রাজনীতি
ড. মো. শামসুল আলম
প্রকাশ : ২৩ নভেম্বর ২০২৪ ০৮:২৭ এএম
ড. মো. শামসুল আলম
দেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে ঘুণপোকার বাস। জনগণের অধিকার আদায়ে রাজনীতি মুখ্য ভূমিকা পালন করলেও আমরা দেখছি রাজনৈতিক দলগুলো এ ব্যাপারে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় নিষ্ঠ নয়। পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক দলগুলো দীর্ঘদিনের জাঁতাকল থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছে। কিন্তু কোনো কোনো রাজনৈতিক দলের মধ্যে ব্যক্তিসর্বস্বতাই এখনও বেশি লক্ষণীয়। রাজনৈতিক অঙ্গনে এই অচলাবস্থা কেন? প্রশ্নটির উত্তর তৃণমূল পর্যায় থেকে ছাত্ররাজনীতির দিকে তাকালেই বোঝা সহজ। রাজনৈতিক অঙ্গনে অচলাবস্থা তখনই আসে যখন ছাত্ররাজনীতির মধ্যে অচলাবস্থা দেখা দেয়। আমাদের ইতিহাস বলে, জনগণের কোনো অধিকার লঙ্ঘিত হলে সবার আগে ছাত্ররাজনীতির মঞ্চ থেকে প্রতিবাদ তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে ছাত্র রাজনৈতিক সংগঠন, রাজনীতি সচেতন শিক্ষার্থী সংস্থা এমনকি অনেকে এক্টিভিস্ট হিসেবেও নানা সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। কিন্তু পটপরিবর্তনের পর রাজনৈতিক বিক্ষিপ্ততা শিক্ষার্থীদের মধ্যেও প্রভাব ফেলেছে। ছাত্ররাজনীতি সৃষ্ট নেতৃত্ব বিগত কয়েক দশকে একাধিক গণ-অভ্যুত্থানের সূচনা করেছে। সর্বশেষটি আমরা দেখেছি জুলাই-আগস্টে। ক্ষমতাচ্যুত রাজনৈতিক সরকারের আমলে রাজনীতির ছত্রছায়ায় অনেক দুর্বৃত্ত আশ্রয় নেয়। আমরা দেখছি, রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ জনপ্রশাসন এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায়ও রাজনৈতিক প্রভাববলয় তৈরি হয়েছে। এ ধরনের বলয় তৈরি হয়েছে অসমভাবে এবং দলীয় শৃঙ্খলকে অমান্য করে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে অনেক রাজনীতিবিদদের প্রতি মানুষের চরম অনাস্থা প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রের ক্ষতিই করে চলেছে।

ডৌগ ম্যাগলাস, জন ডি ম্যাককার্থি এবং মেয়ার এন জাল্ড দীর্ঘদিন ধরেই সামাজিক আন্দোলনের তুলনামূলক আঙ্গিক নিয়ে গবেষণা করছেন। তাদের বিখ্যাত গ্রন্থ ‘কম্প্যারাটিভ পার্সপ্যাক্টিভ অন সোশ্যাল মুভমেন্ট’ গ্রন্থটিতে আধুনিক বিশ্বে জনগণের আন্দোলন ও অভ্যুত্থানের কারণ অনুসন্ধানের প্রসঙ্গ উত্থাপনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতির প্রসঙ্গও ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে। আধুনিক বিশ্বে প্রতিটি রাষ্ট্রই তাদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ায়, যাতে অবধারিতভাবে তাদের যুদ্ধে লিপ্ত হতে না হয়। কিন্তু যুদ্ধ তারা জারি রাখে প্রক্সির মাধ্যমে। এই প্রক্সি সচরাচর আন্দোলনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় যেমনটি আমরা মধ্যপ্রাচ্যে দেখেছি হুথি কিংবা হিজবুল্লাহর ক্ষেত্রে। আফ্রিকায় এ অবস্থা আরও অবনতির দিকে। কিন্তু প্রক্সির সঙ্গে সামাজিক আন্দোলনের ফারাক রয়েছে। সামাজিক আন্দোলনের ক্ষেত্রে যেসব রাষ্ট্রে কিংবা কোনো সময়ে রাজনীতির প্রতি মানুষের আস্থা হারিয়ে যায় তখন রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয় কিন্তু জনগণ তাদের অধিকার আদায় করে নেয়। আমরা দেখছি, রাজনীতিবিদদের প্রতি সৃষ্টি হচ্ছে চরম অনাস্থা, যা জনগণের অধিকার রক্ষা বা রাষ্ট্রের তথা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এখন নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি হচ্ছে না বা নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি করা হচ্ছে না। নেতৃত্ব হারানোর ভয়ে অন্তর্কোন্দল থেকে মারামারিÑ এমনকি হত্যার ঘটনাও ঘটছে। এ ছাড়া দলগুলোর কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পাওয়া নেতারাও নেতৃত্ব হারানোর ভয়ে পরবর্তী সময়ে সম্মেলন ও কাউন্সিলের মতো ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে আগ্রহ দেখান না। এতে করে রাজনীতিতেও সৃষ্টি হচ্ছে একনায়কতন্ত্র; আর একনায়কতন্ত্র মানে স্বেচ্ছাচারিতা, যা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্যও মারাত্মক হুমকি বটে। এজন্য রাজনৈতিক দলগুলোর স্থায়িত্ব রক্ষায় নেতৃত্বের বিকাশ দরকার। আর নেতৃত্বের বিকাশ ঘটাতে দরকার গঠনতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা। যেখানে নির্দিষ্ট সময় শেষে সম্মেলন ও কাউন্সিল অধিবেশনের আয়োজন করতে হবে। অথচ যেটা বাধ্যতামূলকÑ সেটা এখন বাস্তবায়নই করছে না দলগুলো, যা পরিশুদ্ধ রাজনীতি চর্চার পথে বিরাট প্রতিবন্ধকতা।
পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের কার্যক্রমে কোনো বাধা দেয়নি। এ ক্ষেত্রে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে। ২১ নভেম্বর প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর এক প্রতিবেদনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর একটি বক্তব্য মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। তিনি উলিপুরে এক জনসভায় জানান, বিএনপি আসলে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠন করবে এবং জাতীয় সরকার গঠন করবে। এ ক্ষেত্রে দলটির নীতিনির্ধারকদের বক্তব্য, নির্বাচন দিলেই দেশের রাজনৈতিক স্থিতাবস্থা দূর হয়ে যাবে। কিন্তু দেশের মানুষ যেহেতু রাজনৈতিক দলকে ব্যক্তিসর্বস্ব কাঠামো হিসেবেই দেখে ফলত তারা রাজনৈতিক আদর্শের দিকে আকৃষ্ট হতে পারছে না। কারণ মানুষের তিক্ত অভিজ্ঞতায় রয়েছেÑনির্বাচনের সময় সম্পূর্ণ অনভিজ্ঞ, ব্যবসায়ী, অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচনের আগে লাখ বা কোটি টাকায় মনোনয়ন বাণিজ্য এবং নির্বাচনী প্রচারের সময় শোডাউনসর্বস্বতাই মুখ্য। এজন্য ওই ব্যক্তি ক্ষমতায় গিয়ে ওই ব্যক্তি সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক হয়ে পড়েন। এতে ক্ষতির পাল্লা জনগণের দিকে ভারী হয়ে ওঠে। পক্ষান্তরে জনগণের ক্ষতি মানে তো রাষ্ট্রেরই ক্ষতি। রাজনৈতিক দলগুলো তরুণ নেতৃত্ব তৈরির বদলে এই সংগঠনগুলোকে পেশিশক্তি হিসেবে ব্যবহার করে।
একসময় বাংলাদেশের রাজনীতিতে নেতৃত্ব সৃষ্টির নানা উদ্যোগ ছিল। এখন দলগুলোতে সেই উদ্যোগ একেবারেই নেই বলা চলে। এর প্রধান কারণÑ দলগুলোতে পুরোনো যারা নেতৃত্বে আছেন তারা ক্ষমতা হারাতে চান না। নিজেদের তারা দলের জন্য অপরিহার্য করে রাখেন। নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টিতে এরাই সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। অভিযোগ আছে, অনেকে দলকে নিজের লাভালাভের ক্ষেত্র বানিয়ে রাখেন। নিজের নেতৃত্বের সুযোগকে ব্যবসায়িক ডিলারশিপের মতো রাজনৈতিক ডিলারশিপ ভাবছেন। এর জন্য ক্ষতি হচ্ছে মূলত দলেরই। আমাদের দেশের স্বাধীনতা আন্দোলন বা ভাষা আন্দোলন; মোটকথা জনতার অধিকার আদায়ের সব আন্দোলনই রাজনৈতিক দলের ধারাবাহিক কর্মসূচির মাধ্যমেই হাসিল হয়েছিল। অথচ এখন সে দেশটির রাজনৈতিক দলগুলোতে সম্মেলন-কাউন্সিল কিছু নেই। হলেও দেখা যায়, লোক দেখানো এবং সেখানেও মারামারি-হানাহানি। রাজনীতি সচেতন কিংবা কল্যাণকামী অনেকেই দেশের ডানপন্থি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে মাঠ পর্যায়ের রাজনীতি শেখার আগ্রহ দেখায় না। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এজন্যই লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবি জোরেশোরেই উচ্চারিত হয়েছে।
আমরা দেখছি, পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে নিয়মিত বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনাসভা হচ্ছে। এসব আলোচনায় রাজনীতিসচেতনতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আবার নতুন করে বই পড়ার প্রতি আগ্রহ জাগানো হচ্ছে। সম্প্রতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে তরুণ শিক্ষার্থীদের মাঝে ইতিহাস ও রাজনীতিবিষয়ক ৫০০ বই বিতরণ করা হয়। এসবই রাজনীতিসচেতন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগ। কিন্তু এসব উদ্যোগের পরও আমরা ছাত্ররাজনীতির বিষয়ে কি ইতিবাচক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পেরেছি? অন্তত লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি বন্ধের যে যৌক্তিক আলোচনা ছিল এবং সুষ্ঠু ধারার ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতির প্রস্তাবনা ছিল সেগুলো ধামাচাপা পড়ে গেছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতিই চলছে। যেমনটি সম্প্রতি প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, ‘রাষ্ট্রের শুধু পোশাকই পাল্টেছে।’ বস্তুতও তাই হয়েছে। এখনও রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশৃঙ্খলা অত্যধিক।
অন্তর্বর্তী সরকার একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের যাত্রা শুরু করেছে। ইতোমধ্যে গঠিত হয়েছে নতুন নির্বাচন কমিশন। সরকার ও কমিশনের যাত্রা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় দেশের নানাবিধ বিচ্ছিন্ন আন্দোলনের কারণে। নিত্যনতুন গোষ্ঠীর আন্দোলন বিভিন্ন খাতকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর যে নিরপেক্ষ পরিবেশ তৈরি হয়েছে তার সদ্ব্যবহারের সুযোগ রাজনৈতিক দলগুলোর ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে দলগুলো শুধু নির্বাচনকেই প্রাধান্য দিচ্ছে। ক্ষমতারোহণটাই মূলকথা নয়, আধুনিক রাষ্ট্র অত্যন্ত জটিল এবং রাষ্ট্রের অসংখ্য সমস্যা যে রাজনৈতিক শক্তি ছাড়া মোকাবিলা করা কঠিন এ বাস্তবতাও অস্বীকার করার উপায় নেই। রাজনৈতিক দলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরই মূলকথা নয়। রাজনৈতিক দলের মধ্যে যারাই শৃঙ্খলাভঙ্গ, স্বার্থসিদ্ধি করে আসছেন তারা যে বিষফোঁড়া তা পতিত আওয়ামী লীগ ভালোভাবেই অনুধাবন করতে পারছে। বস্তুত, স্বাধীনতা সংগ্রাম নেতৃত্বদানকারী বলে পরিচিত দলটিই এখন স্বৈরাচারী আচরণে দুষ্ট, ফলত অবাঞ্ছিত। অন্য রাজনৈতিক দলগুলোকেও এ বিষয়টি অনুধাবন করতে হবে।
জনতাই যে রাষ্ট্রের মূল শক্তি এ বাস্তবতা তাদের অনুধাবন করা জরুরি। রাজনৈতিক দলের শুধু সরকারের সমালোচনা করলেই দায়িত্ব পালন হয় না। তৃণমূল পর্যায়ে বাজারে তদারকি এবং জনগণকে ন্যায়বিচার পাওয়ার সকল পথনির্দেশনা দেওয়ার মাধ্যমে জনসেবা যেমন করা যায় তেমনি জনসমর্থনও আদায় করা যায়। এ ক্ষেত্রে ছাত্র সংগঠনগুলোকে তারা কাজে লাগাতে পারে। দেশে নিম্ন আয়ের মানুষ নেতৃত্বহীন। ফলে তারা তাদের দাবি উত্থাপনের জন্য বারবার আন্দোলনের পথে নামছে। আবার জনপ্রশাসন ও স্থিতিশীল অংশও এই সময়ে দাবিদাওয়া নিয়ে উত্তাল। শিক্ষিত শ্রেণির উল্লেখযোগ অংশই যখন রাষ্ট্রের ভঙ্গুর অবস্থাকে অনুধাবন করতে পারে না তখন নিম্ন আয়ের মানুষদের দোষ দিয়ে কি লাভ। এ ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারেরও কঠোর হওয়ার অবস্থান কোথায়? কারণ আমরা দেখছি গত ৩ মাসে আন্দোলনের ক্ষেত্রে কোনো একটি রাজনৈতিক পক্ষের ইন্ধনের অভিযোগ উঠছে। এসব বাস্তবতা বিচার করলে রাজনৈতিক নেতৃত্ব অনুপস্থিত বলেই ধরে নিতে হয়।
দেশকে পরিচালনার জন্য ছাত্ররাজনীতিতে নেতৃত্ব গঠন এবং মাঠ পর্যায়ের রাজনীতিকে জনসেবামূলক করা গুরুত্বপূর্ণ। আওয়ামী লীগের শাসনামলে উপজেলা কমিটির একজন সদস্য জেলা পর্যায়ের রাজনীতিকের তুলনায় বেশি প্রভাবশালী হয়ে উঠতে পারতেন। দলীয় শৃঙ্খল তাদের বিবেচ্য বিষয় ছিল না। কেন্দ্রের সঙ্গে অসম সম্পর্কই ছিল রাজনৈতিক শৃঙ্খল ভঙ্গের বড় প্রভাবক। অন্য রাজনৈতিক দলগুলোও এই ফর্মুলাই প্রয়োগ করেছে; অন্তত নিয়মিত সংবাদমাধ্যমে চোখ বুলালে সচেতন কারোরই এমনটি চোখ এড়ানোর কথা নয়। এজন্য রাজনৈতিক দলের নীতিনির্ধারকদের কঠোর সমালোচনাকে তাদের বিরুদ্ধে রাখার বক্তব্য হিসেবে বিচার না করে ভালো পরামর্শ হিসেবেই গ্রহণ করতে হবে। আধুনিক সময়ে আন্দোলন যে যুদ্ধের চেয়েও ব্যতিক্রমী ভূমিকায় চলে গেছে তা আগেই উল্লেখ করেছি। তাই রাজনৈতিক দলগুলোর নীতিনির্ধারকদের বুঝতে হবে, জনতার শক্তি এবং তাদের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ছাত্র নেতৃত্বÑ এ দুটো বিষয় সব সময়ই ছিল এবং থাকবে। বর্তমানে ছাত্ররাজনীতি বিক্ষিপ্ত হলেও সচেতন প্রজন্ম আস্তে আস্তে পুনর্গঠিত হবেই। যুগই নির্ধারণ করে দেয় ভবিষ্যৎ। আমরা জানি, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থায় জনগণই সব ক্ষমতার উৎস। তাদের ভিন্ন ভিন্ন উদার মত প্রকাশে গণতন্ত্র উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলত হয়। আর এখানেই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য নিহিত।