× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

প্রজন্মের ভাবনা

নৈরাজ্য নয়, শান্তি চাই

কবির হোসেন

প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০২৪ ০৮:৩০ এএম

নৈরাজ্য নয়, শান্তি চাই

কোথায় যাচ্ছে দেশ? স্বস্তি-শান্তি-নিরাপত্তা কঠিন প্রশ্নের মুখে। যেকোনো অজুহাতে বিক্ষুব্ধ জনতা রাস্তায় নেমে আসছে। সড়ক অবরোধ করছে, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত করছে। গত এক সপ্তাহে ঢাকা ও চট্টগ্রামে যেসব ঘটনা ঘটেছে এর কোনোটাই আমাদের মতো শান্তিপ্রিয়দের উদ্বিগ্ন না করে পারে না। দেশের পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে সঙ্গত কারণেই জনপ্রত্যাশা ছিল তুঙ্গে। এখন যে তা নেই কিংবা হারিয়ে গেছে তা-ও নয়। কিন্তু বিদ্যমান পরিস্থিতি সঙ্গতই এ প্রশ্নও দাঁড় করিয়েছেÑ অন্তর্বর্তী সরকার কি খেই হারিয়ে ফেলেছে? আমরা তা ভাবতে চাই না। আমরা চাই এ সরকার সংস্কার কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করে জাতীয় নির্বাচনের পথ সুগম করুক।

চারদিকে বিশৃঙ্খলা-নৈরাজ্যের গাঢ় ছায়া। এ ছায়া ক্রমেই প্রলম্বিত হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো উপদেষ্টা বলেছেন, আড়ালে থেকে বিভিন্ন মহল উস্কানি দিচ্ছে, নানানরকম ষড়যন্ত্র চলছে। যদি তাই হয় তাহলে অনুসন্ধানের দায়দায়িত্বও সরকারেরই। সাধারণ মানুষ এত বোঝে না, এত কথা শুনতে চায় না। বাজারে আগুন। বাজার নিয়ন্ত্রণে এ সরকারও সাফল্য দেখাতে পারেনি। জননিরাপত্তা কঠিনভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। আরও কত উপসর্গ জিইয়ে আছে সমাজের চারপাশে। তাহলে সাধারণ মানুষের গত্যন্তরটা কী? এমন প্রশ্ন দেশের পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে ওঠার কথা ছিল না।

চুরি-ছিনতাই, ধর্ষণের হার উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। বাজারের তাপে-চাপে পিষ্ট সবাই। পাশাপাশি মব একত্র হয়ে প্রায়ই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে এবং এসব কিছুর প্রভাব পড়ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায়। এ ক্ষেত্রে আমরা নানাবিধ তর্কবিতর্কও দেখতে পাচ্ছি। এসব কিছুই আমাদের সামাজিক নৈরাজ্যের একটি বড় সংকট হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। শিক্ষার্থী হোক কিংবা যেকোনো দাবিদাওয়াই হোক, শেষ পর্যন্ত আমরা দেখছি এক ধরনের মবই একত্র হতে শুরু করেছে। এ মব একত্র হয়ে সড়ক অবরোধ করে রাখছে এবং অনেক ক্ষেত্রে তা সংঘাতে রূপ নিচ্ছে। মূলত ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে সংস্কারের দাবি কিংবা নিজ অধিকারের দাবিতে সড়কে নেমে যাওয়ার সূত্রপাতও এ আন্দোলন কেন্দ্র করেই। বিশ্লেষকরা বিদ্যমান পরিস্থিতির ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করে বলছেন এসব ব্যাপারে সরকারের মনোযোগ আরও গভীর করতে হবে।

আমাদের দাবি, শান্তি-স্বস্তি-নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। বাজারে-সমাজে সাঁড়াশি অভিযান চালান। যে বা যারাই জনশান্তি-স্বস্তির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে, যারা আড়াল থাকে কলকাঠি নেড়ে সমাজ বিষিয়ে তুলছে তাদের কোনো ছাড় নয়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করুন। বিদ্যমান সমস্যাগুলোর দিকে সরকারকে আরও গভীরে নজর দিতে হবে এবং একই সঙ্গে সবার আগে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা বাঞ্ছনীয়। জনদুর্ভোগ ও সহিংসতার ছায়া সরিয়ে স্বস্তির আবহ সৃষ্টির দায়ও সরকারেরই। আমরা শান্তির পক্ষে, কোনোরকম বিশৃঙ্খলা কিংবা অধিকার আদায় ও প্রতিবাদের নামে কোনোভাবেই সহিংসতার অবকাশ নেই। আমরা আরও মনে করি, এসব ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নজর আরও গভীর করা জরুরি। আন্দোলনের নামে যেকোনো ধরনের নৈরাজ্য বন্ধ করতেই হবে। 

কোনো গোষ্ঠী বা মহলবিশেষের দাবিদাওয়া কিংবা প্রতিবাদের পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলন শেষ পর্যন্ত যে সহিংস রূপ ধারণ করেছে এবং এর ফলে জনগোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্য অংশের নিত্য বিড়ম্বনার চিত্র সংবাদমাধ্যমে উঠে আসছে, তা কোনোভাবেই স্বস্তির নয়। সকারের প্রতি আহ্বানÑ জনপ্রত্যাশা যেন মাঠে মারা না যায় তা-ও নিশ্চিত করার দায় আপনাদেরই। সমস্যা-সংকটের উৎসে নজর খুব দ্রুত আরও গভীর করুন।

  • শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা