পরিপার্শ্ব
নাবিল আহমেদ
প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০২৪ ১০:০৬ এএম
নারীর প্রতি সব ধরনের নির্যাতন বন্ধের দাবি নিয়ে বাদাবন সংঘ নারী নির্যাতনবিরোধী পক্ষকাল পালন শুরু করেছে। ২৫ নভেম্বর শুরু হয়েছে ১৬ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষকাল ক্যাম্পেইন, যা ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। এ পক্ষকাল উদ্যাপনের অংশ হিসেবে প্রতি বছরের মতো এবারও বাদাবন সংঘ প্রান্তিকসহ জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে। ২৭ নভেম্বর ঢাকার দৃকপাঠের মিরতাজ ভবনে দিনব্যাপী বিভিন কর্মসূচির প্রথম পর্বের আর্টক্যাম্প শুরু হয় বেলা ১১টায়।
অত্যন্ত সুন্দর পরিবেশে সম্পন্ন হয় অনুষ্ঠান। উপস্থিত সবাই অনুষ্ঠানের মর্মার্থ উপলব্ধিতে নেন এবং আয়োজন আরও বেশি আনন্দঘন করে তোলেন। একটা কথা আছে, বিন্দু বিন্দু জলের ফোঁটায় গড়ে ওঠে বিশাল জলাধার। বাদাবনের আয়োজন যেন তা-ই দৃশ্যমান করে তুলেছে। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্তির সমন্বয়েই গড়ে ওঠে বৃহৎ শক্তি। আমাদের সমাজে সম্মিলিত প্রয়াসে নারীর সামাজিক, অর্থনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিকসহ নানা ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও অধিকারের ভিত মজবুত করার এবং সাম্যের আলো ছড়ানোর যে প্রচেষ্টা চলমান; এর সুফল মিলবে একদিন না একদিনÑ তা-ই প্রত্যাশা। নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন কমাবে নারীর প্রতি সহিসংতা, এ বক্তব্য কিংবা স্লোগানের বাস্তবত সত্যতা প্রশ্নাতীত।
২৭ নভেম্বরের আর্টক্যাম্পটির উদ্দেশ্য হলো, শিল্পকর্মের মাধ্যমে নারী নির্যাতন এবং সহিংসতার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়ানো। ওই পর্বে উপস্থিত ছিলেন মানবাধিকারকর্মী জাকিয়া শিশির, সাংগাত বাংলাদেশের কোঅর্ডিনেটর সোহানা আহমেদ এবং বাদাবন সংঘের নির্বাহী পরিচালক লিপি রহমান। আর্টক্যাম্পে অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভ এবং নারায়ণগঞ্জ আর্ট ইনস্টিটিউটের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে আমরা সবাই সোচ্চারÑ এ বিষয়ে আমন্ত্রিত শিল্পীদের মধ্যে রূপশ্রী হাজং, রাজীব শীল ও আহসানা অঙ্গনা তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে শিল্পীরা তাদের শিল্পকর্মের মাধ্যমে এ ক্যাম্পেইন আরও কার্যকর করতে পারেন। নানা মহলের সঙ্গতই দাবিÑ নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা নির্মূলে বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, সম্পত্তির অধিকার, সন্তানের অভিভাবকত্ব এসব ক্ষেত্রে নারীর সমঅধিকার নিশ্চিত করতে হবে। অভিন্ন পারিবারিক আইন এবং নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আইন প্রণয়ন ও যথাযথ প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দিতে ছাত্রসমাজের ভূমিকা শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে হবে।
বাদাবন সংঘ ২০১৬ সাল থেকে নারীর ভূমি অধিকার দাবি এবং রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। তাদের এবারের আয়োজনের মূল ভাবনা নারীর প্রাপ্য, নারীর অধিকার, ন্যায্য হিস্সা বাপের ভিটার। নারীর ভূমি অধিকার রক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে নারীর উত্তরাধিকারস্বত্ব প্রাপ্তিবিষয়ক একটি ভিডিও টিউটোরিয়াল প্রকাশিত করা হয়। দিনের দ্বিতীয় ভাগে আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, প্রশিকা, স্পেস, রিক, লাইট হাউজ এবং আওয়াজ ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিরা। তারা তাদের মতামত দেন।
নারীর প্রতি যেকোনো ধরনের সহিংসতা বন্ধে বাদাবন সংঘের এ আয়োজনের প্রশংসা করেন সবাই। বাংলাদেশ সিডও সনদে স্বাক্ষরকারী। এ অবস্থায় নারীর ন্যায্য অধিকার ও স্বীকৃতি আজ সময়ের দাবি। সরকার সে দাবি পর্যায়ক্রমে পূরণে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলেই প্রত্যাশা। নারীর অধিকার রক্ষায় সবাইকে এক হতে হবে। তা না হলে বৈষম্যমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা কঠিন। আরও মনে রাখা বাঞ্ছনীয়, নারীর ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা দানখয়রাতের কোনো বিষয় নয়। নারীর ভূমিমালিকানা দাবির শিক্ষামূলক ভিডিও অনুষ্ঠানে উপস্থাপনের ফলে নারীর উত্তরাধিকার মালিকানা আদায়ে সচেনতা বাড়বে এবং দাবি গতিশীলতা পাবে আরও। আদিবাসী নারীদের গানের দল এস মাইনরের গানের মাধ্যমে ওই দিনের কার্যক্রম শেষ হয়।