× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পরিপ্রেক্ষিত

মশার বংশবিস্তার রোধ করুন

মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ

প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৪ ১১:৪৭ এএম

মশার বংশবিস্তার রোধ করুন

শুধু রাজধানীতে নয়, দেশের সর্বত্রই মশা বৃদ্ধি পেয়েছে। মশার ভনভন শব্দ আর কামড়ে জনজীবন অতিষ্ঠ। শহরের এখানে-ওখানে খানাখন্দ, খোলা ম্যানহোল, পয়োনালা, অর্ধনির্মিত দালান, আবর্জনায় ভরা। এসব জায়গায় মশা বংশ বিস্তার করছে। মশার হাত থেকে রক্ষা পেতে মানুষ সাধারণত কয়েল ও স্প্রে ব্যবহার করে, যা স্বাস্থ্যসম্মত নয়। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য অত্যন্ত স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ। সাময়িক ব্যবস্থায় ভোগান্তি কমবে না, বরং দিনদিন বাড়বে। তাই প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি সমাধান। মশাবাহিত রোগগুলো বিস্তারের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে অধিক জনসংখ্যা, ঘনবসতি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, অপরিকল্পিত অবকাঠামো ও অব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা এবং ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার ও পয়োনিষ্কাশনের অভাব উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া বিশ্বায়নের ফলে মানুষ ও দ্রব্যাদির দ্রুত স্থানান্তর, অনিয়ন্ত্রিত সীমান্ত, জলবায়ুর পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নে মশার প্রজনন বেড়ে যাওয়া এবং পোকামাকড় দমনে অপরিমিত কীটনাশকের ব্যবহারে মশার প্রতিরোধক্ষমতা বেড়ে যাওয়ায় মশার সংখ্যাবৃদ্ধির সঙ্গে মশাবাহিত রোগের প্রকোপ বেড়ে গেছে।

তাপমাত্রার ওপর মশার প্রজনন ও বিস্তারের বিষয়টি অনেকাংশে নির্ভর করে। তীব্র শীতে মশা বাঁচতে পারে না। অধিক গরমেও মশার প্রজনন কমে যায়। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার বাহক এডিস মশা অন্যান্য মশার তুলনায় বেশি দ্রুত বংশ বৃদ্ধি করতে পারে। সাধারণত ২৮ থেকে ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা মশার প্রজননের জন্য উপযুক্ত। মশাবাহক হিসেবে আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে রোগের জীবাণু বহন করে সুস্থ দেহে সংক্রমণ করতে পারে। একটি স্ত্রী মশা ছয় থেকে আট সপ্তাহ পর্যন্ত বাঁচে, এ সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনবার পর্যন্ত প্রজননে সক্ষম ও প্রতিবার ১.৫ সপ্তাহ প্রজনন সময়ে সর্বোচ্চ ১ হাজারটি মশার জন্ম দিতে পারে। এদের ডিম পানিতে এক বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে। অল্প পরিমাণ জমে থাকা পানিও ডিম পরিস্ফুটনের জন্য যথেষ্ট। সবাই সাধারণত মশা নিধনেই বেশি নজর রাখে। কিন্তু মশার চেয়ে লার্ভা (বাচ্চা) নিধন বেশি জরুরি। মশা মারার চেয়ে মশার প্রজনন রোধ জরুরি।

মশার কামড় থেকে আত্মরক্ষাই সবচেয়ে বড় সমাধান। ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করতে হবে। শিশুরা ঘুমালে দিনেও তাই। পাহাড়ি এলাকায় ফুলহাতা জামা ও মশা তাড়ানোর ওষুধ সঙ্গে রাখতে হবে। বাড়িঘরের আশপাশে বদ্ধপানি নিয়মিত পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। টবের নিচে, এসির নিচে জমে থাকা পানি পরিষ্কার করতে হবে। এডিস মশা স্থির পানিতে ডিম পাড়ে। বালতি, ফুলের টব, গাড়ির টায়ার, বাড়ির আশপাশ প্রভৃতি স্থানে যেন পানি জমতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। শুষ্ক ও আর্দ্র উভয় মৌসুমে এডিস মশা সক্রিয় থাকে। তাই সরকার এবং সিটি করপোরেশনসহ নগর ও পৌর কর্তৃপক্ষকে মশা নিয়ন্ত্রণে মোট বাজেটের সিংহভাগ মশার প্রজনন নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করার দিকে মনোযোগ দেওয়া জরুরি। মশা ও অন্য রোগবাহী কীট নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি জেলায় স্থানীয় ইউনিট তৈরি করে সমন্বয়ের মাধ্যমে সারা বছর কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। বৈশ্বিক উষ্ণায়নে কীটপতঙ্গের প্রজনন বেড়ে যেতে পারে। জলবায়ুর পরিবর্তন ও কালের আবর্তে পরিবর্তিত হচ্ছে চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু সংক্রমণের ধরন। তাই বর্তমান প্রেক্ষাপটে মশার প্রজননে যেসব বিষয় কীটতত্ত্ববিদরা শনাক্ত করেছেন, তাদের পরামর্শ ও নির্দেশনা অনুযায়ী মশা নিধনে উদ্যোগী হতে হবে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও জলাবায়ুর পরিবর্তন সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। মশা ও মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে পত্রপত্রিকা, রেডিও, টেলিভিশন, সমাজমাধ্যমের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। মশার আবাসস্থল কীভাবে চেনা যায়, প্রজননস্থান কীভাবে বোঝা যায়, মশার লার্ভা কীভাবে চেনা যায়, কীভাবে মশা থেকে দূরে থাকা যায়, মশাবাহিত কী কী রোগ হতে পারে এবং প্রতিকারের কী উপায়Ñ এসব সম্পর্কে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

  • চেয়ারম্যান, জাতীয় রোগীকল্যাণ সোসাইটি, চট্টগ্রাম
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা