× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মুক্তিযুদ্ধকে জনগণের কাছে ফেরত আনতে হবে

উমামা ফাতেমা

প্রকাশ : ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪ ১১:৫৬ এএম

উমামা ফাতেমা

উমামা ফাতেমা

আমরা যারা বর্তমান প্রজন্ম রয়েছি, তাদের শৈশব-কৈশরের পুরোটা সময়ই ছিল শেখ হাসিনার আমল। আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে মূলত পাঠ করা হয়েছে আওয়ামী লীগের লেন্সে। সে সময় পত্রিকায় যা প্রকাশ করা হতো, টেলিভিশনে যা প্রচার করা হতো, সবকিছুই ছিল মুক্তিযুদ্ধের একধরনের শেখ মুজিবীয় সংস্করণ। আমরা বড় হতে হতে মুক্তিযুদ্ধসংক্রান্ত বইগুলো পড়া শুরু করি। মূলধারার ৭১, তিনটি সেনা অভ্যুত্থান : না বলা কথা, ১৯৭১ ভেতরে বাহিরেসহ হ‍ুমায়ূন আহমেদের ‘জোছনা ও জননীর গল্প’, ‘দেয়াল’সহ অনেক বই পড়া হয়। এ ছাড়া আহমেদ ছফার অলাতচক্র, ওঙ্কারসহ বহু বই পড়ি যা বলে শেষ করা যাবে না। এসব বই পড়ে আমি মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে বিশদ ধারণা পাই। 

আমি তখন উপলব্ধি করি, যুদ্ধের সময়কালে মানুষের প্রতিনিয়ত যাপিত জীবনে সে যখন সংগ্রামমুখর হয়ে ওঠে, তখন সে কিন্তু একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। ছোট ছোট মানুষের ব্যক্তিগত সংগ্রাম যখন এক বিন্দুতে এসে মিশে যায়, তখন সবার চাওয়া পাওয়া একাকার হয়ে যায়। সেখান থেকেই কিন্তু আমাদের মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। সেই সময়ের বিবেচনায় শেখ মুজিবুর রহমান একজন নেতা হয়ে ওঠেন। কিন্তু তিনি তার নেতৃত্বের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ তার শাসনামল যদি আমরা দেখি তাহলে দেখব তিনি চূড়ান্ত অযোগ্য শাসকের পরিচয় দিয়েছেন। এই মুক্তিযুদ্ধকে আমাদের জনযুদ্ধের আকারে পাঠ করা প্রয়োজন আছে। মুক্তিযুদ্ধের পূর্বকার বা যুদ্ধ চলাকালীন শেখ মুজিবুর রহমানের যে ভূমিকা তার জন্যও তাকে প্রাপ্য মর্যাদা দিতে হবে। শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে অসীম ক্ষমতা ছিল যা দিয়ে তিনি দেশটাকে পরিবর্তন করতে পারতেন। কিন্তু তা তিনি ব্যবহার করলেন দেশটাকে শোষণ করতে। চূড়ান্ত পর্যায়ের আত্মকেন্দ্রিক ও দাম্ভিক হয়ে উঠলেন তিনি।

১৯৭১ সালে মানুষ জীবন দিয়ে যুদ্ধ করেছে, এই ২০২৪ সালে এসেও মানুষ যুদ্ধংদেহী মনোভাব নিয়ে মাঠে ছিল, হয়তো অস্ত্র ছিল না হাতে, কিন্তু লাঠি নিয়ে বিগত শাসকের বিরুদ্ধে যুদ্ধংদেহী মনোভাব নিয়ে মাঠে ছিল। তাই বলতে পারি, আমরা একধরণের যুদ্ধই করেছি বিগত শাসকের বিরুদ্ধে। আমরা এই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বুঝতে পেরেছি এই সংগ্রাম আসলে জনগণের সংগ্রাম। জনগণ সম্মিলিতভাবে একই বিন্দুতে এসে মিলিত হয়। যেমনটা হয়েছিল ১৯৭১ সালে। পূর্ব বাংলার জনগণ সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিল তারা আর পশ্চিম পাকিস্তানের সঙ্গে থাকবে না। সবার চাওয়া এক বিন্দুতে এসে মিলিত হয়েছিল। একইভাবে এই ২০২৪ সালে এসে সকল জনগণ তাদের দুঃখ-কষ্ট, সংগ্রামের মাঝ দিয়ে গিয়ে এক বিন্দুতে এসে মিলিতে হয়ে চেয়েছিল তারা আর শেখ হাসিনাকে চায় না। সেই পয়েন্ট থেকেই একটি অভ্যুত্থান হয়েছে। 

এই অভ্যুত্থান আসলে আমাদের ইতিহাসের যে যাবতীয় সম্ভাবনা তার দ্বার উন্মোচন করে দিয়েছে। এখন আমাদের কাছে সুযোগ তৈরি হয়েছে। আমরা এখন বিভিন্ন পাবলিক ফোরামে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কথা বলতে পারি, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা করতে পারি। মুক্তিযুদ্ধকে আমরা এখন নানান লেন্সে দেখতে পারি। ২০২৪ সালে যে অভ্যুত্থান হলো, এর সঙ্গে ইতিহাসের যে সংযোগ তাও আমরা পড়তে পারছি। সবকিছু মিলিয়ে বলা যায়, নতুন দেশের অভ্যুত্থানপরবর্তী বিজয় দিবস আমাদের সামনে। এই বিজয় দিবস প্রকৃতপক্ষে জনগণের বিজয় দিবস। এত দিন মানুষ বিজয় দিবসকে দেখেছে দলীয় উদযাপনের আকারে। যেদিন শুধু আওয়ামী লীগের পার্টি অফিসে জয় বাংলা বাংলার জয়, এক সাগর রক্তের বিনিময়ে গান বাজত। এগুলো শুধু আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়নির্ভর অনুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এই যে বিজয় দিবস এসেছে, এটা জনগণের উদযাপনের দিবস। মুক্তিযুদ্ধকে আমাদের জনগণের কাছে ফেরত আনতে হবে। 

এই অভ্যুত্থান আমাদের শিক্ষা দেয়Ñ আমরা যে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পড়ি তা শুধু আওয়ামী লীগের দলীয় বয়ান ছিল না, এই জনপদের মানুষের সংগ্রামী ইতিহাসের ধারায় ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হয়েছিল। আমাদের সংগ্রামকে সব সময় মনে রাখতে হবে। গত ৫৩ বছর ধরে দেশের ইতিহাসে একচ্ছত্রভাবে আধিপত্য ছিল আওয়ামী লীগের। যে কারণে সাংস্কৃতিক ফোরাম থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা-দীক্ষা সবক্ষেত্রেই আওয়ামী লীগের একক আধিপত্য ছিল। আজকে ২০২৪ সালে আমরা যখন স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকারের পতন ঘটালাম, তখন আমাদের সামনে সুযোগ আছে সারা দেশে সাংস্কৃতিক কাজে ছড়িয়ে পড়ার। এজন্য সময় প্রয়োজন।

আমাদের পাশের দেশ ভারত অনবরত বাংলাদেশ নিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এ সময় আমাদের জাতীয় ঐক্যের বার্তাই পারে বৈশ্বিক যেকোনো হামলা থেকে আমাদের বাঁচাতে। বিজয় দিবসে জাতীয় ঐক্যের বার্তাকেই পুনরুজ্জীবিত করতে হবে। আমাদের এখানে বেশিরভাগ বাঙালি জাতিগোষ্ঠী, এ ছাড়া রয়েছে আদিবাসীসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠী। জনগোষ্ঠীর বেশিরভাগ বাঙালি হলেও এরা বিভিন্ন মতপার্থক্যে বিভক্ত। তবুও ২০২৪ সালে এসে আমরা ইতিহাসের দায় নিয়ে সবাই জাতীয় ঐক্যে রাজি আছি, তা বজায় রাখাই বিজয় দিবসের চ্যালেঞ্জ। আর তার সূচনা করতে হবে মুক্তিযুদ্ধের জন-ইতিহাস প্রচারের মধ্য দিয়ে। আমি আশা করব, বর্তমান সরকার এই ঐতিহাসিক দায় অনুভব করবে। মুক্তিযুদ্ধকে জনগণের আকাঙ্ক্ষার রূপ দিয়ে যার যে প্রাপ্য তাকে তা দিয়েই ইতিহাসকে পাঠ করতে হবে। এত দিন মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কথা বলা যেত না, গবেষণা করা যেত না। এখন মুক্তিযুদ্ধকে প্রকৃতভাবে জানা ও পাঠ করার সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে দিতে হবে। তবেই আমরা ঐতিহাসিক দায় মোচন করতে পারব। 

  • মুখপাত্র, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন 
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা