× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সরকারের ১০০ দিন

মনোযোগ দিতে হবে সংস্কার ও নির্বাচনে

আবুল কাশেম ফজলুল হক

প্রকাশ : ১৬ নভেম্বর ২০২৪ ০৮:৩৪ এএম

আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০২৪ ১৩:১০ পিএম

আবুল কাশেম ফজলুল হক

আবুল কাশেম ফজলুল হক

অত্যন্ত অস্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। দায়িত্ব নেওয়ার পর তারা প্রতিশ্রুতি দেয় সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের। নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য তারা আগে রাষ্ট্রব্যবস্থায় কিছু সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করার কথাও জানায়। ইতোমধ্যে তাদের সংস্কার কার্যক্রমের বিষয়ে ভাবনা ও দৃষ্টিকোণ উপস্থাপন করার পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তির সমন্বয়ে সংস্কারসংশ্লিষ্ট কমিটি গঠনের মাধ্যমে দায়িত্ব অর্পণ করেছে। যাদের সংস্কার কমিটিগুলোয় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আশা করা যায় তারা শিগগিরই একটি প্রতিবেদন দাখিল করবেন এবং সংস্কার কমিটিগুলোর দেওয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই অন্তর্বর্তী সরকার পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করবে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বড় কোনো পরিবর্তন করা উচিত না এবং সে সম্ভাবনাও কম। বরং সংস্কারের বিষয়ে তাদের পরিকল্পনাগুলো নির্বাচিত সরকারের উদ্দেশ্যে রেখে যেতে পারে।

আমরা দেখছি, রাজনৈতিক পক্ষগুলোর মধ্যে বিএনপি বরাবরই নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছে। তাদের অধিকাংশ সভাসমাবেশ জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকারের দাবির পক্ষে জোরালো হচ্ছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে সংস্কারের পর নির্বাচনের কথা বলা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকার অনেক ধীরস্থির এবং কুশলী। তারা চাইছে দেশকে একটি পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের দিকে পরিচালিত করতে। কিন্তু চাইলেই সবকিছু দ্রুত বাস্তবায়ন করা যায় না। তবে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি এবং রাজনৈতিক দলগুলো দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিলে সংস্কারের নীতিমালা বাস্তবায়ন অসম্ভব কিছু নয়। দেশ পুনর্গঠনে রাজনৈতিক দলের সদিচ্ছা না থাকলে বিদেশি লবিস্ট নিয়োগের মাধ্যমে একটি নির্বাচন আয়োজন করা হয়তো সম্ভব কিন্তু দেশকে সঠিক পথে পরিচালনা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে গত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করা যায়। প্রতিটি নির্বাচন ছিল প্রায় ভোটারবিহীন। কিন্তু নির্বাচন তো হয়েছে। প্রধান বিরোধী দলগুলোর উপস্থিতি না থাকলেও নির্বাচনে প্রার্থীর সংখ্যা কম ছিল না। এ ধরনের নির্বাচনকাঠামোকে কি সুষ্ঠু বলা যায়? টানা ওই তিনটি নির্বাচনের বৈধতা নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। এমন সব প্রতিবন্ধকতা স্মরণে রেখেই অন্তর্বর্তী সরকারকে কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে এবং তারা তাদের শাসনকার্যের একশ দিন অতিবাহিত করেছে।

রাজনৈতিক পক্ষগুলো দেশে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের কথা বলছে। দেশে যত দ্রুত নির্বাচন আয়োজিত হবে তত দ্রুত আমরা আগের অবস্থায় ফিরে যাব। কিন্তু আমরা পুরোনো ব্যবস্থায় ফিরতে চাই না। বরং দেশের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি উন্নতির দিকে যাবে এমন একটি আশ্বাসের দিকেই আমরা যাত্রা করতে চাই। এজন্য মানুষকে ধৈর্য ধরতে হবে। যারা আগামীতে নেতৃত্ব দেবেন তাদেরও এখন একত্র হয়ে কাজ করতে হবে। রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব অবশ্যই প্রয়োজন। আমরা ইরানের ক্ষেত্রে দেখছি, রাজনৈতিক দলের মাধ্যমেই সেখানে সরকার গঠিত হয়েছে। এমনকি নেপালের রাষ্ট্রধর্ম হিন্দু হওয়ার পরও সেখানে রাজনৈতিক দল ছিল এবং রাষ্ট্রধর্ম বাতিল করার পরও সেখানে রাজনৈতিক দল এবং নির্বাচনের মাধ্যমেই ক্ষমতার পালাবদলের পথ উন্মুক্ত। এমনকি কমিউনিস্ট দেশগুলোর উদাহরণ টানলেও দেখা যায় রাজনৈতিক দলের মাধ্যমেই সরকারকাঠামো নির্ধারিত হয়। অর্থাৎ দলীয় রাজনীতিই দেশে দেশে রাষ্ট্রীয় রাজনীতির রূপরেখা হয়ে উঠেছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের দেশে এমন রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও ব্যবস্থা নেই।

দেশের সচেতন মহল দ্রুত পরিবর্তন প্রত্যাশা করছে। কিন্তু পরিবর্তন প্রত্যাশা করলেই হবে না, পরিবর্তন নিশ্চিত করার জন্য সুনিশ্চিত পরিকল্পনা থাকাও জরুরি। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পর্যায়ক্রমে ধাপে ধাপে এগিয়ে যেতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোকে একত্র হয়ে জনগণকে এ কথা বোঝাতে হবে। আপাতদৃষ্টে দেশের অবস্থা পুরোপুরি নাজুক হয়ে পড়েছে এমনটি বলা যাবে না। পশ্চিমা শক্তি ও সহযোগীরা অনেক ইতিবাচক কথা বলছে। কিন্তু আমাদের অভিজ্ঞতা বলে, তাদের পরামর্শ সব সময় আমাদের ইতিবাচক ফল এনে দেয় না। উন্নতি তখনই নিশ্চিত হবে যখন গোটা জাতির অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের ইতিবাচকতা দৃশ্যমান হয়ে উঠবে। এ ইতিবাচকতার দিকে অগ্রযাত্রা শুরু করতে জনসাধারণকে বুঝতে হবে। এসব ভাবনার সঙ্গে সঙ্গে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অবকাঠামোর অনুপস্থিত ব্যবস্থাকে গড়ে তোলার বিষয়েও মনোযোগ বাড়াতে হবে। তবু প্রত্যাশার সুযোগ রয়েছে। এ প্রত্যাশা সামনে রেখেই নতুন নেতৃত্ব গড়ে তোলার কাজ করতে হবে। উপরমহল থেকে কিছু লোক আসবেন অবশ্যই, কিন্তু কাজ করতে হবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে। তবেই আমরা পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের রূপরেখা বাস্তবায়ন করতে পারব। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের দায়িত্ব অন্তর্বর্তী সরকারের কাঁধে।

  • শিক্ষাবিদ ও সভাপতি, বাংলা একাডেমি
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা