তা বন্ধে পদক্ষেপ নিচ্ছেন। আশা করা যায়, এই পদক্ষেপের কারণে বায়ুদূষণ রোধ আরও কার্যকরী হবে। একসময় বায়ুদূষণের কারণে মাস্ক নয়, স্বাভাবিকভাবেই হয়তো চলাচল করতে পারবে সকল মানুষ। কিন্তু এই কাজটি শুধু সরকারের পক্ষে করা সম্ভব না। এজন্য দরকার জনসচেতনতাও। ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশের প্রয়োজন পড়বে না, যদি আমরা নিজে থেকে সচেতনতার হাত বাড়িয়ে দেই। একইসঙ্গে সমস্যার উৎসে নজর দিতে হবে।

  • শিক্ষক ও গবেষক 
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা