পর্যবেক্ষণ
মো. ইলিয়াস হোসেন
প্রকাশ : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪ ১২:৪২ পিএম
মো. ইলিয়াস হোসেন
যেকোনো দেশের উন্নয়ন নির্ভর করে সেদেশের অবকাঠামোগত উন্নতির ওপর। তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা কিন্তু থেমে নেই। তবে এই অগ্রযাত্রার প্রধান অন্তরায় হলো বিদ্যুৎ অর্থাৎ জালানি সংকট। বিদ্যুৎ খাত বাংলাদেশের উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর, তার প্রথম পাঁচ বছরে যথাযথ টেন্ডার প্রক্রিয়া ছাড়াই কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপন করে এ সমস্যার একটি তাৎক্ষণিক সমাধান করার চেষ্টা করেছে। এতে অনেক স্বজনপ্রীতিসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও ওঠে। এ ছাড়াও কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কিনতে গিয়ে রাষ্ট্রের ব্যয় বেড়েছে এবং জনস্বার্থ বিঘ্নিত হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। এর সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশের অবকাশও নেই।

অতঃপর এই সমস্যার একটি টেকসই সমাধানের জন্য বিগত সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর একটি মাস্টারপ্ল্যান ‘ভিশন ২০৩০’ পরিকল্পনা করে, যেখানে ২০৩০ সালে মোট বিদ্যুৎ উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৩৯ হাজার মেগাওয়াট। ওই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ক্ষমতাচ্যুত সরকার কয়লাভিত্তিক বেশ কিছু দীর্ঘমেয়াদি বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দেশি-বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগের চুক্তি করে। এর মধ্যে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) সঙ্গে মাতারবাড়ী এলাকায় (৬০০x২) ১২০০ মেগাওয়াট, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের যৌথ বিনিয়োগে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ১৩২০ মেগাওয়াট, এস আলম গ্রুপের সঙ্গে চীনের যৌথ বিনিয়োগে বাঁশখালীতে ১৩২০ মেগাওয়াট এবং বাগেরহাটের রামপালে ভারতের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগে ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে বটে তবে প্রশ্নগুলো বিতর্কের উর্ধ্বে নয়।
একই সঙ্গে রাশিয়ার সহায়তায় ঈশ্বরদীর রূপপুরে ২০০০ মেগাওয়াট নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট স্থাপনের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে, অচিরেই এর পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হবে। এসব প্রকল্প পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে জ্বালানি খাতের সমস্যা অনেকাংশেই কমে যাবে। তবে নিরবছিন্ন কয়লা সরবরাহের ক্ষেত্রে ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে। এই ধরনের বড় বড় প্রকল্পের ক্ষেত্রে প্রচুর আর্থিক বরাদ্দ থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত মান এবং সময়সূচি অনুযায়ী প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে যথাযথ তদারকির অভাবে প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে। এ ছাড়াও বিদ্যুৎ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে ঘুষ ও দুর্নীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আর্থিক অনিয়মের ফলে প্রকল্পগুলোর প্রকৃত খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। সর্বোপরি বিগত ক্ষমতাচ্যুত সরকারের আমলে বিদ্যুৎ খাতে স্বল্পমেয়াদি প্রকল্পে অতিরিক্ত ব্যয়, বড় বড় প্রকল্পে তদারকি ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং প্রশাসনিক দুর্নীতি বিদ্যুৎ খাতে অনিয়মের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।
বিগত সরকারের আমলে গৃহীত পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩০ সাল পর্যন্ত ৩৯ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়, তাতে গ্যাস এবং ফসিল ফুয়েলের চেয়ে কয়লার ওপর নির্ভরশীলতা (৫০%) অনেক বেশি। এমতাবস্থায় দেশে উত্তোলিত কয়লার ওপর নির্ভর করার যেমন সুযোগ নেই, অপরদিকে দেশে গ্যাসপ্রাপ্তির সম্ভাবনা ক্রমাগতভাবে কমে যাওয়ায়, বড় বড় বিদ্যুৎ প্রকল্পে আমদানিনির্ভর কয়লার ওপর নির্ভরশীলতা অনেকাংশে বেড়ে যায়। ফলে নিয়মিতভাবে দীর্ঘমেয়াদে কয়লা আমদানি করতে গিয়ে নানাবিধ জটিলতা এবং ঝুঁকির সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে; যার ফলে পায়রা, রামপাল এবং মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে বিভিন্ন সময়ে বন্ধ রাখতে হয়েছে। অধিকন্তু কয়লার খনি-সমৃদ্ধ দেশ যেমন ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে দীর্ঘমেয়াদে কয়লা আমদানি অনেক ব্যয়বহুল এবং এতে বিস্তর অনিশ্চয়তাও রয়েছে।
এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের জালানি খাতের জন্য জামালগঞ্জে আবিষ্কৃত কোলমাইন হতে পারে এক নতুন সম্ভাবনা। জামালগঞ্জের এই কোলমাইনটি আবিষ্কৃত হয় ১৯৬২ সালে। কিন্তু এই মাইন ফিল্ডটির গভীরতা এত নিচে যে, তা স্বাভাবিক উত্তোলন পদ্ধতিতে (উন্মুক্ত/ড্রিলিং) ওঠানো সম্ভব নয়। ইতোমধ্যে উক্ত মাইন ফিল্ডের ওপর বেশ কয়েকবার জরিপ চালানো হয়েছে। ১৯৬৫ সালে মেসার্স ফ্রেইড ক্রুপ্প, ১৯৬৭ সালে জার্মানির রোহ্ষ্টফ, ১৯৬৮ সালে গ্রেট ব্রিটেনের মেসার্স পাওয়েল ডাফ্রেইন টেকনিক্যাল সার্ভিস লিমিটেড ব্যাপক সম্ভাব্যতা জরিপ কাজ পরিচালনা করে। এসব জরিপে কয়লার মজুদ এবং গুণগত মান সুনিশ্চিত হয়েছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৫ সালে গ্রেট ব্রিটেনের ‘মেসার্স রোবার্টসন রিসার্স ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’, ১৯৭৮ সালে রোমানিয়া এবং ১৯৮৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার একটি কোম্পানি পুনরায় জরিপ কাজ পরিচালনা করে। সব জরিপেই কোলের গভীরতা (৬৪০ মিটার থেকে ১১৫০ মিটার পর্যন্ত), গুণগত মান এবং এর পরিমাণ (১০৫৩ মিলিয়ন টন) নিশ্চিত হওয়া গেছে, যা স্বাভাবিক মাইনিং পদ্ধতিতে (উন্মুক্ত/ড্রিলিং) উত্তোলন করা সম্ভব নয়। তদুপরি সরকার ১৯৮৭ সালে মেসার্স ফ্রেইড ক্রুপ্পকে পুনরায় সিজ্মিক সার্ভে করার নির্দেশ প্রদান করে। কিন্তু একই সময়ে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি আবিষ্কৃত হওয়ায় এবং জামালগঞ্জের কোল উত্তোলনের পদ্ধতি অনিশ্চিত হওয়ায় এই প্রকল্পের বিষয়ে সরকারের আগ্রহ কমে যায়।
আন্ডারগ্রাউন্ড কোল গ্যাসিফিকেশন কয়লা উত্তোলনের এমন একটি নতুন টেক্নোলজি; যা মাটির অতিরিক্ত গভীরে অবস্থিত কয়লাকে পুড়িয়ে গ্যাসে রূপান্তর করে উত্তোলন করা সম্ভব। যেসব মাইন ফিল্ডের গভীরতা অনেক বেশি, যা স্বাভাবিক মাইনিং পদ্ধতিতে (উন্মুক্ত/ড্রিলিং) উত্তোলন করা সম্ভব নয়, সেসব মাইন ফিল্ডে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এই ধারণাটা অত্যন্ত নবীন এবং সম্পূর্ণ বিজ্ঞানভিত্তিক হলেও এর ব্যাপক ব্যবহার বিশ্বব্যাপী এখনও শুরু হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোম্পানি ক্লিন কোল লিমিটেড এ প্রযুক্তিতে ব্যাপক বিনিয়োগ করেও পরে তারা নিজেদের গুটিয়ে নেয়। এরপর লিঙ্ক এনার্জি লিমিটেড নামে অস্ট্রেলিয়ার একটি কোম্পানি এই প্রযুক্তিতে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করে। তারা বিশ্বব্যাপী বেশ কয়েকটি গভীর মাইন ফিল্ডে বর্ণিত টেক্নোলজি ব্যবহার করে প্রাথমিকভাবে পাইলট প্রজেক্ট এবং পরবর্তীতে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে সক্ষম হয়েছে। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার সিন্সিলা পাইলট প্রকল্প এবং উজবেকিস্তানের বাণিজ্যিক প্রকল্প উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে এই কোম্পানি বিশ্বব্যপী ৫০টির মতো এ ধরনের প্রকল্পে কাজ করছে।
বাংলাদেশের জয়পুরহাটের জামালগঞ্জ মাইন ফিল্ডটি এমনই একটি গভীর মাইন ফিল্ড, যা বর্ণিত পদ্ধতি ব্যবহারের জন্য আদর্শ এবং সম্ভাবনাময় প্রকল্প। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে উক্ত কয়লা খনি হতে পরবর্তী ৫০ বছরের জন্য ৫০০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। ফলে আমদানিনির্ভর কয়লাভিত্তিক পাওয়ার প্ল্যান্টের যে প্রতিনিয়ত লজিস্টিক সমস্যা তা এ প্রকল্পে থাকবে না। শুধু মাটির নিচে ড্রিল করে কয়লার লেয়ারে অক্সিজেন পুশ করে কয়লা পোড়াতে হবে এবং অপর একটি ড্রিল পাইপ দিয়ে উৎপাদিত গ্যাস বের করে এনে তা পাওয়ার প্ল্যান্টে ব্যবহার অথবা গ্যাসকে লিকুইড করে তা অটো বা সিএনজি স্টেশনে, বাসার জালানি হিসেবে এবং অন্যান্য কাজে ব্যবহার করা যাবে। এ প্রযুক্তি ব্যবহারে তেমন বেশি জায়গারও প্রয়োজন হবে না। কেবল অক্সিজেন প্ল্যান্ট এবং যদি গ্যাস থেকে লিকুইড করার প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়, তবে সেক্ষেত্রে ১০ থেকে ১২ একর জমির প্রয়োজন হবে। আর মাঝেমধ্যে নির্দিষ্ট দূরত্বে ড্রিল করার জন্য খোলা জায়গার প্রয়োজন হবে। এই টেকনোলজি ব্যবহারে খনির উপরিভাগে বসবাসরত জনসাধারণের কোনো ক্ষতি বা পরিবেশগত কোনো সমস্যা তৈরি হবে না। আর এ কয়লা থেকে গ্যাস উৎপাদন সম্ভব হলে সমগ্র উত্তরবঙ্গে নতুন নতুন শিল্প স্থাপনসহ আর্থসামাজিক উন্নয়নে এক নবদিগন্তের সূচনা হবে। সরকার এ প্রকল্প হতে কেবল র্যায়াল্টি এবং করপোরেট ট্যাক্স হিসেবে ন্যূনতম ৪৫ বিলিয়ন ইউএস ডলার সংগ্রহ করতে পারবে।
প্রাথমিকভাবে যদিও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোম্পানি ‘ক্লিন কোল লিমিটেড’ ইউসিজি পদ্ধতিতে জামালগঞ্জ কোলমাইনে পাইলট প্রজেক্ট করার প্রস্তাব দেয়, কিন্তু উক্ত কোম্পানি নিজেদের গুটিয়ে নিলে অস্ট্রেলিয়ার লিঙ্ক এনার্জি লিমিটেড এতে বিনিয়োগে আগ্রহী হয় এবং গত ২০০৯ সালে প্রথমবারের মতো তৎকালীন সরকার প্রধান বরাবর তারা আবেদন করে। ইতোমধ্যে তারা জামালগঞ্জের মাইন ফিল্ড এলাকায় জরিপের কাজ সম্পন্ন করে উপরোল্লিখিত কয়লার বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন। লিঙ্ক এনার্জি বর্তমান সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সামনে বর্ণিত প্রযুক্তি এবং সম্ভাবনার ওপর বেশ কয়েকবার বিস্তারিত প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। কিন্তু ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিষয়টি কেবল আলোচনার টেবিলেই সীমাবদ্ধ থেকেছে।
তবে সরকারের ‘ফুয়েল ভিশন ২০৩০’ বাস্তবায়নে কোলের ওপর নির্ভরতা বেশি হওয়ায় এবং আমদানিনির্ভর কয়লাভিত্তিক পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনে ব্যাপক লজিস্টিক সমস্যার কথা চিন্তা করে জামালগঞ্জের মজুদ কয়লা ইউসিজি পদ্ধতিতে উত্তোলন করে পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপন করা যে অনেক সাশ্রয়ী এবং ঝামেলামুক্ত হবে, বিশেষজ্ঞ মতামতে তা ইতোমধ্যে প্রমাণিত। ক্ষমতাচ্যুত সরকারের অসাধু কর্মকর্তাদের দুরাচারে এবং কয়লা, এলএনজি আমদানিতে ব্যক্তিগত সুবিধাপ্রাপ্তির লোভে নিজস্ব কয়লা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে আগ্রহের ব্যাপক ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়েছে, ফলে বাংলাদেশস্থ অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশন বেশ কয়েকবার সরকারের উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করেও এতে আশানুরূপ সাড়া পায়নি, ফলে প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখেনি। বর্তমানে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা যদি তাদের প্রজ্ঞা, বিচক্ষণতা এবং উপলব্ধি দিয়ে প্রকল্পের প্রযুক্তি ও সার্বিক কারিগরি দিকগুলো নতুন করে অনুধাবন করার চেষ্টা করেন। আমার বিশ্বাস, বাংলাদেশের এই ক্রান্তিলগ্নে প্রকল্পটির সফলতা আমাদের সবার মনে নতুন আশার সঞ্চার করবে।
সেক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে এ প্রকল্প হতে ইউসিজি পদ্ধতিতে গ্যাস উত্তোলনের মাধ্যমে ২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা করা যেতে পারে। বর্ণিত পাইলট প্রজেক্টের সাফল্যের ভিত্তিতে পরবর্তীতে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের পরিকল্পনা করা হবে। আন্ডারগ্রাউন্ড কোল গ্যাসিফিকেশন (ইউসিজি) একটি নতুন প্রযুক্তি হলেও এর কারিগরি সাফল্য ইতোমধ্যেই প্রমাণিত হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় এই প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে। একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানেও বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাইলট প্রকল্প চলমান রয়েছে। তাই আমাদের দেশেও এর সাফল্য অবশ্যম্ভাবী। এমতাবস্থায় সময়ক্ষেপণ না করে যত দ্রুত সম্ভব এ প্রকল্পের কাজ শুরু করা দরকার।