× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পরিপ্রেক্ষিত

শীতকালীন ছুটিতে ‘বই পড়া’

এমদাদ হোসেন ভূঁইয়া

প্রকাশ : ১২ ডিসেম্বর ২০২৪ ১১:২৩ এএম

শীতকালীন ছুটিতে ‘বই পড়া’

বিদায়ি ২০২৪ সালের শিক্ষাপঞ্জী অনুযায়ী সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সাপ্তাহিক ছুটি ৫৪, অন্যান্য ছুটি ৭৬, সর্বমোট ছুটি ছিল ১৮০ দিন। কর্মদিবস পাওয়া গেছে ১৮৫ দিন। নানান কারণে আরও কিছুদিন গ্যাপ পড়লেও ধরে নিচ্ছি ১৮৫ দিনই ক্লাস হয়েছে। ক্লাসে সিলেবাস অনুযায়ী, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান পরিচালিত হয়েছে। ছুটিতে ‘সহায়ক গ্রন্থ’ পড়তে হয়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্লাসের আগে-পরে বা ছুটিতে লাইব্রেরি ওয়ার্ক কিংবা সহায়ক গ্রন্থ পাঠ করার প্রবণতা একেবারেই কম। জিজ্ঞেস করলে বলা হয়, শ্রেণিকক্ষের বই পড়েই শেষ করা যায় না, সহায়ক গ্রন্থ পড়ব কখন? প্রশ্ন হলো, ৩৬৫ দিনের মধ্যে ১৮০ দিন (৪৯.৩১% সময়) ছুটি পাওয়ার পরও কি এ কথা গ্রহণযোগ্য হবে? তাহলে আর কয়দিন বন্ধ পেলে, এই সময় মিলবে? আসলে সদিচ্ছা বা আন্তরিকতার অভাব। 

দেশে মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক স্তরের স্কুল-মাদ্রাসায় শিক্ষাবর্ষ শুরু হয় গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে। অর্থাৎ ইংরেজি বছরের প্রথম মাসে (জানুয়ারি), শেষ হয় ডিসেম্বরে, বার্ষিক বা সমাপনী পরীক্ষার মধ্য দিয়ে। বর্তমানে ডিসেম্বর চলছে। প্রতিষ্ঠানগুলোতেও চলছে বার্ষিক পরীক্ষা। ২৮ নভেম্বর বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে, শেষ হবে ১১ ডিসেম্বর। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে হয়তো ১৫ ডিসেম্বর শেষ হবে। এরপর প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে কমবেশি ১৫ দিন, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য এই সময়কে ‘ডিসেম্বর ভ্যাকেশন’ বা ‘উইন্টার ভ্যাকেশন’ (শীতকালীন ছুটি) বলা যায়। কারণ এই সময়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য শ্রেণি পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ থাকে। তবে ‘ওল্ড টেন’ বলে পরিচিত এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে ‘বিশেষ ক্লাস’ জারি থাকে, যা চলে সেন্টার পরীক্ষার আগ পর্যন্ত। 

বছর শেষে ডিসেম্বরে ভ্যাকেশনে শিক্ষকরা ব্যস্ত থাকেন খাতা দেখা, রেজাল্ট শিট তৈরি ও এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিশেষ কোচিংয়ে পাঠদানের কাজে। প্রশ্ন হলো, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির সাধারণ শিক্ষার্থীরা ডিসেম্বর/উইন্টার (শীতকালীন) ভ্যাকেশনে কী করবে ? কীভাবে সময় কাটাবে? এ নিয়ে শিক্ষক, অভিভাবক, প্রশাসন থেকে কোনো দিকনির্দেশনা আছে কি না, জানার চেষ্টা করেছি। সফল হইনি।

এই ভ্যাকেশনে শিক্ষার্থীরা নিজেদের সম্ভাব্য যেসব কাজে যুক্ত রাখতে পারে, তা হলো : ১. বই পড়া, ২. সৃজনশীল নানান কাজ, যেমন, ধর্মীয় শিক্ষার ঘাটতি পূরণ, শুদ্ধ বানানরীতি, আবৃত্তি, ড্রইং, সংগীত প্রভৃতি শেখা, ৩. নানা-নানির বাড়ি বেড়ানো, ৪. দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন, ৫. সংসারের কাজে সহযোগিতা করা প্রভৃতি। তবে সব ছাপিয়ে আমাদের সুপারিশ সহায়ক বই পড়ার অনুকূলে। 

স্কুল-মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটি ও শিক্ষকমণ্ডলীর প্রতি অনুরোধ, পরীক্ষা চলাকালে অর্থাৎ ছুটি শুরুর আগেই প্রতিষ্ঠানের গ্রন্থাগার থেকে প্রত্যেক শ্ক্ষিার্থীর নামে বই ইস্যুর ব্যবস্থা করুন। শিক্ষার্থীরা বই বাড়ি নিয়ে যাবে, অবকাশ যাপনের পাশাপাশি বিনোদন হিসেবেই সহায়ক গ্রন্থ পড়বে। চাইলে বইপাঠ শেষে ২০০ শব্দের প্রতিক্রিয়া জমা দিতে পারে। লেখা যাচাই-বাছাই করে মানসম্মত প্রতিক্রিয়ার জন্য স্কুল/মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে পুরস্কার প্রদান করতে পারে। এভাবেই শিক্ষার্থীদের মাঝে সহায়ক গ্রন্থ পড়ার অভ্যাস গড়ে উঠবে। বইয়ের উৎস : ১. নিজেদের প্রতিষ্ঠানের লাইব্রেরি (একাডেমিক/শিক্ষায়তন গ্রন্থাগার), ২. সরকারি কিংবা বেসরকারি গণগ্রন্থাগার, ৩. আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী কেনা, ৪. বিবিধ (নিজস্ব উদ্যোগে খুঁজে নেওয়া)। 

  • সভাপতি, বাংলাদেশ গ্রন্থসুহৃদ সমিতি ও বেরাইদ গণপাঠাগার
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা