ন্যায়ভিত্তিক সমাজ
ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী
প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর ২০২৪ ০৯:৫৮ এএম
ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী
ইতোমধ্যে বিগত সরকারের ক্ষমতাচ্যুতির তিন মাস পূর্ণ হয়েছে। অভূতপূর্ব ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ফলে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থান জাতির ইতিহাসে নতুন অধ্যায় তৈরি করেছে। প্রয়োজনীয় রাষ্ট্র মেরামতের প্রাসঙ্গিকতায় অন্তর্বর্তী সরকার বেশ কিছু উদ্যোগ ইতোমধ্যে গ্রহণ করেছে। আশাজাগানিয়া বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা শান্তিতে নোবেলজয়ী বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্ব ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশবাসীকে সামগ্রিক বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন। ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সব ক্ষেত্রে বৈষম্যের প্রাচীর ভেঙে সমতার নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় জনগণের হৃদয়ে নবতর আশার সঞ্চার করেছে। ধর্মবর্ণ-দলমত নির্বিশেষে প্রিয় মাতৃভূমিকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছানোর সর্বাত্মক প্রয়াস উচ্চকিত। বাংলাদেশ জাতিরাষ্ট্রে দীর্ঘকাল ধরে বিরাজিত অসঙ্গতির মূলোৎপাটন করে নবরূপে দেশ উপহারে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। স্বপ্নের নবদিগন্ত উন্মোচনে সরকারের নিরলস প্রচেষ্টা সর্বত্রই সমাদৃত। তিন মাসের মধ্যেই বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেকটুকু স্বস্তিদায়ক হলেও নিরাপত্তাহীনতার ছায়া সরেনি। নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারব্যবস্থা এখনও সিন্ডিকেট কারসাজির নিয়ন্ত্রণে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমসূত্রে
প্রাপ্ত তথ্যমতে, চাঁদাবাজি-দখলবাণিজ্য-লুটপাট-চুরি-ছিনতাই-রাহাজানির কথিত পালাবদলে
জনগণ অতিশয় আতঙ্কিত। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্যে পরিস্থিতি উন্নয়নে জোরালো আশাবাদ
ব্যক্ত হয়েছে। তার আন্তরিক প্রচেষ্টায় যৌথ বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ৬ নভেম্বর
ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি বর্তমানে
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক ভালো বলে মন্তব্য করেন। তিনি জানান, পরিস্থিতির
আরও উন্নতি কীভাবে করা যায় সে চেষ্টা চলছে। দেশের বেশ কিছু অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা
সৃষ্টির পাঁয়তারাও পরিলক্ষিত হচ্ছে-এ আশঙ্কা কেউ কেউ করছেন। দেশ অস্থিতিশীল করার অব্যাহত
অপতৎপরতার পেছনে নানামুখী ষড়যন্ত্রের আভাসও শোনা যাচ্ছে। চট্টগ্রামের হাজারিগলিসহ ঢাকার
আশপাশে পোশাকশিল্প কারখানাকেন্দ্রিক বিশৃঙ্খলা হতাশাব্যঞ্জক। তবলিগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমা
নিয়ে বিরোধ-বিচ্ছেদ-সংঘর্ষের সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রকাশে আমরা উদ্বিগ্ন। স্বস্তি-অস্বস্তি
ও জনমনের প্রত্যাশার উর্ধ্বমুখী পারদ নিয়ে ভেবে অন্তর্বর্তী সরকার জনপ্রত্যাশা পূরণে
সফল হবে তা আমরা আশা করি।
কোন প্রেক্ষাপটে
অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে তা সচেতন মানুষ মাত্রেরই জানা। মানুষ প্রত্যাশা করে,
দীর্ঘদিনের জেঁকে বসা অনিয়ম-কদাচার-দুরাচার ও অধিকারহীনতার ছায়া সরে সাম্যের আলো ছড়াবে।
কিন্তু সংবাদমাধ্যমে প্রায়ই উঠে আসছে জননিরাপত্তাহানিজনিত অনেক বার্তা। রাজধানী ঢাকা
ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খুন-ডাকাতি-ছিনতাইসহ সমাজবিরোধী অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড
জনমনে উৎকণ্ঠার সৃষ্টি করেছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকার যে এ ব্যাপারে সজাগ ও তৎপর এর
ব্যখ্যা-বিশ্লেষণ নতুন করে নিষ্প্রয়োজন। সরকার ইতোমধ্যে সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডের মুলোৎপাটনের
দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে বেশকিছু পদক্ষেপও নিয়েছে। যৌথ বাহিনী সারাদেশে বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে
এবং সমাজবিরোধীদের শিকড় উৎপাটনে তারা প্রানান্ত চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু তারপরও
আমরা দেখছি, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আমরা বিশ্বাস
করি, সমাজবিরোধীদের এই অপতৎপরতা নির্মূলে সরকার নিশ্চয়ই সফল হবে। তবে এর আগে জরুরি
হলো, প্রতিটি অপরাধের উৎসে নজর দেওয়া। এত কঠোর নজরদারির পরও সমাজবিরোধীরা কি করে তৎপর
এই প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধান পরিস্থিতির উন্নতিকল্পে অত্যন্ত জরুরি। আমরা জানি, জননিরাপত্তা
ভেঙে পড়লে মানবাধিকারে অভিঘাত লাগে। তাই যেকোনো মূল্যে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই হবে।
এ ব্যাপারে বিন্দুমাত্র উদাসীন থাকার কোনো অবকাশ নেই। পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে শুরু হয়েছে
সংস্কার কার্যক্রম। আমরা মনে করি, পুলিশবাহিনীর সংস্কার ও পুনর্গঠন অত্যন্ত জরুরি বিষয়
হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, যেকোনো রাষ্ট্র কিংবা সমাজে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে
পুলিশের ভূমিকাই মুখ্য। এই সংস্থাটিকে ঢেলে সাজিয়ে স্বচ্ছ-দায়বদ্ধ-জবাবদিহিমূলক করা
বাঞ্ছনীয় বলে মনে করি।
সম্প্রতি ধর্ম
উপদেষ্টার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে মন্তব্য খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। ৯ নভেম্বর ইসলামিক
ফাউন্ডেশনের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ে ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা এবং সামাজিক
সমস্যা নিরসনে ওলামা-মাশায়েখদের করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে
তিনি বলেন, ‘ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। বিভিন্ন ধরনের জাতিগোষ্ঠীর
মানুষের সহাবস্থানই এ দেশের বৈশিষ্ট্য। সংবিধানেও দেশের প্রতিটি নাগরিকের ধর্মপালন,
ব্যবসা, রাজনীতি, শিক্ষাসহ সব ক্ষেত্রে সমানাধিকারের কথা রয়েছে। দেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের
মধ্যে বিদ্যমান সম্প্রীতি-সৌহার্দ্যের সম্পর্ক বিনষ্টের জন্য কিছু কায়েমি স্বার্থবাদী
দুষ্কৃতকারী অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের প্রতিহত করার জন্য সরকার সজাগ রয়েছে। দেশে সাম্প্রদায়িক
সম্প্রীতি না থাকলে উন্নয়ন সম্ভব নয়।’
অন্তর্বর্তী সরকারের
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস থেকে শুরু করে সরকার ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল পক্ষগুলোর
দায়িত্ববানদের অঙ্গীকার-প্রত্যয় নিশ্চয় স্বস্তির বিষয়। গত ৮ নভেম্বর বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের
কঠিনচীবর দান ও জাতীয় বৌদ্ধ ধর্মীয় মহাসম্মেলন উপলক্ষে ঢাকায় আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহার
পরিদর্শনকালে সেনাপ্রধানের বক্তব্যও দৃষ্টান্তযোগ্য। সম্প্রীতির দেশ গঠনে সবাইকে শান্তিপূর্ণ
সহাবস্থানে থেকে একে অন্যের সহযোগিতায় এগিয়ে আসার তার আহ্বান সমধিক প্রশংসিত। তিনি
জানান, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে প্রতিটি ধর্মের নিজ নিজ উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে
উদ্যাপনের লক্ষ্যে সেনাবাহিনী প্রয়োজনীয় সব কার্যক্রম গ্রহণে সদাপ্রস্তুত। শান্তি
ও সম্প্রীতির উন্নয়ন ঘটিয়ে সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে পার্বত্য এলাকায় বসবাসরত
পাহাড়ি ও বাঙালিদের সচেষ্ট থাকতে হবে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত পার্বত্য জেলাগুলোয়
পর্যটন শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি তিনি স্থানীয় ভাষা, সংস্কৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের
প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আলোকপাত করেন।
পার্বত্য জেলাগুলোয়
আরও স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হলে স্থানীয় শিক্ষার্থীরা তাদের দক্ষতা
দেশে-বিদেশে প্রমাণে সক্ষম হবে বলে তার প্রত্যাশা।মূলত বাঙালি জাতির মৌলিক বৈশিষ্ট্য
হচ্ছে অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতির অবগাহনে চিরায়ত সৌহার্দ্য-সম্প্রীতির অটুট বন্ধন। বাঙালির
ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সভ্য সমাজের এক নান্দনিক প্রেক্ষাপটে অসাম্প্রদায়িক চিন্তা-চেতনার
ধারণ ও লালন প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে। বাংলার সমাজ ইতিহাস পর্যালোচনায় এটি সুস্পষ্ট
যে, বর্তমান ভৌগোলিক সীমারেখা নিয়ে বাংলাদেশ নামক এ অঞ্চলের মানবগোষ্ঠীর কৃষ্টি, সংস্কৃতি,
ভাষা, সাহিত্য, ধর্ম, চিন্তা-চেতনা ইত্যাদি ইতিহাসের বিভিন্ন ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে
সংমিশ্রণ, সংযোজন, পরিবর্তন, পরিবর্ধন এবং সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে আজকের অবস্থানে উপনীত
হয়েছে। বস্তুত গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ এলাকায় বাঙালি বসবাস শুরু করে এ অঞ্চলে আর্যদের আগমনের
প্রায় পনেরোশ বছর আগে। দ্রাবিড় সভ্যতার অন্তর্ভুক্ত এ জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যের উৎসে ছিল
কৃষিভিত্তিক সংস্কৃতি। আর্যদের দখলে আসার পর রাজনীতি, ভাষা-সংস্কৃতি ইত্যাদির বিষয়ে
আর্য ও অনার্যদের মধ্যে সংঘাত শতাব্দীর পর শতাব্দী অব্যাহত থাকলেও দুর্গাচন্দ্র সান্যালের
ভাষায়, ‘বৈদিক যুগ থেকে আর্যরা অনার্য সভ্যতা গ্রহণ শুরু করে।’
মোহাম্মদ আবদুল
হাই তার সংকলিত ও সম্পাদনায় ‘বাঙালির ধর্মচিন্তা’ গ্রন্থের ভূমিকায় চমৎকারভাবে উল্লিখিত
বিষয়ের অবতারণায় উল্লেখ করেছেন, মোগল আমলের বাংলা সমাজ প্রধানত হিন্দু, মুসলমানÑ এ
দুটি সম্প্রদায়ে বিভক্ত ছিল। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অবস্থান তখন প্রায় অবলুপ্তির পথে ছিল।
বাঙালি সমাজের এ দুটি সম্প্রদায়ের পরস্পরবিরোধী মৌলিক আদর্শগত বিভাজনটি বিকশিত হয়েছিল
ধর্ম, দর্শন, আচার-আচরণ, নিরাকার-আকার, একেশ্বর ও বহুত্ত্ববাদ কেন্দ্র করে। এ বিভাজনই
প্রকৃতপক্ষে বিরোধ, বিদ্বেষ, হিংসা, প্রতিহিংসা ইত্যাদির জাঁতাকলে এ দুই সম্প্রদায়কে
আড়ষ্ট করে রেখেছিল। এ উভয় সম্প্রদায়ের সৃজনশীল গোষ্ঠী কেন জানি মনন-চিন্তনের বেড়াজালে
নিজেদের আবদ্ধ করে স্ব স্ব ধর্ম ও সমাজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে সচেষ্ট ছিল। মজার ব্যাপার
হচ্ছে, একদিকে ভীষণ ধরনের ব্যবধান সৃষ্টি হলেও প্রাত্যহিক সমাজজীবনের সহাবস্থান, শ্রেণিচরিত্র,
পারস্পরিক লেনদেন, আদানপ্রদান ইত্যাদি এ দুই সম্প্রদায়কে আবার প্রেম-প্রীতি, সৌহার্দ্য-সম্প্রীতির
অপরূপ মেলবন্ধনেও সমৃদ্ধ করেছে। এখানেই এ দুই সম্প্রদায়ের এক অভিনব বৈশিষ্ট্য ভিন্নমাত্রায়
প্রবাহিত ছিল।
অসাম্প্রদায়িকতা
বা ধর্মনিরপেক্ষতা শব্দটি বর্তমানে বিপুলভাবে প্রচলিত। ১৮০২ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের
প্রেসিডেন্ট থমাস জেফারসন ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের নীতির ব্যাখ্যা দিয়ে যে চিঠিটি ডানবুরি
ব্যাপ্টিসদের কাছে লিখেছিলেন তারই ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা
প্রতিষ্ঠা করে প্রথম সংশোধন করা হয়। এ ধর্মনিরপেক্ষাতাবাদের সূচনাপাঠ হয়েছিল ১৭৭৯ খ্রিস্টাব্দে
ফরাসি বিপ্লবের বিজয়গাথায়। ১৮৪৬ সালে ভাষা ও সাহিত্যে এ ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ সর্বপ্রথম
ব্যবহার করেন ব্রিটিশ লেখক জর্জ জ্যাকব হলিওয়েফ। এর ১০০ বছর পর ১৯৪৬ সালে এ উপমহাদেশে
ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ শব্দটি রাষ্ট্রচিন্তায় প্রথম ব্যবহার করেন জওহরলাল নেহরু। যদিও ভারত
বিভাগের আগে ও পরে মহাত্মা গান্ধী এ প্রত্যয়টির ব্যবহার শুরু করেন।
আমাদের দেশে যে বিষয়টি সমধিক বিবেচ্য তা বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় পরিপুষ্ট। গণতান্ত্রিক-অসাম্প্রদায়িক-মানবিক চিন্তা-চেতনার ধারণ কোনোভাবেই ব্যক্তি, সমাজ বা রাষ্ট্র থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। ব্যক্তির মানসিক ও সামাজিক গঠন তার জন্মগত ধর্ম কেন্দ্র করেই আবর্তিত। কীভাবে তার এ বিশ্বাসের ক্ষেত্রটি লালন করবে এবং তার যথাযথ অনুশীলনের জন্য অন্যের কাছে অপ্রিয় হবে না বা একইভাবে অন্য ব্যক্তিও তার এ বিশ্বাস অনুশীলনে কোনো বাধার কারণ হবে না সেটিই মূলত অসাম্প্রদায়িক ধর্ম-সমাজ চিন্তার নির্যাস। নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তা যেন সব নাগরিকের বোধে প্রোথিত থাকে, সামগ্রিক বিবেচনায় এটিই প্রত্যাশিত।