× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পরিপ্রেক্ষিত

পরিবেশের চিহ্নিত শত্রু

মাহবুবউদ্দিন চৌধুরী

প্রকাশ : ১২ নভেম্বর ২০২৪ ০৮:০৯ এএম

পরিবেশের চিহ্নিত শত্রু

১ নভেম্বর থেকে সারা দেশে কাঁচাবাজারসহ সকল প্রকার মার্কেট ও দোকানে পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ করেছে অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়। সব ধরনের পলিথিন ব্যবহার সহজলভ্য হওয়ায় পরিবেশবান্ধব না হলেও এর ব্যবহার জনপ্রিয়। ফলে দিনদিন বেড়েছে পলিথিনের ব্যবহার; যা আইন করেও রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। বস্তুত বিকল্প ব্যবস্থা না করে পলিথিনের ব্যবহার কমানো কঠিন। বেশিরভাগ পলিথিন ব্যবহার হয় কাঁচাবাজার, সুপার শপ, ফলের দোকান, খাবারের হোটেল, রেস্টুরেন্ট, মাছ-মাংস-মুদি এবং ফুটপাতে বিক্রেতাদের ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোয়।

তবে যেকোনো উপায়ে পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ করতেই হবে। পলিথিন আমাদের পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি করে। সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর পরিবেশের জন্য পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ করা আমাদের জন্য খুবই জরুরি। সে ক্ষেত্রে প্রচারের যথেষ্ট প্রয়োজন রয়েছে। পলিথিনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঢিলেমির অভিযোগ যথেষ্ট। এর আগেও এ ধরনের পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, যা কোনো কাজে আসেনি। পলিথিনের ব্যবহারের পর এর ঠাঁই হচ্ছে ময়লার স্তূপ, নিকাশি ড্রেন, নর্দমা, পুকুর, নদী-নালা ইত্যাদি। পরিণামে ভেঙে পড়ছে ড্রেন-নর্দমাগুলো। অথচ পরিবেশ রক্ষায় সাধারণ নাগরিকেরও দায়িত্ব কম নয়। সে ক্ষেত্রে পলিথিন বা প্লাস্টিক ব্যাগের নিয়ন্ত্রণে তারাই বা সচেতন হচ্ছেন না কেন? এ নিয়ে প্রশাসনের উদাসীনতা, উপযুক্ত প্রচার না হওয়া এবং জরিমানা নিয়ে আরও কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়াকেই দায়ী করছে সচেতন নাগরিক সমাজ। তবে পলিথিন উৎপাদন বন্ধ করতে না পারলে ঘন ঘন নিষেধাজ্ঞা দিয়ে লাভ হবে না।

বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন এনজিওর তথ্যানুযায়ী দেশে ৩ থেকে ৪ হাজার পলিথিনের কারখানা রয়েছে; যার বেশিরভাগ পুরান ঢাকায় অবস্থিত। প্লাস্টিক দূষণ ছাড়াও আছে যত্রতত্র আবর্জনার স্তূপ, যেখানে গৃহস্থালি বর্জ্য ছাড়াও নিশ্চিন্তে ফেলা হচ্ছে চিকিৎসাসংক্রান্ত বর্জ্য; যা পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক। এতে নগরবাসী আতঙ্কিত ও উদ্বিগ্ন। বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগসহ সব নদীতে শহর, বন্দর ও শিল্পকারখানার বর্জ্য ফেলে নদী ও শহর দূষিত করা হচ্ছে; যা দেখার কেউ নেই। ইউএনইপি প্রকাশিত আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী ৫০০ মিলিয়ন টনের বেশি প্লাস্টিক উৎপাদিত হয়, যার অর্ধেক একবার ব্যবহার করে ফেলে দেওয়া হয়। সারা বিশ্বে বছরে আনুমানিক ১৯-২৩ মিলিয়ন টন পলিথিন ও প্লাস্টিকের বর্জ্য হ্রদ, নদী, সাগর এবং সমুদ্রে মিশে যায়; যা প্রায় ২ হাজার ২০০ আইফেল টাওয়ারের ওজনের সমান। উল্লেখ্য, আইফেল টাওয়ারের মোট ওজন ১০ হাজার ১০০ টন।

দেরিতে হলেও সরকার পলিথিনের ব্যবহার পুনরায় নিষিদ্ধ করেছে, সেটা ভালো। তবে প্লাস্টিক-পলিথিনের উৎপাদন আগে বন্ধ করা উচিত। এ ছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পলিথিনের কাঁচামাল আমদানির সুযোগ করে দিচ্ছে এটা আগে বন্ধ করতে হবে। যদি পলিথিন-প্লাস্টিক ফ্যাক্টরি বন্ধ করা না হয় তাহলে অযথা বাজারে অভিযান চালিয়ে লাভ কী? আইন নয়, প্রচার ও সচেতনতাই একমাত্র এর সুফলতা বয়ে আনতে পারে বলে বিশেষজ্ঞ মত। আমাদের দেশে নীতি ও আইন প্রণয়নের চর্চা থাকলেও সেসবের কার্যকর প্রয়োগ এখনও অপ্রতুল। সরকারের কার্যকর প্রবিধান ও প্রয়োগের উদ্যোগ ছাড়াও ব্যক্তি, গোষ্ঠী, ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সচেতনতাও এ সমস্যা মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। আসুন আমরা সবাই মিলে প্লাস্টিক-পলিথিনের দূষণের সমাধানে শামিল হই এবং এ সুন্দর পৃথিবীর ভবিষ্যৎ প্রজন্ম রক্ষায় সবাই মিলে করি পণ, বন্ধ হবে প্লাস্টিক-পলিথিনের দূষণ।

  • সংবাদমাধ্যমকর্মী
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা