পরিপ্রেক্ষিত
শতদল বড়ুয়া
প্রকাশ : ২০ ডিসেম্বর ২০২৪ ১০:০৪ এএম
প্রতিদিন পত্র-পত্রিকার পাতা খুললেই চোখে পড়ে নকল ও ভেজালের সংবাদ। আমাদের জীবনমান অনেক বেড়েছে, সেই সঙ্গে বেড়েছে ভেজাল ও নকলের দৌরাত্ম্যও। সরকারের পাশাপাশি সাধারণত জনগণও যদি একটু সচেতন হয় তাহলে সমাধানের পথ বেরিয়ে আসবে। আমরা নকল বা ভেজাল প্রতিরোধে কামিয়াব হচ্ছি না সর্ষের মধ্যে ভূত থাকায়। এ ছাড়া সাধারণের পক্ষে আসল-নকল চেনার উপায়ও নেই। প্রসাধনের মোড়কগুলো চোখধাঁধানো রঙিন প্যাকেটে বন্দি। অনেক প্যাকেটের গায়ে বিদেশি বাঘা বাঘা কোম্পানির নাম। কসমেটিকসের দোকানের শোকেচে শোভা পায় রঙ-বেরঙের প্রসাধনী। রাস্তার ধারে ফুটপাতে থরে থরে সাজানো থাকে এগুলো। এসব নকল ও ভেজাল প্রসাধনী ব্যবহারে বাড়ছে চর্মরোগসহ নানান জটিলতা। চিকিৎসকরা সচেতন করছেন। আমাদের নিজেদেরও সাবধান এবং সচেতন হতে হবে। পরিবারের সদস্যদেরও সচেতন করে তুলতে হবে। অনলাইনের ভেজাল এবং নকল পণ্য কিনে অনেক সময়ে অজান্তেই ক্রেতারা প্রতারিত হচ্ছে। ভুক্তভোগীরা ছুটছে চিকিৎসকের কাছে। ব্যবহারকারীর ত্বকে সংক্রমণ এবং ত্বক লাল হয়ে যাওয়াসহ নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিলে বুঝতে হবে বাজার থেকে কেনা দামি ক্রিমটা ভেজালে ভরা।
সারা পৃথিবীতে কোথাও রঙ ফর্সাকারী ক্রিম ব্যবহার করে স্থায়ীভাবে রঙ ফর্সা হওয়ার নজির নেই। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ছাড়াই অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য ব্যবহারে উৎসাহিত করে মানুষকে। অনেক বেনামি প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য ব্যবহারে অনেকে ভালো ফল পেয়েছে এমন দাবি সংবলিত বিজ্ঞাপনও প্রচার করে। কিন্তু আদতে সেগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ রয়েই যায়। এ ছাড়া আরও একটি বিষয় পণ্য কেনার আগে ক্রেতাদের মনে রাখতে হবে। তা হলো পণ্য উৎপাদনের তারিখ। এই তারিখটি যেন তার সীমা পেরিয়ে না গিয়ে থাকে। তারিখ পেরিয়ে যাওয়া পণ্য কেনা থেকে বিরত থাকতে হবে। ভেজাল এবং উৎপাদনের তারিখ পেরিয়ে যাওয়া পণ্য ব্যবহারে ত্বকের ক্যানসারের সঙ্গে সঙ্গে গর্ভজাত নারী এবং তার সন্তানেরও নানারকম সমস্যার আশঙ্কা বিশেষজ্ঞরা উড়িয়ে দেন না। সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, ভেজাল প্রসাধনীতে থাকে মার্কারি ও পারদজাতীয় বিভিন্ন উপাদান। পারদ যেহেতু ভারী ধাতু সেহেতু শরীর থেকে বের হতে পারে না। শরীরে দীর্ঘদিন থাকলে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা দেওয়ার আশঙ্কা বেশি। পারদ ত্বকের ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়। এ ছাড়া হাইড্রোকুইনন ক্রিম ত্বকের স্বাভাবিক গঠনকে পাল্টে দেয়।
এখন অনেক ক্ষেত্রে বাজারে যেতে হয় না, বাসাবাড়ির দরজায় এসে প্রসাধনসামগ্রী বিক্রয় করে বিক্রেতা। ক্রেতাকে নানাভাবে মুগ্ধ করে ভেজাল প্রসাধনী তথা পণ্যসামগ্রী গছিয়ে দেওয়া হয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে ভেজাল ও নকল প্রসাধনীর নানা লেবেল, টিনের কৌটা তৈরির কারখানা রয়েছে। দেশের নামিদামি মার্কেট ছাড়াও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের অসংখ্য পেজে বিভিন্ন নামকরা কোম্পানির নাম নকল করে প্রসাধনসামগ্রী বিক্রি করছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, ভেজাল প্রসাধনী ব্যবহারের ফলে ত্বকের চামড়া পাতলা হয়ে যায়, ত্বকে লোমের পরিমাণ অস্বাভাবিক বেড়ে যায়, ত্বকে বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ হয়, পশমের গোড়ায় ফোঁড়াসহ ত্বকে ভাঁজ পড়ে যায়। এতে গর্ভবতী নারীর ভ্রূণটির স্নায়ুবিকাশে বাধাগ্রস্ত হয়। প্রসাধনসামগ্রী কেনার আগে তাই সকলেরই বাড়তি সতর্কতা জরুরি। অন্যথায় বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।