× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

শিক্ষা সংস্কারের লিটমাস টেস্ট

ওমর শেহাব

প্রকাশ : ১৬ নভেম্বর ২০২৪ ১৪:৫২ পিএম

আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০২৪ ১৬:২৯ পিএম

ওমর শেহাব

ওমর শেহাব

বর্তমান সরকারের বয়স ১০০ দিন হয়ে গেল। আমি দূরদেশে থাকি। তাই দেশ কেমন চলছে তা বিচারের ভার আমি দেশে যারা থাকে তাদের ওপরই রাখতে চাই। তবে যেহেতু আগের সরকারের শিক্ষাক্রম-২০২২ বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত ছিলাম কাজেই সে কাজগুলো কেমন চলছে তা নিয়ে আমার আলাদা আগ্রহ আছে। এখন যেহেতু এ ব্যাপারটি দূর থেকে দেখছি, বাহ্যিকভাবে কী দেখলে বুঝব কাজ ভালোভাবে হচ্ছে তা নিয়ে এ লেখা।

প্রথমেই তাড়াহুড়া করে শিক্ষাবিষয়ক সমন্বয় কমিটি তৈরি করে আবার শায়খ আহমাদুল্লাহর অনুসারীদের হুমকিতে সেটি বাতিল করে দেওয়াটি একটি বড় ব্যর্থতা। আগের শিক্ষাক্রমে দুই স্তরের কমিটি পুরো বিষয়টার দেখভাল করত। সবার ওপরে ছিল জাতীয় শিক্ষাক্রম উন্নয়ন ও পরিমার্জন কোর কমিটি আর তার নিচে ছিল কার্যসম্পাদন কমিটি। দুটি কমিটির সদস্যের তালিকা শুরুতেই সর্বসমক্ষে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কেউ যদি শিক্ষাক্রম রূপরেখাটি পড়ে তাহলে সবার শেষে পরিশিষ্টে এ তালিকা দুটি খুঁজে পাবে। কমিটির সদস্যের ব্যাপারে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড এবার মনে হচ্ছে আগের চেয়ে অস্বচ্ছভাবে কাজ করছে। এ তালিকাগুলো প্রকাশ হওয়া উচিত। মানুষের জানা উচিত কারা তাদের বাচ্চাদের জন্য বই লিখছে। যদি সরকার এ তালিকা প্রকাশ করতে ব্যর্থ হয় তাহলে লিটমাস টেস্টে ফেল করল।

দ্বিতীয় লিটমাস টেস্টটি হলো নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো কতটুকু উপাত্তভিত্তিক। একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় কোন উপাত্তের ভিত্তিতে নেওয়া হচ্ছে তা যদি ব্যাখ্যা করা না হয় তাহলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় লিটমাস টেস্টে ফেল করবে। আমাদের শিক্ষা উপাত্তের মূল উৎস ব্যানবেইস। ব্যানবেইসের উপাত্তের বিভিন্ন অংশের মধ্যে যেমন অসংলগ্নতা আছে, তেমন এর সঙ্গে অন্য উৎসেরও রয়েছে প্রচণ্ড অসংলগ্নতা। যেমন সদ্য স্থগিত শিক্ষাক্রম ২০২২ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নৈপুণ্য অ্যাপ, সার্ভার ও ডেটাবেজ তৈরি করা হয়। এর সঙ্গে ব্যানবেইসের উপাত্তের রয়েছে প্রচুর অমিল। একটি উদাহরণ দিই। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে একটি কথা চলছে যে ষষ্ঠ থেকে নবম ও দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঁচটি শ্রেণিতে আরবি সিলেবাস অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ধরলাম এটি সত্যি। যদি শিক্ষা মন্ত্রণালয় আসলেই আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্ত জানায় কিন্তু সঙ্গে এটি জানাতে ব্যর্থ হয় যে কোন জেলার কত শতাংশ বিদ্যালয়ে এ বিষয়ে প্রশিক্ষিত শিক্ষক নেই; তাহলে আমরা ধরে নেব যে লিটমাস টেস্টের ফল ফেল করেছে। এটি অনেকটা আগের সরকারের শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবের মতো। আমরা খালি পত্রিকায় দেখতাম যে এত হাজার বিদ্যালয়ে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব তৈরি করা হচ্ছে। কিন্তু আমাদের কখনই বলা হতো না এর মধ্যে কত শতাংশ কম্পিউটার প্রতি মাসে নষ্ট থাকে। সরকারি কেনাবেচার যে পদ্ধতি তাতে কম্পিউটার কিনতে যত মজা, কম্পিউটারকে কার্যক্ষম রাখার মধ্যে তত মজা নেই। ঠিক তেমনি আররি শিক্ষকদের নিয়োগবাণিজ্য যত মজা হবে, তাদের দক্ষতা একটি মানে সারা বছর ধরে রাখায় তত মজা হবে না।

তৃতীয় লিটমাস টেস্ট হলো শিক্ষকদের কাজের চাপ নিরূপণ। শিক্ষাক্রম ২০২২-এর একটি চমৎকার ব্যাপার ছিল শিক্ষার্থীদের পড়ার চাপ কেমন হবে তা নিয়ে একটি পরিষ্কার নীতি থাকা। সে সারণিটি আমি নিচে দিয়ে দিলাম।

এ বিষয়গুলোর জন্য শিক্ষকদের কাজের চাপের সারণিটি কই? আমাদের একটি ব্যাপার মনে রাখতে হবে, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় মন্ত্রী, আমলা, উপদেষ্টা এনারা থাকেন চার-পাঁচ বছর, শিক্ষার্থীরা থাকে ১০-১২ বছর। অন্যদিকে শিক্ষকরা থাকেন ৩০-৪০ বছর। এর অর্থ হলো শিক্ষাব্যবস্থা যদি একটি সৌরজগৎ হয়, এর সব গ্রহকে শিক্ষকদের কেন্দ্র করে ঘুরতে হবে। যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে শিক্ষকদের সুবিধা-অসুবিধার কথা। আমরা একটি নতুন বিষয় পড়াব। আমাদের বলতে পারতে হবে এতে শিক্ষকদের কর্মঘণ্টা গড়ে কতটুকু বাড়বে বা কমবে। আমরা একটি পদ্ধতি ডিজিটাল করে ফেলব। আমাদের বলতে পারতে হবে শিক্ষকদের মাসিক খরচে ইন্টারনেটের জন্য কতটুকু বরাদ্দ থাকতে হবে এবং সে টাকা কে দেবে। আমরা শিক্ষার্থীদের হাতে কলমে একটা কাজ করাব। আমাদের বলতে পারতে হবে একজন শিক্ষকের শিক্ষার্থীপ্রতি কত মিনিট করে খরচ হবে এবং ক্লাসে মোট শিক্ষার্থী হিসাব করলে এটি বাস্তবসম্মত হবে কি না। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর একটি সভা করবে। তাদের বলতে পারতে হবে কত শতাংশ মিটিং বিকাল ৫টার পরে হচ্ছে ও কেন হচ্ছে? কারণ শিক্ষকরা যদি ওই সময় সভা করেন তাহলে তারা পরিবারকে সময় দেবেন কখন? রান্নাবান্না করবেন কখন? বিশ্রাম নেবেন কখন? রোজার ছুটি নির্ধারণ করা হচ্ছে। রোজার দিন সকালে এটি জানালে হবে না, অন্তত এক মাস আগে জানাতে হবে যাতে শিক্ষকরা তাদের জীবন নিয়ে কিছু পরিকল্পনা করতে পারেন।

এর বাইরে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ লিটমাস টেস্ট আমি দিইনি। সরকার আগে এ তিনটি পরীক্ষা পাস করুক। চতুর্থ শ্রেণির কথা এখন না ভাবলেও চলবে।

  • নিউইয়র্কের আইবিএম থমাস জে. ওয়াটসন রিসার্চ সেন্টারে তত্ত্বীয় কোয়ান্টাম কম্পিউটার বিজ্ঞানী ও যুক্তরাষ্ট্রে ডিপার্টমেন্ট অব ডিফেন্সসহ একাধিক এজেন্সির অনুদানপ্রাপ্ত গবেষক
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা