× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সম্পাদকীয়

জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই হবে

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৪ ০৯:০০ এএম

জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই হবে

৭ ডিসেম্বর প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর অনলাইন সংস্করণের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই দিন সকালে নরসিংদীর রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে একটি রাজনৈতিক দলের দুই পক্ষের সংঘর্ষে ইউপি সদস্যসহ দুজন নিহত এবং আরও অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।সংবাদের জেরে সাংবাদিককে গুলি করার অভিযোগও রয়েছে । একই দিন প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর ভিন্ন ভিন্ন প্রতিবেদনে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় ঘরের মধ্যে নামাজের বিছানায় পড়ে থাকা নারী এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার একটি পেয়ারাবাগানের ড্রেনের পাশ থেকে আরেকজন রাজনৈতিক কর্মীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। আমরা দেখছি, সংবাদমাধ্যমে প্রায় নিত্য খুন-খারাবি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ বহুবিধ সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডের মর্মস্পর্শী সংবাদ উঠে আসছে। ইতঃপূর্বে সম্পাদকীয় স্তম্ভেই আমরা বলেছি, যেকোনো স্থিতিশীল সমাজের অন্যতম শর্ত জননিরাপত্তা। ৫ আগস্ট-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হওয়ার পর জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি তাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। সরকার পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সারা দেশে যৌথ বাহিনীর অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয় যা এখনও চলমান। কিন্তু আমরা দেখছি, এর পরও পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। অপরাধ আমাদের সমাজের অন্যতম ব্যাধি হলেও দেশের পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে সমাজবিরোধীদের আস্ফালন নতুন করে প্রশ্ন দাঁড় করিয়েছেÑ তাদের শক্তি কিংবা ক্ষমতার উৎস কোথায়?

আমরা মনে করি, অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে শুধু সামাজিক অস্থিতরতাই প্রত্যক্ষ কারণ নয়, এর সঙ্গে রাজনৈতিক ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো বিষয়গুলোও সম্পৃক্ত। সংবাদমাধ্যমেই উঠে এসেছে, রাজনৈতিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি বেড়ে গেছে। আমরা এও দেখেছি, গত কয়েক মাসে নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়ার মতো গুরুতর অপরাধপ্রবণতাও অনেক বেড়েছে। চাঞ্চল্যকর কোনো ঘটনা ঘটলে সংবাদমাধ্যম মুখর হয়ে ওঠে, সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের সমালোচনা হয়, প্রশাসনের কারও কারও গাফিলতির চিত্রও উঠে আসে কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে নানা মহল থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এই প্রেক্ষাপটে প্রশাসনের দায়িত্বশীলরা নড়েচড়ে বসেন বটে কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এর কোনো সুফল দৃশ্যমান হচ্ছে না। আমরা জানি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কিংবা জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এর পরও কেন সমাজবিরোধীদের দমানো যাচ্ছে না, এ প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধান জরুরি। সমাজে যারা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে জননিরাপত্তার বিঘ্ন ঘটাচ্ছে তাদের চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য প্রতিটি ঘটনার উৎসে নজর দেওয়া প্রয়োজন বলেও আমরা মনে করি।

কিছু সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সক্ষমতা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করায় সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর দায় অনেক বেশি তা সত্য, কিন্তু এও অনস্বীকার্য; এ ক্ষেত্রে রাজনীতিকসহ সমাজ প্রতিনিধিদের দায়ও কম নয়। পাশাপাশি তরুণ কিংবা যুবসমাজের সামনে এমন কর্ম অধ্যায় সৃজন করতে হবে যেখানে তারা উর্বর চিন্তা কিংবা নৈতিকতা চর্চার অবারিত সুযোগ পায়। সম্প্রতি প্রতিদিনের বাংলাদেশসহ সহযোগী সংবাদমাধ্যমগুলোয় রাজধানী ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে বিভিন্ন স্থানে কিশোর গ্যাংয়ের দাপিয়ে বেড়ানোর বার্তা উঠে এসেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর পেছনে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাকর্মীর ইন্ধনের অভিযোগও রয়েছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থাগ্রহণ অবশ্যই অপরিহার্য, কিন্তু এর পাশাপাশি সামাজিক ও পারিবারিকভাবে মননশীল উদ্যোগের বিষয়গুলো কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমরা এও দেখছি, সামাজিক ও পারিবারিক ক্ষেত্রে মূল্যবোধের অবক্ষয়ের ছায়া ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে এবং এর বহুমাত্রিক বিরূপ প্রভাব শান্তিপ্রিয় মানুষের জন্য নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করছে। আমরা মনে করি, এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক শুদ্ধাচারের বিষয়টিও অতীব গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ন্যায়বিচার ও অধিকারের ক্ষেত্রে জিইয়ে থাকা বৈষম্য নিরসনে যথাযথ দৃষ্টি এবং আইনের নির্মোহ প্রয়োগব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব বাড়ানোও বাঞ্ছনীয়। শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো অপরাধপ্রবণতার হ্রাস টানতে পারবে না, যদি না অধিকার ও জননিরাপত্তা্ নিশ্চিত করায় সরকারের দায়িত্বশীল সব পক্ষের যূথবদ্ধ প্রয়াস জোরদার হয়। একই সঙ্গে সুশাসনের ব্যাপারেও মনোযোগ গভীর করতে হবে।

অভিযোগ আছে, পরিবর্তিত পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো কোনো মহল অস্থিশীলতা তুঙ্গে নিয়ে যাওয়ার হীন চেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা মনে করি, উত্থাপিত অভিযোগ আমলে নিয়ে খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতার পালাবদলের পর স্বাভাবিকভাবেই দেশের শান্তিপ্রিয় মানুষ প্রত্যাশা করেছিল, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং জানমালের নিরাপত্তার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে থাকবে না। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, মানুষের এ প্রত্যাশা হোঁচট খেয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা মুখ্যত যাদের দায়দায়িত্ব তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। ১৯২৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলিস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিয়ে প্রথমেই বলেছিলেন, ‘মানুষের জীবনের নিরাপত্তা রক্ষার চেয়ে বড় কোনো কিছুই নেই।’ তাতে প্রতীয়মান হয়, সবার আগে জননিরাপত্তা। নিকট অতীতে এ সম্পাদকীয় স্তম্ভেই আমরা আরও বলেছিলাম, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে মানবাধিকারে অভিঘাত লাগে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে অবশ্যই অপরাধের উৎসে নজর দেওয়ার পাশাপাাশি প্রতিবিধানমূলক ব্যবস্থার পথ মসৃণ করতে হবে।

সমাজে যদি অপরাধপ্রবণতা বাড়ে তাহলে স্বাভাবিক কারণেই সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে না থাকলে অন্তর্বর্তী সরকারের সুচারুভাবে কার্যক্রম চালানো এবং লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়ে। আমাদের বিশ্বাস, অন্যায়কারীর শাস্তি যদি নিশ্চিত হয় তাহলে সমাজবিরোধীরা নিরুৎসাহ হতে বাধ্য। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায় অবশ্যই সর্বাগ্রে সরকারের এবং সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্ব বর্তায় মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনিক দায়িত্বশীলদের ওপর। অপরাধ কিংবা অপরাধী চক্রের মূলোৎপাটনে বিচারব্যবস্থায় গতিসঞ্চারও সমভাবেই ‍গুরুত্বপূর্ণ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর দায়িত্বশীলরা প্রায়ই ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে’ দাবি করে আত্মতুষ্টিতে ভোগেন। আমরা মনে করি, তাদের এ প্রবণতা দূর করা জরুরি। সমাজে যখন অপরাধপ্রবণতা বাড়ে তখন এ ধরনের দায়িত্বহীন সন্তোষে জনমনে অনাস্থা জন্মায় তা গুরুত্বের সঙ্গে মনে রাখা প্রয়োজন। মানুষের অন্যতম মুখ্য অধিকার নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে কিংবা অরাজকতা বৃদ্ধি পেলে মানুষের সে অধিকার ক্ষুণ্ন হয়। অসহায়ত্ব বাড়ে। কোনো মানবিক সমাজে এমনটি কাম্য হতে পারে না।

আমরা আশা করব, কোনো অভিযোগই তুড়ি মেরে উড়িয়ে না দিয়ে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে এর উৎস সন্ধান করে যথাযথ প্রতিবিধান নিশ্চিত করাই সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সব পক্ষের দায়িত্ব। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বলা যায়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কিংবা জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের সামনে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ জয়ী সরকারকে হতেই হবে বৃহত্তর স্বার্থে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা