× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়কদের কাছে খোলা চিঠি

বীনা খান

প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর ২০২৪ ১৭:৪৮ পিএম

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২৪ ১৮:০৭ পিএম

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

সন্তানপ্রতিম প্রিয় জেন-জি ও ছাত্রছাত্রীরা

তোমাদের দেশপ্রেম, সততা, অসীম সাহস এবং আত্মত্যাগের জন্য তোমাদের অভিনন্দন। তোমাদের ঋণ বাংলাদেশিরা কোনো দিন শোধ করতে পারবে না। নতজানু চিত্তে তোমাদের সালাম জানাচ্ছি। এ চিঠিতে ‘আমরা’ বলতে বোঝাচ্ছি তোমাদের আগের দুই প্রজন্ম। অর্থাৎ তোমাদের বাবা-মাদের প্রজন্ম আর তোমাদের দাদা-দাদি, নানা-নানিদের প্রজন্ম। নানা কারণে আমরা সবাই, অর্থাৎ এ দুই প্রজন্মের অনেকেই আমাদের চরিত্র হারিয়ে ফেলেছি। ভালোমানুষ বলতে যা বোঝায় অর্থাৎ সততা, সৎসাহস, ন্যায়পরায়ণতা, সত্যবাদিতা, অন্য মানুষের প্রতি সহমর্মিতা এসব আমরা বেশিরভাগই হারিয়ে ফেলেছি। তোমাদের সঠিক নির্দেশনা দেওয়ার ক্ষমতা আমাদের আর নেই। তোমাদের অভিভাবকত্বের দায়িত্ব নিতে আমরা প্রায় অক্ষম।

যে স্বাধীনতার জন্য, যে আদর্শ দেশ গড়ার জন্য ঊনসত্তরের ছাত্র আন্দোলন এবং একাত্তরের স্বাধীনতা সংগ্রাম বাঙালিরা করেছিলেন, তা আজ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। আমাদের ওপর সে দায়িত্ব ছিল। সে দায়িত্বে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। শুধু যে ব্যর্থ হয়েছি তা নয়, সমস্যাগুলো আমরা জটিল থেকে জটিলতর করে ফেলেছি। এটা খুবই আনন্দের বিষয় যে তোমরা এখন তা বুঝতে পারছো এবং সে দায়িত্ব নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছো। আসলে তোমরা শিশু থাকতেই তা বুঝতে পেরেছিলে যা দেখিয়েছিলে ২০১৮ সালে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময়। ‘অন্যায় যে করে, অন্যায় যে সহে, তব ঘৃণা তারে যেন তৃণ সম দহে’। অন্যায় করে অথবা অন্যায় সহ্য করে আমরা দেশকে ধ্বংসের মুখে এগিয়ে দিয়েছি। আমাদের অনেকেই বাকস্বাধীনতা পেয়ে এখন অনেক বড় বড় কথা বলছি। ভুলে গেছি অথবা ভোলবার ভান করছি যে আমরাই এসবের জন্য দায়ী। আমাদের বিশ্বাস কোরো না। আমাদের ওপর আস্থা রেখো না। আমাদের ওপর নির্ভর করলে দেশ আবার সংকটে পড়বে।

আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের অনেকেরই দেশপ্রেম খুবই সীমিত। দেশের স্বার্থ আর নিজের স্বার্থের মধ্যে যদি সংঘর্ষ বাধে বেশিরভাগ নেতাই নিজের স্বার্থের প্রতি প্রাধান্য দেন। তার ফলে দেশ উচ্ছন্নে যায়। গত ৫৩ বছরের ইতিহাস তার প্রমাণ। তাদের জায়গায় আমাদের নতুন প্রজন্মের আদর্শবাদী রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রয়োজন। সে প্রয়োজন একমাত্র তোমরাই পূরণ করতে পারো। একমাত্র জেন-জি সেই প্রয়োজন পূর্ণ করতে পারে। তোমাদের মধ্যে এখনও যারা ছোট শিশু, এখন থেকেই সব রকম জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করে ভবিষ্যতের নেতৃত্বের জন্য তৈরি হতে থাকো। বাংলাদেশে যারা রাজনীতি করেন, রাজনৈতিক দলে যোগ দেন এবং নিজেদের রাজনীতিবিদ বলে দাবি করেন তাদের বেশিরভাগই মোটেও রাজনীতিবিদ নন। তাদের অধিকাংশই রাজনীতি করেন পদমর্যাদা, ক্ষমতা এবং অসৎ উপায়ে অর্থ উপার্জনের জন্য; দেশের সেবা করার জন্য নয়। তাদের জীবনযাত্রা এবং কাজকর্ম থেকেই তা পরিষ্কার হয়ে যায়।

রাজনীতি খারাপ জিনিস নয়। রাজনীতি ছাড়া কোনো দেশই চলতে পারে না। কিন্তু আমাদের রাজনীতিবিদদের অনেকের অপকর্মের ফলে রাজনীতি সম্পর্কে মানুষের মনে একটা খারাপ ধারণা তৈরি হয়েছে। তার ফলে অনেক সৎ এবং মেধাবী রাজনীতিতে যেতে চান না। অথচ তাদেরই রাজনীতিতে দরকার। সুতরাং বর্তমান ছাত্রছাত্রী এবং জেন-জিদের একটা বড় অংশকে রাজনীতিতে আসতে হবে। নইলেই এ দেশের ভবিষ্যৎ ভালো হবে না। অনেক রাজনীতিবিদ বর্তমান সরকারকে অন্তর্বর্তী সরকার বলছেন। আমার অভিমত, এটা অন্তর্বর্তী সরকার নয়, এটা বিপ্লবীদের নির্দেশে নিযুক্ত বিপ্লবী সরকার। এটা সাংবিধানিক সরকার নয়। এ সরকার বিপ্লবের মাধ্যমে এসেছে, গণতন্ত্রের মাধ্যমে নয়। বিপ্লব মানেই সংবিধান বাতিল… তা ঘোষিত হোক বা না-ই হোক। এ সংবিধানের মাধ্যমেই স্বৈরাচার এসেছে। এ সংবিধান স্বৈরাচার থেকে আমাদের রক্ষা করতে পারেনি! এ সংবিধান আমাদের মানবাধিকার রক্ষা করতে পারেনি! বর্তমান সরকার গণতান্ত্রিক সরকার নয়; কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশে ইতিহাসের সবচেয়ে জনপ্রিয় সরকার। যতদিন পর্যন্ত না সংস্কার সম্পন্ন হয়, ততদিন পর্যন্ত এ সরকার চলবে।

আমাদের বর্তমান রাজনীতিবিদদের মধ্যে সত্যিকার দেশপ্রেমিকের সংখ্যা (যারা দেশের স্বার্থ নিজের স্বার্থের ওপরে দেখেন) নগণ্য। ওই নগণ্যদের মধ্যে প্রায় কেউই কোনো প্রধান রাজনৈতিক দলের পুরোধায় নেই। আমাদের রাজনীতিবিদরা ‘গণতন্ত্র’ ‘গণতন্ত্র’ বলে চিৎকার করলেও তাদের অনেকেই যে সত্যি সত্যি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন, তা আজ পর্যন্ত প্রমাণ করতে পারেননি। বর্তমানে রাজনীতিবিদদের প্রায় এক তৃতীয়াংশ অথবা তারও বেশি আওয়ামী লীগ করেন অথবা আওয়ামী লীগের সঙ্গে আছেন। তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন না, সে সম্পর্কে তো এখন আর সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। অন্যান্য দলের মধ্যেও গণতন্ত্র খুবই সীমিত। সব দলের ইতিহাসই আমাদের জানা আছে। স্বৈরাচার প্রায় সবার মধ্যেই সুপ্ত আছে। সুযোগ পেলেই বেরিয়ে আসতে পারে। গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনগণের ওপর আস্থা। জনগণের ওপর আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের খুব একটা আস্থা নেই। আস্থা থাকলে তারা গণপরিষদের সদস্য নির্বাচনের সময় প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব তাদের নিজ নিজ দলের স্থানীয় সদস্যদের হাতে দিতেন। কারণ একমাত্র তারাই তাদের স্থানীয় নেতাদের ভালো করে চেনেন। তাদের ভোটের মাধ্যমে স্থানীয় প্রার্থীদের মনোনীত হওয়া উচিত। সেটাই গণতান্ত্রিক পদ্ধতি। দুর্ভাগ্যবশত আমাদের কোনো রাজনৈতিক দলই তাদের সদস্যদের এ সুযোগটুকু দেন না। কারণ সাধারণ সদস্যদের ওপর তাদের মোটেও আস্থা নেই। অথচ সারাক্ষণ তারা গণতন্ত্র গণতন্ত্র বলে জিকির করেন। সাধারণ সদস্যদের প্রার্থী মনোনয়ন করার গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখার ফলে অনেক সময় দলের মধ্যে একনায়কত্বের সৃষ্টি হয়। কারণ তখন দলের নেতা একা অথবা তার বিশ্বস্ত লোকদের নিয়ে জাতীয় সংসদ সদস্য প্রার্থীদের মনোনয়ন করেন। তার ফলে অনেক প্রার্থীই মনোনয়ন পাওয়ার জন্য তোষামোদ অথবা ঘুষের আশ্রয় নেন।

এভাবে সরকারে আসার আগে থেকেই প্রার্থীদের দুর্নীতির ট্রেনিং দেওয়া হয়। হ্যাঁ, তোমরা ভুল করবে। আবার তোমরাই সেটা শুধরে নেবে। ভুল করে করেই তোমরা শিখবে যা তোমাদের পূর্ববর্তী প্রজন্মের রাজনীতিবিদরা শেখেননি। যারা ‘বেশি জানে’ বা ‘সবজান্তা’ তারা শিখতে পারে না। তারা নিজেদের মূর্খতা সম্পর্কেও ওয়াকিবহাল নয়। যেকোনো নামেই হোক, তোমাদের একটা বিপ্লবী কাউন্সিল গঠন করতে হবে যা নিয়মিত বসবে এবং সরকারের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখবে। সরকারের প্রতিটি বিভাগের জন্য তোমরা নিজেদের মধ্য থেকে তিনজনের একটি করে কমিটি করবে। এ কমিটির দায়িত্ব হবে সেই বিভাগের বিষয়ে প্রকাশিত বইপুস্তক এবং গবেষণাপত্রগুলো পড়ে নিজেরা সরেজমিনে গবেষণা করে এবং সরকারে ও সরকারের বাইরে দেশে-বিদেশে যারা বিশেষজ্ঞ আছেন তাদের সঙ্গে আলোচনা করে ওই বিষয়ে প্রচুর জ্ঞান অর্জন করা। তাতে তোমরা ওই বিভাগের কাজকর্মের ওপর সূক্ষ্ম দৃষ্টি রাখতে পারবে এবং ভবিষ্যতে যদি ওই বিভাগের দায়িত্ব তোমরা নাও তাহলে তা সুচারুরূপে পালন করতে পারবে। সরকারের প্রতি স্তরে গ্রামের ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত তোমাদের এ রকম কাউন্সিল গঠন করতে হবে যারা সর্বস্তরে সরকারের কাজের তদারকি করবে। কিন্তু এরা কেউই কাউকে নিজের জন্য অথবা অন্য কারও জন্য কোনো ব্যাপারে কোনো প্রকার সুপারিশ করতে পারবে না।

কোনো কোনো রাজনৈতিক দলের মধ্য থেকে তোমাদের বিরুদ্ধে অনেক সমালোচনা হবে, আক্রমণ হবে। তোমাদের অনভিজ্ঞ বলে, অর্বাচীন বলে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা হবে। সেগুলো বীরের মতো তোমাদের সহ্য করতে হবে। প্রতিরোধ করতে হবে। কিন্তু তোমরা কোনোভাবেই কোনো সময় তোমাদের আদর্শ জলাঞ্জলি দেবে না। বড়দের সম্মান দেখাবে, তাদের উপদেশ বিবেচনা করবে। বয়স বড় কথা নয়। বুদ্ধি, প্রজ্ঞা, দূরদৃষ্টিই বড় কথা। সেটা কারও চাইতে তোমাদের কম নয়। সম্রাট বাবর ফারগানার গভর্নর হয়েছিলেন মাত্র ১২ বছর বয়সে। ১৪ বছর বয়সে তিনি সমরখন্দ জয় করেন এবং ১৭ বছর বয়সে জয় করেন কাবুল। সম্রাট আকবর গজনির গভর্নর হয়েছিলেন মাত্র নয় বছর বয়সে আর ভারতের সম্রাট হয়েছিলেন মাত্র ১৪ বছর বয়সে। ১৪২৯ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সের একটি গরিব চাষির মেয়ে জোন অব আর্ক, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ফরাসি সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব দিয়ে জয়লাভ করেছিলেন। সুলতান রাজিয়া মাত্র ২৫ বছর বয়সে দিল্লির গভর্নর হয়েছিলেন আর ৩১ বছর বয়সে হয়েছিলেন ভারতের সম্রাজ্ঞী। মালিক বাউদুইন জেরুজালেমের শাসক হন মাত্র ১৬ বছর বয়সে এবং মাত্র ১৭ বছর বয়সে কুষ্ঠ রোগ নিয়ে সালাদিনের মতো বীর যোদ্ধাকে পরাজিত করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন। আধুনিক যুগে বিল গেটস এবং স্টিভ জবস কলেজ ছেড়ে কাজে ঝাঁপ দিয়েছিলেন ২০ বছর বয়সের আগেই।

মালালা ইউসুফজাই পাকিস্তানি তালেবানদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম শুরু করেছিলেন মাত্র ১১ বছর বয়সে। গ্রেতা থুনবার্জ বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি শিক্ষার্থীকে পরিবেশ আন্দোলনে টেনে নিয়ে এসেছিলেন মাত্র ১৩ বছর বয়সে। ইতিহাসে এ রকম উদাহরণ রয়েছে অসংখ্য। যারা বলেন বয়স বেশি না হলে গুরুদায়িত্ব নেওয়া যায় না, তারা নিজেদের কথাই বলেন। বয়োজ্যেষ্ঠরা, প্রবীণেরা কীভাবে তাদের গুরুদায়িত্ব পালন করেছেন তা তো তোমাদের চোখের সামনেই দেখতে পাচ্ছো। নিজের চোখকে অবিশ্বাস করো না। মনে রাখবে তোমাদের আগে যত সফল বিপ্লব হয়েছে সেসব বিপ্লবের নেতারা কেউই বিপ্লব সফল হওয়ার আগে ক্ষমতা ছাড়েননি। তোমরাও ছাড়বে না। এই দ্রুত পরিবর্তনশীল দুনিয়ার সঙ্গে আমরা বয়স্করা অভ্যস্ত নই। আমরা এ যুগের সমস্যা এবং সম্ভাবনা কোনোটাই ভালো করে বুঝি না যদিও আমাদের কেউ কেউ অনেক লম্বা লম্বা কথা বলে থাকি। এ পরিবর্তনের যুগকে তোমরা যতটা ভালো বোঝো আমরা ততটা বুঝি না। সেজন্যই এর হাল তোমাদেরই ধরতে হবে। এ নতুন যুগে নতুন চিন্তার দরকার। নতুন সমস্যার নতুন সমাধান দরকার। পুরনো মস্তিষ্কে তা খেলে না। আইনস্টাইন বলেছিলেন, ‘যে মানসিকতা কোনো সমস্যার জন্ম দিয়েছে সেই মানসিকতা থেকে সে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।’

আমরা অনেকেই এখনও এটা কি ‘বিপ্লব’ না ‘গণঅভ্যুত্থান’ এসব অবান্তর তর্ক নিয়ে সময় নষ্ট করছি। যা দরকার তা হলো তোমাদের সঙ্গে মাঠে নেমে কাজ করা। সবকিছুকে গত শতাব্দীর সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত না করতে পারলে অনেকের ঘুম হয় না। তোমরা যে এক মহান যুগসন্ধিক্ষণে সব সংজ্ঞার বাইরে এক অবিসংবাদিত মহাবিপ্লবের সূচনা করেছো এটা বোঝবার ক্ষমতা তাদের নেই। তোমাদের অবিসংবাদিত এই মহাবিপ্লব সর্বস্তরে পৌঁছাতে হবে। প্রতি গ্রামে তোমাদের সংগঠনের শাখা থাকতে হবে। প্রতিটি পরিবার থেকে অন্তত একজন করে তোমাদের সংগঠনের সভ্য করার চেষ্টা করবে। এর জন্য প্রচুর সময় এবং পরিশ্রমের প্রয়োজন হবে যা দেওয়ার জন্য তোমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। এতে তোমাদের পড়াশোনার কিছুটা ক্ষতি হবে। দেশের এ ক্রান্তিলগ্নে সে ক্ষতি তোমাদের হাসিমুখে মেনে নিতে হবে যেমন নিয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা। সাংগঠনিক কাজে এবং সদস্য সংগ্রহের অভিযানে সবার সঙ্গে তোমরা কীভাবে কথাবার্তা বলছো তা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মাত্র একটি শব্দের ব্যবহার অথবা ব্যবহারের ধরন অনেক সময় কথোপকথনের উদ্দেশ্য বিফল করে ফেলতে পারে। কথোপকথন এবং আলোচনা কীভাবে সবচেয়ে ফলপ্রসূ হতে পারে এ ব্যাপারে সব বৈজ্ঞানিক গবেষণার সারাংশ নিয়ে কয়েক মাস আগে যুক্তরাষ্ট্রে একটি ভালো বই প্রকাশিত হয়েছে। এ বইতে সবার জন্য শেখার মতো অনেক কিছু আছে। তোমরাও এ বইয়ের উপদেশ মেনে চললে সবার সঙ্গে যোগাযোগ তোমাদের পক্ষে অনেক সহজ এবং দ্রুত হবে। বইটি এমাজনে পাওয়া যায়। তোমরা কেউ বইটির সারাংশ বাংলায় অনুবাদ করে নিজেদের মধ্যে বিতরণ করতে পারো। এতে সবাই উপকৃত হবে। 

তোমাদের জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে। এ শীর্ষে থাকা অবস্থায়ই তোমাদের সংগঠন তৃণমূলে পৌঁছাতে হবে। যত দেরি করবে তত তোমাদের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অনেকেই ভেতরে ভেতরে তোমাদের ব্যর্থ করার চেষ্টা করছে। সুতরাং সময় নষ্ট করার সময় নেই। তোমরা সবাই গড়ে প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা করে অথবা সপ্তাহে অন্তত সাত ঘণ্টা করে এ কাজে সময় দেওয়ার কথা চিন্তা করতে পারো। মনে রাখবে যারা তোমাদের সমালোচনা করছে তাদের চাইতে তোমাদের ঝুঁকি অনেক বেশি। আমাদের জীবন তো প্রায় শেষ। তোমাদের নিজেদের এবং দেশের ভবিষ্যৎ এ আন্দোলনের সফলতার ওপর নির্ভর করছে। ৫৩ বছর পরে দেশকে নতুন করে গড়বার একটা সুবর্ণ সুযোগ এসেছে। একমাত্র তোমরাই একে সফল করতে পারবে। 

আরব বসন্তের কথা ভুলে যাবে না। তিউনিসিয়ার কথা ভুলবে না। মিসরের কথা ভুলবে না। ২০১১ সালে মিসরের বীর তরুণরা সারা পৃথিবীকে বিস্মিত করে মাত্র ১৮ দিনে ৩০ বছরের স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছিল। সেই মহাবিজয়ের পর সেই তরুণরা বিপ্লবের নেতৃত্ব নিজেদের হাতে না রেখে শ্রদ্ধাভরে বড়দের হাতে তুলে দিয়েছিল। সেই বড়রা বিপ্লব সম্পন্ন করতে শুধু যে ব্যর্থ হননি তা নয়, তারা আগের চাইতে আরও কঠোর স্বৈরাচারের সৃষ্টি করেন যা আজও বিদ্যমান। মিসরের বীর তরুণদের সেই ভুল সিদ্ধান্তের খেসারত ১২ কোটি মিসরীয় আজও দিয়ে চলেছে। সুতরাং ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করো। আমাদের গত ৫৩ বছরের ইতিহাস ভুলবে না। এ অভূতপূর্ব মহাবিপ্লব সফল করার দায়িত্ব অন্যের হাতে তুলে দেবে না। তোমরা যদি লেগে থাকো, তোমাদের বিজয় নিশ্চিত। তোমাদের আগে আর কোনো প্রজন্মের মধ্যে এত অল্প বয়সে এত সাহস, এত বুদ্ধি, এত জ্ঞান, এত প্রজ্ঞা, এত দূরদৃষ্টি, এত দেশপ্রেম, এত ন্যায়নিষ্ঠতা, এতটা মানসিক পরিপক্বতা একসঙ্গে দেখা যায়নি। তোমরা কিছুতেই পরাজিত হবে না। সৃষ্টিকর্তা তোমাদের সহায়- এটা নিশ্চিত জেনো।

বিনীত

তোমাদের গুণমুগ্ধ

অখ্যাত এক অশীতিপর বাংলাদেশি

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা