× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ক্রীড়া

ফুটবল ঘিরে নতুন প্রত্যাশা

ইকরামউজ্জমান

প্রকাশ : ২৪ নভেম্বর ২০২৪ ০৯:১২ এএম

ইকরামউজ্জমান

ইকরামউজ্জমান

দেশে নতুন সময় এবং পরিবেশ পরিস্থিতিতে ফুটবল ঘিরে নতুন আশা-আকাঙ্ক্ষার জন্ম হয়েছে। মানুষ চাইছে ফুটবল সুবিধাভোগীদের গণ্ডি এবং ভুল চিন্তাভাবনা থেকে মুক্তি পাক। লাইনচ্যুত ফুটবলকে লাইনে তোলা হোক। দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পূর্বঘোষিত তারিখ অনুযায়ী বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের গভর্নিং বডির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে অবাধ, সুষ্ঠু এবং অংশগ্রহণমূলক। স্বার্থান্বেষী মহলের নেতিবাচক প্রচারণা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। অপতথ্য, ভুল তথ্য এবং বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা দেশের ফুটবলে একটি বড় সমস্যা। এর জন্য সাধারণ ক্রীড়ানুরাগী মহল বিশ্বাস এবং আস্থার সংকটে ভোগেন। ফুটবলের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত এবং উদ্যোগ বোঝা যায় না। অন্তর্ভুক্তিমূলক ঐক্য এবং সমঝোতার মাধ্যমে কার্যসাধন ফুটবলে খুব কমই হয়। অথচ ফুটবল কিন্তু গণতান্ত্রিক খেলা। গণতন্ত্রের প্রতিফলন এই খেলায় পদে পদে আছে।

দুঃখজনক হলেও সত্যি, গত ৫৩ বছরে ফুটবলে জন-আকাঙ্ক্ষা গুরুত্ব পায়নি। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ফুটবল ফেডারেশনের নির্বাচনে এবার নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন মাত্র চারজন প্রেসিডেন্ট। ফুটবল সংশ্লিষ্ট কিছু মানুষ আছেন, যারা স্বার্থ ছাড়া কিছু বোঝেন না। তারা সুযোগ পেলে আগুনে ঘি ঢালেন। গণতন্ত্র এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার বিকাশ ছাড়া ফুটবল শুধু নয়, কোনো খেলায় উন্নয়ন বা উন্নতি কোনোটাই সম্ভব নয়। অপেশাদার ফুটবলে সবার অংশগ্রহণ ব্যতীত নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছা সম্ভব নয়। দেশের ফুটবলে সবচেয়ে ক্ষতিকর দিক ছিল কর্তৃত্ববাদিতার মাধ্যমে জবাবদিহিহীন অপশাসন। বছরের পর বছর ধরে ফুটবল চলেছে নীতি ও দিক নির্দেশনাহীনভাবে। দু-তিনজন ফুটবল চালিয়েছেন তাদের খেয়ালখুশি অনুযায়ী। আর কমিটির অন্যরা ছিলেন সাক্ষী গোপাল। এদের মধ্যে কেউ কেউ হতাশ। কেউ আবার গা বাঁচিয়ে চলার পক্ষে। চার বছর বাফুফের কার্যনির্বাহী পরিষদের ‘পরিচয়পত্রটা’তো অনেক বড় বিষয় সমাজ জীবনে। ফুটবল ঘিরে সব সময় সুন্দর সুন্দর কথা বলা হয়েছে। আশার কথা শোনানো হয়েছে ভাবা হয়নি যে বলা হচ্ছে, এটি বাস্তবে বাস্তবায়িত করা সম্ভব নয়। নিজস্ব অবস্থান থেকে এই প্রতিশ্রুতিগুলো নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করার পাশাপাশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এতে করে ফুটবল ঘিরে আস্থার জায়গাটি সব সময় নড়বড়ে থেকে গেছে।

ফুটবল থেকে অসংগতিগুলো দূর হয়নি। সবচেয়ে সুন্দর খেলায় অন্যরা যখন এগিয়ে চলেছে তখন আমরা ফুটবলের চৌবাচ্চায় হাবুডুবু খাচ্ছি। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে নতুন করে জেগেছে বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশের চিন্তাশক্তির পরিধি অনেক বেশি। নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে। এখন সময় ফুটবলে পরিবর্তন, পরিবর্ধন এবং নতুন সংযোজন ও উদ্ভাবনকে স্বাগত জানানো। মানুষ আর চাইছে না অতীতে ফিরে যেতে। মানুষের চাহিদা এখন নতুন ভোরের আলো। নর্বনির্বাচিত বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী পরিষদ দায়িত্ব নেওয়ার পর ইতোমধ্যেই প্রথম সভাতে বিভিন্ন কমিটির চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এটি ইতিবাচক। সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই। সামনে অনেক কাজ অপেক্ষা করছে, যা এতগুলো বছর গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। দু-একটি কমিটির চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়ে কথা উঠেছে। এটি উঠতেই পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কথা নয় কাজ। কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে পরিবর্তন কত বেশি প্রয়োজন। অতীতে সম্ভব হয়নিÑ আর তাই এবারও সম্ভব হবে না, এই চিন্তা তো নেতিবাচক। চ্যালেঞ্জ নিতে হবে সবাই মিলে, অতীতের ভুলভ্রান্তি থেকে বেরিয়ে এসে নতুন চিন্তাভাবনার মাধ্যমে ফুটবল নিয়ে সামনের দিকে তাকাতে হবে। ফুটবল বোয়িংয়ের এখন নতুন ক্যাপটেন তাবিথ আউয়াল। সচেতন এবং আধুনিক ফুটবল চিন্তার অধিকারী আউয়াল। তারুণ্যের প্রতীক ফুটবল ঘিরে আছে তার স্বচ্ছ চিন্তা। ইতঃপূর্বেও তাবিথ আউয়াল ফুটবলের গভর্নিং বডিতে দুই টার্ম কাজ করেছেন। তিনি জানেন ফুটবলের প্রাথমিক সমস্যাগুলো। এবার তাকে সেই সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হবে পুরো টিম ঐক্যবদ্ধ এবং উজ্জীবিত করে। তার টিমে কয়েকজন আছেন যারা পরীক্ষিত ফুটবল সংগঠকÑ বিগত কমিটিতে কাজ করেছেন। কেউ কেউ নতুন। এটি কোনো বিষয় নয়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কাজ করার ইচ্ছা, কমিটমেন্ট এবং সাংগঠনিক দক্ষতা। ফুটবলে দরকার বাস্তবভিত্তিক এবং বাস্তবায়ন সম্ভব চিন্তা।

ফুটবল ব্যক্তিত্ব কাজী সালাউদ্দিন। চার চারটি টার্ম ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এখন তিনি অতীত। তিনি তার সময়ে কী করতে পেরেছেন, আর কী করতে পারেননি এই মূল্যায়ন ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে করার সময় হয়নি। অপেক্ষা করতে হবে। ইতিহাস তাৎক্ষণিক কিছুকে তার বুকে স্থান দেয় না, যাচাই-বাছাইয়ের বিষয়টি এই ক্ষেত্রে গুরুত্ব পায়। সামাজিক-রাজনৈতিক বাস্তবতায় আমরা এখন একটি অস্থিতিশীল অবস্থায় আছি। ক্রীড়াঙ্গনে অন্যান্য খেলার মতো ফুটবলে মানসিক শক্তির বিকাশ ঘটেছে। এই শক্তি কাজে লাগাতে হবে। ফুটবল একটি বড় পরিবার। এখানে সবাই একমতের অধিকারী হবেনÑ তা কেউ আশা করেন না। তবে কেউ কারও শত্রু নন। আমলাতান্ত্রিকভাবে ফুটবল চলতে পারবে না। ফুটবলের চাহিদা বুঝতে হবে।

সংস্কার বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা দরকার। কোনোকিছুই চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। দরকার অগ্রাধিকার সুনির্দিষ্ট করা। কৌশলগত চিন্তা নিয়ে সংস্কার সাজাতে হবে। বাফুফের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. ইমরুল হাসান নির্বাচনের পূর্বে ‘ফুটবল ৩৬০ নামে তার নির্বাচনী ‘ম্যানিফেস্টো’দিয়েছেন। জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতার জন্য ‘ম্যানিফেস্টোর’ প্রয়োজন আছে। অন্য কোনো প্রার্থীর এই ধরনের উদ্যোগ চোখে পড়েনি। ফুটবল ৩৬০ তে অর্গানাইজেশন, স্ট্র্যাটেজিক অপারেশন্যাল, মার্কেটিং এবং মিডিয়া/ইভেন্ট/ফ্যান অ্যান্ড ভল্যান্টিয়ার অধ্যায়ে বিস্তারিতভাবে অনেক কিছুই উল্লেখ করা হয়েছে। বছরের পর বছর সংস্কার কার্যক্রম এবং নতুন উদ্ভাবন নিয়ে না ভাবাতে বোঝা ভারী হয়েছে। সুযোগ এসেছে ফুটবলের জনস্বার্থ বিষয়ে সবাই মিলে অগ্রাধিকার নির্ণয় করে কাজ করা। ইতোমধ্যেই ২০২৪-২৫ ফুটবল মৌসুম মাঠে গড়িয়েছে বাংলাদেশ ২.০ চ্যালেঞ্জ কাপ ২০২৪-২৫ পাওয়ার্ড বাই বসুন্ধরা গ্রুপ। পেশাদার লিগ কমিটির এটিও নতুন উদ্যোগ।

একটি মাত্র ম্যাচ লিগ চ্যাম্পিয়ন ও ফেডারেশন কাপ চ্যাম্পিয়নের মধ্যে। গত মৌসুমে যেহেতু বসুন্ধরা কিংস ট্রেবল জিতেছিল, আর তাই গত ২২ নভেম্বর খেলাটি হয়েছে লিগ চ্যাম্পিয়ন কিংস এবং ফেডারেশন কাপে রানার্সআপ মোহামেডান স্পোটিংয়ের মধ্যে। খেলায় জয়ী হয়েছে বসুন্ধরা কিংস ৩-১ গোলে। মৌসুমের প্রথম ট্রফি জয়। এটি উজ্জীবিত করবে দলকে আগামী দিনগুলোতে লড়াইয়ের মাঠে। এদিকে প্রিমিয়ার লিগের খেলা মাঠে গড়াবে ২৯ নভেম্বর। আগের মতো পাঁচটি ভেন্যুতে খেলা। খেলা সপ্তাহে শুক্র ও শনিবার। এবারের লিগে অংশ নিচ্ছে ১০টি দল। আর ফেডারেশন কাপের খেলা শুরু হবে ৩ ডিসেম্বর। খেলা হবে প্রতি মঙ্গলবার। সবচেয়ে বড় কথা হলো ফুটবল নিয়ে এখন গতিশীল কাজ খুব জরুরি।

  • ক্রীড়া বিশ্লেষক। সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি, এআইপিএস এশিয়া
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা